ঢাকা, বুধবার 18 June 2014 ৪ আষাঢ় ১৪২১, ১৯ শাবান ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

মহাজোট সরকারের বিলাসী বাজেট

জিবলু রহমান : বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৯৭২ সালে প্রথম বাজেট প্রণীত হয়। ১৯৭২ সালের বাজেট তৈরিতে এনবিআর-এর সাত জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে শাহ আবদুল হান্নান, আবু হোসেন (এনবিআর-এর প্রথম সচিব), এস.এ. আকরাম (এমপি এবং সংসদীয় অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন), আলী আহমদ (কাস্টমসের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন), সদস্য পর্যায়ে ওয়ালিউল ইসলাম, চেয়ারম্যান পদে জনাব নূরুল ইসলাম এবং কফিল উদ্দিন মাহমুদ-এরা জড়িত ছিলেন। ১৯৭২ সালের ৩০ জুন দেশের প্রথম অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ বাজেট পেশ করেন। দেশের প্রথম বাজেটের ৭শ’ ৮৬ কোটি টাকার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২শ’ ৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রাজস্ব ব্যয় ধরা হয় ২শ’ ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৫শ’ ১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

১৯৭২ সালের বাজেটের সময় দেশের অর্থনীতি যুদ্ধ ও অন্যান্য কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিধ্বস্ত ছিল। দেশের ওপর দিয়ে একটি যুদ্ধ মাত্র পার হয়েছে। অনেক কিছুই ধ্বংসপ্রাপ্ত। সে রকম একটি দেশকে গড়ে তোলা ছিল খুবই কঠিন কাজ। সেখানে ব্যয়ের প্রয়োজন ছিল অনেক, তাই আয়েরও প্রয়োজন ছিল অনেক। কিন্তু সে রকম আয়ের রাস্তা ছিল না। শিল্পগুলো বসে গেছে। আমদানি করার মতো কোনো ফরেন এক্সচেঞ্জ নেই। বিদেশ থেকে রিলিফ হিসেবে যে সব পণ্য এসেছে সেগুলোতে ট্যাক্স আরোপ করা যায় না। সঙ্গত কারণেই সেই বাজেট প্রণয়ন অত্যন্ত কঠিন ছিল। সেই বাজেটের সাইজ ছিল চারশ’ কোটি টাকার মত। তখন কাস্টমস ডিউটি, একসাইজ ডিউটি, ইনকাম ট্যাক্স ছিল। কাস্টমস ডিউটিতে মোট আয় ধরা হয়েছিল মাত্র দেড়শ’ কোটি টাকা। বাকিটা যা কিছু সামান্য শিল্প ছিল তা থেকে আসবে। আমদানির সাথে একটা সেলস ট্যাক্স ছিল তা থেকে কিছু আসবে। আর কিছু আসবে ইনকাম ট্যাক্স থেকে। সে সময় সবারই আয় ছিল খুব কম।

১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটি বাজেট প্রণয়নে একটি ইস্যু ছিল রিলিফের বিষয়টিকে দেখা। বাংলাদেশ হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি মানবিক ইস্যু হিসেবে গণ্য হয় এবং সারা বিশ্ব থেকেই রিলিফ আসতে থাকে। দুধ, টিন, কাপড়, ওষুধ, কম্বলসহ শত ধরনের পণ্য আসতে থাকে। এখানে প্রশ্ন ছিল এসব পণ্যের মধ্যে কোনটাকে রিলিফ পণ্য হিসেবে গণ্য করা হবে আর কোনটাকে করা হবে না। তখন সব পণ্যের ট্যাক্স মাফ করে দেবার জন্য বলা হলো। স্বাভাবিকভাবেই রিলিফের ওপর ট্যাক্স মওকুফের প্রশ্ন ছিল। একটা প্রশ্ন ছিল রিলিফ যদি কোনো এনজিও নিয়ে আসে তাহলে তারা কেন ট্যাক্স দেবে? এনজিওগুলোতে এমনিতেই দান করে। তাদের লোকবল দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। তাই সে ক্ষেত্রে তাদের ট্যাক্স মওকুফ করা হয়।

এরপর দেশের দ্বিতীয় বাজেট অর্থ্যাৎ ১৯৭৩-’৭৪ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৯শ’ ৯৫ কোটি টাকার। ১৯৭৩ সালের ২০ জুন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। এ বাজেটে রাজস্ব আয় দেখানো হয় ৫শ’ ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। আর উন্নয়ন ও পুনর্বাসন খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৫শ’ ২৫ কোটি টাকা।

১৯৭৪ সালের ১৯ জুন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ ’৭৪-৭৫ অর্থ বছরের জন্য ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের তৃতীয় বাজেট। এ বাজেটে রাজস্ব আয় দেখানো হয় ৫শ’ ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৫শ’ ২৫ কোটি টাকা।

দেশের চতুর্থ বাজেট পেশ করা হয় ১৯৭৫ সালের ২৩ জুন। সে সময় দেশে একদলীয় বাকশাল প্রবর্তন করা হয়। ওই একদলীয় সরকারের অর্থমন্ত্রী ড. আজিজুর রহমান ১৯৭৫-৭৬ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৫শ’ ৪৯ কোটি ১৯ লাখ টাকার বাজেট পেশ করেন। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৭শ’ ৫৫ কোটি টাকা ৩৮ লাখ টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ৯শ’ ৫০ কোটি টাকা।

১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন সেনাবাহিনীর প্রধান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং ভারপ্রাপ্ত অর্থ উপদেষ্টা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ১৯৭৬ সালের ২৬ জুন বঙ্গভবনে তিনি মোট ১ হাজার ৯শ’ ৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৯শ’ ৬৬ কোটি টাকা। উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ১ হাজার ২শ’ ২২ কোটি টাকা। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ৫ম তম বাজেট।

১৯৭৭-’৭৮ অর্থ বছরের জন্য ২ হাজার ১শ’ ৮৪ কোটি টাকার ৬ষ্ঠ বাজেট ঘোষণা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ১৯৭৭ সালের ২৫ জুন বঙ্গভবনে এ বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ১শ’ ৫৬ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ২শ’ ৭৮ কোটি টাকা। এ বাজেটে প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছিল শতকরা ৭ ভাগ।

১৯৭৮ সালের ৩০ জুন ১৯৭৮-’৭৯ অর্থ বছরের বাজেট পেশ করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের ৭ম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২ হাজার ৪শ’ ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩শ’ ৭৬ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১ হাজার ৪শ’ ৪৬ কোটি টাকা।

দেশের অষ্টম বাজেট পেশ করা হয় ১৯৭৯ সালের ২ জুন। অর্থমন্ত্রী ড. এম.এন. হুদা ’৭৯-৮০ অর্থ বছরের জন্য জাতীয় সংসদে ৩ হাজার ৩শ’ ১৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছিলেন। এ বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮শ’ ২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২ হাজার ১শ’ ২৩ কোটি টাকা।

১৯৮০-’৮১ অর্থ বছরের এবং দেশের নবম বাজেট পেশ করেন জিয়াউর রহমান সরকারের পরবর্তী অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ১৯৮০ সালের ৭ জুন পেশ করা হয়। এ বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার ১শ’ ৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ২শ’ ৯৩ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা।

১৯৮১-’৮২ অর্থ বছরের এবং দেশের দশম বাজেটও পেশ করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ১৯৮১ সালের ৬ জুন জাতীয় সংসদে তিনি ৪ হাজার ৬শ’ ৭৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এর মধ্যে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৭শ’ ৬৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ১৫ কোটি টাকা।

১৯৮২-’৮৩ অর্থ বছরের এবং দেশের ১১তম বাজেট পেশ করেন প্রেসিডেন্ট সাত্তারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় আসা লে. জেনারেল এরশাদের প্রথম অর্থমন্ত্রী এ.এম.এ মুহিত। ১৯৮২ সালের ৩০ জুন তিনি বেতার, টেলিভিশনে আলোচ্য অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৭শ’ ৩৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬শ’ ৩৮ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। ১৯৮৩-’৮৪ অর্থবছরের এবং দেশের ১২তম বাজেট পেশ করেন এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী এম.এ. মুহিত। ১৯৮৩ সালের ৩০ জুন পুরাতন সংসদ ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি আলোচ্য অর্থ বছরের জন্য ৫ হাজার ৮শ’ ৯৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এ বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৩শ’ ৪৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ৪শ’ ৮৩ কোটি টাকা। ১৯৮৪-৮৫ অর্থ বছরে দেশের ১৩তম বাজেট বেতার-টেলিভিশনের মাধ্যমে পেশ করেন এরশাদ সরকারের প্রধান অর্থসচিব এবং অর্থ উপদেষ্টা এ সাইদুজ্জামান। তিনি আলোচ্য অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ৬শ’ ৯৯ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এ বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৪শ’ ৬৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ৮শ’ ৯৬ কোটি টাকা।

১৯৮৫-’৮৬ অর্থ বছরের এবং ১৪তম বাজেটও পেশ করেন এরশাদ সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এম সাইদুজ্জামান। তিনি আলোচ্য অর্থ বছরের জন্য ৭ হাজার ১শ’ ৩৮ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এ বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৭শ’ ৪৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩ হাজার ৮শ’ ২৫ কোটি টাকা।

১৯৮৬-৮৭ অর্থ বছরে এবং দেশের ১৫তম বাজেট পেশ করেন এরশাদের অর্থমন্ত্রী সাইদুজ্জামান। পুরাতন সংসদ ভবনের এরশাদের সভাপতিত্বে বিশেষ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ৮ হাজার ৫শ’ ৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। এতে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৪শ’ ৬৮ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪ হাজার ৭শ’ ৬৪ কোটি টাকা।

১৯৮৭-’৮৮ অর্থ বছরের এবং দেশের ১৬তম বাজেটও পেশ করেন অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান। ১৯৮৭ সালের ১৮ জুন জাতীয় সংসদে তিনি আলোচ্য অর্থবছরের জন্য ৯ হাজার ৫শ’ ২৭ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯শ’ ১৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫ হাজার ৪৬ কোটি টাকা।

১৯৮৮-৮৯ অর্থ বছরের এবং দেশের ১৭তম বাজেট পেশ করেন এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মুনিম। ১৯৮৮ সালের ১৬ জুন তিনি জাতীয় সংসদে আলোচ্য অর্থ বছরের জন্য ১০ কোটি ৫শ’ ৬৫ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৫ হাজার ৫শ’ ৬৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫ হাজার ৩শ’ ১৫ কোটি টাকা।

১৯৮৯-৯০ অর্থ বছরের এবং দেশের ১৮ তম বাজেট পেশ করেন এরশাদ সরকারের অর্থমন্ত্রী  ড. ওয়াহিদুল হক। তিনি ১৯৮৯ সালের ১৫ জুন জাতীয় সংসদে আলোচ্য অর্থ বছরের জন্য ১২ হাজার ৭শ’ ৩ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ১শ’ ৮০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫ হাজার ৮শ’ ৩ কোটি টাকা। ১৯৯০-’৯১ অর্থবছরের এবং দেশের ১৯তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ৯শ’ ৬০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী মেজর জেনারেল (অবঃ) এম.এ. মুনিম ১৯৯০ সালের ১৪ জুন সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ৫শ’ ৬২ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫ হাজার ৬শ’ ৬৮ কোটি টাকা।

১৯৯১-’৯২ অর্থ বছরের এবং দেশের ২০তম বাজেট পেশ করেন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। ১৯৯১ সালের ১২ জুন সংসদে তিনি আলোচ্য অর্থবছরের জন্য ১৫ হাজার ৫শ’ ৮৪ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৮ হাজার ৫শ’ ৩ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা।

১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরের এবং দেশের ২১তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৭ হাজার ৬শ’ ৭ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ১৯৯২ সালের ১৮ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১০ হাজার ৫শ’ ৫৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৯ হাজার ৫৭ কোটি টাকা।

১৯৯৩-৯৪ অর্থ বছরের এবং দেশের ২২তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৯ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ১৯৯৩ সালের ১৮ জুন তিনি জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। এই বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৩শ’ ৩৫ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৯ হাজার ৭শ’ ৫০ কোটি টাকা।

১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরের এবং দেশের ২৩তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২০ হাজার ৯শ’ ৪৮ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ১৯৯৪ সালের ৯ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬শ’ ৩৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১১ হাজার কোটি টাকা।

১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরের এবং দেশের ২৪তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৩ হাজার ১শ’ ৭০ কোটি টাকা। এ বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৫ হাজার ৪শ’ ৫০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ১শ’ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ১৯৯৫ সালের ১৫ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন।

১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরের এবং দেশের ২৫তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৪ হাজার ৬শ’ ৩ কোটি টাকা। ১৯৯৬-এর ২৮ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থমন্ত্রী শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ১শ’ ২০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা।

এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ ১৯৯৬ সালের ২০ জুন ১৯৯৬-’৯৭ অর্থবছরের অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ১শ’ ২০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা।

১৯৯৭-’৯৮ অর্থ বছরের এবং দেশের ২৬তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৭ হাজার ৭শ’ ৮৬ কোটি টাকা। ১৯৯৭ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের অর্থমন্ত্রী শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৯ হাজার ৬শ’ ২৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা।

১৯৯৮-’৯৯ অর্থ বছরের এবং দেশের ২৭তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৯ হাজার ৫শ’ ৩৭ কোটি টাকা। শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া ১৯৯৮ সালের ১২ জুন সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৬শ’ ১৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা।

১৯৯৯-২০০০ অর্থ বছরের এবং দেশের ৩০তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩৪ হাজার ২শ’ ৯২ কোটি টাকা। শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া ১৯৯৯ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২৪ হাজার ১শ’ ৫১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১২ হাজার ৪শ’ ৭৭ কোটি টাকা।

২০০০-’০১ অর্থ বছরের এবং দেশের ৩১তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৩৮ হাজার ৫শ’ ২৪ কোটি টাকা। শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া ২০০০ সালের ৮ জুন সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২৪ হাজার ১শ’ ৯৮ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা।

২০০১-’০২ অর্থ বছরের এবং দেশের ৩২তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪২ হাজার ৩শ’ ৬ কোটি টাকা। শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া ২০০১ সালের ৭ জুন সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার ২শ’ ৩৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা।

২০০২-’০৩ অর্থ বছরের এবং দেশের ৩৩ তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৪৪ হাজার ৮শ’ ৫৪ কোটি টাকা। ২০০২ সালের ৬ জুন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৮৪ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১৯ হাজার ২শ’ কোটি টাকা।

২০০৩-০৪ অর্থ বছরের এবং দেশের ৩৪ তম বাজেটে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৫১ হাজার ৯শ’ ৮০ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ২০০৩ সালের ১২ জুন সংসদে এ বাজেট পেশ করেন। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৩৬ হাজার ১শ’ ৭১ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হযেছিল ২০ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা। ২০০৪-০৫ চলতি অর্থ বছরের জন্য ২০০৪ সালের ১০ জুন ৫৭ হাজার ২শ’ ৪৮ কোটি টাকার ৩৫তম বাজেট পেশ করা হয়। ৯ জুন ২০০৫ সংসদে ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে বাজেট পেশ করা হয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ৩৬তম বাজেট।

২০০৬-০৭ অর্থ বছরে এম সাইফুর রহমান ৬৯ হাজার ৭শ’ ৪০ কোটি টাকার বাজেট দেয়ার পর ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা আজিজুল ইসলাম ৯৯,৯৬২ কোটি টাকার বাজেট দেন।

২০০৮ সালে গঠিত মহাজোট সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আবুল মাল আব্দুল মুহিত। দায়িত্ব নিয়ে লাখো কোটি টাকার বাজেট দেন তিনি। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে পেশ করা বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার, ২০১০-১১ অর্থ বছরে আকার ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থ বছরে বাজেটের আকার ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে, যার আকার ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার। আর ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে মুহিতের পেশ করা বাজেটের আকার ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার।

২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেটে রয়েছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বাড়ানো হয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের আওতা। একই সঙ্গে করের হার। বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে দেয়া হচ্ছে কর ছাড়। এতে উদ্যোক্তা শ্রেণী কিছুটা খুশি। তবে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে। উচ্চ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় আয়ের চেয়ে ব্যয়ে অনেক বেশি বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আশাবাদ ব্যক্ত করতে তিনি কখনোই কার্পণ্য করেন না। তবে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার এ বাজেটে তিনি সাধারণ মানুষকে আশার আলো কতটা দেখাতে পারবেন-সেটাই প্রশ্ন। বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ২৮ হাজার ১৫ কোটি টাকা বেশি। ঘাটতি হবে ৬৭ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

অর্থমন্ত্রী ১৬৩ পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতায় সূচনা ও প্রেক্ষাপট দিয়ে শুরু করেন। বক্তৃতায় তিনি বিগত ৫ বছরের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরেন। তবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাজেট সংশোধনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতায় সরকারের কর রাজস্ব সংগ্রহের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে, তা তিনি অকপটে স্বীকার করেন। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ