ঢাকা, বুধবার 18 June 2014 ৪ আষাঢ় ১৪২১, ১৯ শাবান ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

ইউনুচ হত্যার পর এবার এক গাড়িচালককে অপহরণ আতঙ্কের অঞ্চল এখন ফটিকছড়ি

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি থেকে : ফটিকছড়িতে একমাসের ব্যবধানে পাহাড়ি সন্ত্রাসী কর্তৃক আবারো বাঙালি ড্রাইভার অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের পর ১১ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো উদ্ধার করা যায়নি অপহৃত ড্রাইভার মাহবুবকে (২৬)। তার ভাগ্যে কি ঘটেছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এখনো। গত এপ্রিল মাসে অপহরণের দুদিন পর লাশ পাওয়া যায় ব্যবসায়ী ইউনুচের। এ ছাড়া গত বছরের ডিসম্বের মাসে অপহরণ করা হয় ব্যবসায়ী আহমদ ছাফাকে। মুক্তিপণের বিনিময়ে একমাস পর ছাড়া পান তিনি। এদিকে পাহাড়ি সন্ত্রাসী ইউপিডিএফ এক চাঁদের গাড়ি চালককে গাড়িসহ অপহরণ করে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। গত ২০ মে মঙ্গলবার তাকে অপহরণ করা হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও কাঠ ব্যবসায়ীরা দফায় দফায় চেষ্টা চালিয়েও তাকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার ১১দিন পরও ফটিকছড়ি থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২০ মে মঙ্গলবার নানুপুর-লেলাং ইউনিয়নের দুর্গম লামাছড়ি-দুইদ্যা খোলা এলাকায় চাঁদের গাড়ি নিয়ে কাঠ আনতে যায় মাহবুব ড্রাইভার (২৬)। সে নানুপুর গামরীতলা মল্লার মসজিদ ভিটা গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আজমের পুত্র।

এ সময় ইউপিডিএফের ২০/২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল চাঁদের গাড়িসহ (চট্টমেট্রো-২১১৫) তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ওসমান গণি বাবু ও কাঠ ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য স্থানে যোগাযোগ করলে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে ৪ লাখ টাকা দাবি করেন। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা জানান, খিরাম সেনা ক্যাম্প, ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ইউপিডিএফ-জেএসএসের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ গাড়ি প্রতি চাঁদা নেয়। গোপন একটি সূত্র জানায়, ইউপিডিএফ অধ্যুষিত এই এলাকাটি জেএসএস দখল নিতে মরিয়া দীর্ঘদিন যাবত। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের এই দুটি গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের শক্তির মহড়ায় বলি হচ্ছে নিরীহ বাঙালিরা। ইউপিডিএফের বার্মাছড়ি এলাকার সামরিক প্রধান সমীর মারমার সেকেন্ড ইন কমান্ড পরথ চাকমার নেতৃত্বে চলছে এসব অপহরণ আর হত্যাকা-ের ঘটনা। স্থানীয় নানুপুর ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ ওসমান গনি বাবু জানান, মাহবুব ড্রাইভারকে ছাড়িয়ে আনতে কাঠ ব্যবসায়ীরা সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রশাসনের কঠোর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা।

খিরাম এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে ইউপিডিএফ ব্যবসায়ী আহমদ ছাপাকে অপহরণ করে। তখন এই এলাকার ২১০ জন বাঙালির একটি তালিকা করে ইউপিডিএফ। ইউপিডিএফের অভিযোগ যারা তালিকায় আছে তারা সবাই জেএসএস ও সেনা বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করে। ইউপিডিএফের বিরোধী কাজ করায় তাদের শাস্তি পেতে হবে। বর্তমানে মুঠোফোনে অনেককে হুমকি দেয়া হচ্ছে। অপর একটি সূত্র জানায়, দুইদ্যা খোলা, লম্বা টিলা এলাকায় শতাধিক এবং সুলতান নগর, রক্তছড়ি এলাকায় শতাধিক অস্ত্রধারী ইউপিডিএফের ক্যাডার অবস্থান করছে বর্তমানে। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ এ ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেনি।

একর পর এক অপহরণ আর হত্যাকা-ের ঘটনায় পুরো এলাকা এখন জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে। স্কুলগুলোতে বিরাজ করছে বাঙালি ছাত্র শূন্যতা। স্থানীয় বাজারে আসছে না কোনো লোকজন। কখন কাকে অপহরণ করা হয় সব সময় আতঙ্ক সাধারণ মানুষের মনে। এ ব্যাপারে খিরাম সেনা ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. দুলাল মিয়া জানান, নতুন করে অপহরণের কোনো খবর কেউ দেয়নি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) কাছ থেকে যেহেতু শুনেছি, খোঁজ নেবো। সহকারী পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আ ফ ম নিজাম উদ্দিন বলেন, ফটিকছড়ির কোনো অপহরণ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি আমাকে জানায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ