ঢাকা, বুধবার 18 June 2014 ৪ আষাঢ় ১৪২১, ১৯ শাবান ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

নাগাদ প্রতিবছর ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে

চট্টগ্রাম অফিস : ইকো-ফ্রেন্ডস, সানশাইন ফ্যামিলি ও তেজষ্ক্রিয়তা ঝুঁকি প্রশমন জাতীয় ফোরামের সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, পৃথিবীর অনেক নিম্নঅঞ্চল তলিয়ে যাবে যার ফলে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতিবছর ৫ লাখ মানুষ প্রাণ হারাবে এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। জনসাধারণ জলবায়ু উদ্বাস্তু হবে এবং অনিমগ্ন অংশের ওপর জনসংখ্যার চাপ বাড়তে বাড়তে অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন কল্পে ৪ জুন বুধবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম নগরীর কারিতাস মিলনায়তনে পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ইকো-ফ্রেন্ডস, সানশাইন ফ্যামিলি ও তেজক্রিয়তা ঝুঁকি প্রশমন জাতীয় ফোরাম-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এক সেমিনার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. সুলতানুল আলমের সভাপতিত্বে ও ইকো ফ্রেন্ডসের সভাপতি উত্তম কুমার আচার্য্যরে সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ‘অনিয়ন্ত্রিত তেজষ্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে পরিবেশ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের পরিচালক মাসুদ কামাল এবং ‘দ্বীপাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব : প্রেক্ষিত বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইকো ফ্রেন্ডসের সাধারণ সম্পাদক নোমান উল্লাহ বাহার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন পরিবেশ অধিদফতর, চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক জাফর আলম, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ড. সাজিদ হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম, কারিতাস-চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক জেমস গোমেজ, গ্লোবাল সানশাইন ফ্যামিলির সভাপতি ফরিদ আলম, তেজষ্ক্রিয়তা ঝুঁকি প্রশমন জাতীয় ফোরাম বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক খন রঞ্জন রায় প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী বিপুল উদ্দীপনা নিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০১৪ পালিত হচ্ছে উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রসমূহের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে তুলে ধরার মাধ্যমে। পৃথিবীর তিন চতুর্থাংশ জল সেহেতু অবশিষ্ট এক চতুর্থাংশ স্থলভাগ যাতে বিশ্বের সবকটি দেশ অবস্থিত, তা মূলত কতক দ্বীপের সমষ্টি। এ বিশাল দ্বীপপুঞ্জের মানববসতি প্রধানত উপকূলকেন্দ্রিক। কোনো না কোনো জলভাগের নিকটবর্তী এলাকায় মানববসতি গড়ে ওঠেছে অত্যন্ত ঘনভাবে বিশেষত নিরক্ষীয় ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের উপকূলসমূহে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ এবং ক্ষুদ্র দ্বীপগুলো আজ অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছে। ধারাবাহিকভাবে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়েই চলেছে। গত ১০০ বছরে এ উচ্চতা বেড়েছে ১৫ সে.মি. থেকে ২৫ সে.মি. পর্যন্ত। এ বৃদ্ধির হার গত ৩০০ বছরের তুলনায় ১০ গুণ। আগামী শতকে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বছরে ৩০ থেকে ৪০ সে.মি. বাড়বে। উপকূলীয় ১৩ জেলার ৬৩ উপজেলা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে আছে। এ ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৩ জেলার ৬৩ উপজেলার ১৩৭টি চর, দ্বীপ ও উপকূলীয় অঞ্চলের ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার একরেরও বেশি জমি তলিয়ে যাবে, যা মোট জমির ১৫.৮ শতাংশ। সেন্টমার্টিনস দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবার পথে। দ্বীপসমূহ থেকে মূল ভূখ-ে মানুষের স্রোত ক্রমে বাড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। তাই আর নীরব থাকলে চলবে না। সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

সভায় বক্তারা ক্ষতিপয় করণীয় নির্ধারণ করেন। যেমনÑ দ্রুত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার বৃদ্ধি করা, জীবাশ্ম জ্বালানি ও উদ্ভিজ্জ জ্বালানি পরিহার, প্রাকৃতিক সম্পদের আহরণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োগ, উষ্ণায়নের জন্য দায়ী গ্যাস নিঃসরণ বন্ধ করা ও অনিয়ন্ত্রিত তেজষ্ক্রিয়তা রোধ করা, বনায়ন বৃদ্ধি ও বন নিধন বন্ধ করন। পাহাড় কর্তন রোধ,  বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ বন্ধ করা, পুকুর, জলাশয়, খাল-নদী ভরাট বন্ধ করা, দ্বীপসমূহে আবাসন নীতিমালার সঠিক প্রয়োগ এবং দ্বীপসমূহ থেকে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধ করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ নগরায়ন নিশ্চিত করণ, অপরিকল্পিত ভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন বন্ধ করা, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত বিশ্ব যাতে গ্রিন হাউস গ্যাস/কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনে সে ব্যাপারে বিশ্বজনমত গঠন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ভুক্তভোগী উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানে উন্নত দেশগুলোকে সামনে আনা, পরিবেশ সংগঠন, সরকারি ও বেসরকারি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক কর্মসমন্বয়, আন্তঃদেশীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও একসাথে আওয়াজ তোলা প্রভৃতি। অন্যথায়, উন্নত বিশ্বও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে না। বক্তারা আরো বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ দ্বারা বিকরিত হচ্ছি। প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্টি এই দু-ধরনের বিকিরণ থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। তেজষ্ক্রিয়তা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য অখঅজঅ (অং খড়ি অং জবংড়হধনষু অপযরবাধনষব) নীতি অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হিসেবে নিতে হবে সময়, দূরত্ব এবং সিল্ডিং।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ