ঢাকা, মঙ্গলবার 16 September 2014 ১ আশ্বিন ১৪২১, ২০ জ্বিলকদ ১৪৩৫ হিজরী
Online Edition

যাদের চুরি বন্ধ করার তারাই চোর

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : ১৯৮৫ থেকে ২০১৪। ২৮ বছরের একটি দীর্ঘ সময়কাল। পুরো এই সময়টাই বাংলাদেশজুড়ে বেশ আলোচিত ছিলেন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা। যার কর্মজীবনের শুরুটা হয়েছিল নানা বিতর্কের মধ্যে। শেষটাতেও বিতর্ক এড়াতে পারলেন না। লোভের আগুনে পুড়েছে তার সেবার মনন দেশ ও দশের চিন্তা না করেই তিনি নিজের চিন্তায় ছিলেন মশগুল। যার পরিণতি আজ চাকুরী জীবনের শেষ বেলায় এসে তার সকল কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দুকে বিদীর্ণ করেছে। প্রভাব এবং প্রতাপ, দুর্নীতি আর জালিয়াতি কোনটারই অভাব ছিল না তার। শুধু অভাব ছিল একজন মুক্তিযোদ্ধার খেতাব। সেই খেতাব অর্জন করতে গিয়ে তিনি আজ রিক্তের পথে। সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত এই ক্ষমতাধর কর্মকর্তাটি হচ্ছেন সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান।
১৯৮৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই আলোচিত-সমালোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফের খবরের শিরোনামে। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। ১৯৮৫ সালে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন দেশের কোরআন প্রেমিক জনতার উপর গুলী চালানোর নির্দেশ দিয়ে। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও বহাল তবিয়তেই ছিলেন তিনি। প্রায় তিন দশক পর আবারো সংবাদের শিরোনামে আসলেন যুদ্ধ না করেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সনদ গ্রহণ করে। সে কারণে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে নিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
শুধু একজন মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানই নন। জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়েছেন আরও বেশ কজন প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি। যাদের উদ্দেশ্য সৎ ছিল না বলে এখন প্রমাণিত হয়েছে। ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করতেই তারা দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন।
আগের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে যারা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে চাকরি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন সাবেক এক আমলা এবং একজন সিনিয়র আইনজীবী। দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এ ধরনের জালিয়াতি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রশাসনকে বিতর্কিত করে তুলবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
সম্প্রতি পাঁচজন সচিব অবৈধ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক তদন্তে বেরিয়ে আসার পর তাদের সনদ বাতিলের সুপারিশ করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। সেই সুপারিশ মেনে গত রোববার চার সচিব ও এক যুগ্ম-সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।এই পাঁচ কর্মকর্তা হলেন স্বাস্থ্য সচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান (বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান), মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী (বর্তমানে ওএসডি) এবং একই মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (ওএসডি) আবুল কাসেম তালুকদার।
এদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান গতকাল রোববার গনমাধ্যমকে বলেন, “এটা অনৈতিক। শুধু সনদ বাতিল নয়, এই মুহূর্ত থেকে এই পাঁচজনকে কোনো চাকরিতে রাখা উচিত নয়। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গেলে অনেক সময় লাগবে বলে জানেন দীর্ঘদিন প্রশাসনের শীর্ষস্তরে দায়িত্ব পালন করে আসা আকবর আলি।” সেটা চলবে। কিন্তু যেহেতু তারা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখিয়ে চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে প্রতারণা করেছে। সে কারণে এটা ফৌজদারি অপরাধ। এদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে,” ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এই ঘটনা শুনে যারপরনাই হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।” কী আর বলব- এই ঘটনার পর আমাদের আসলে সবার গলায় দড়ি দেয়া উচিত।” “আমাদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আমলারা যদি এই ধরনের কাজ করে তাহলে সাধারণ লোকেরা কী করবে বলেন,” প্রশ্ন করেন তিনি। “মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লোকেরাও এটা করেছে। যারা চোর ধরবে তারাই চোর! দেশটা চলবে কী করে?” এদের চরম শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল রফিক-উল-হক।
সরকারের এই শীর্ষ কর্মকর্তারা কর্মজীবনের শেষ সময়ে এসে চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়াতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেন বলে অভিযোগ। মাসুদ সিদ্দিকী মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেয়ার সময় ওই মন্ত্রণালয়েরই সচিবের দায়িত্বে ছিলেন।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের সময়ই মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেখানোর কথা।
আকবর আলি খান বলেন, “আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নানা ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব সরকারের সময়ই হয়েছে। “শুধু ঢাকায় নয়- ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে নানা ধরনের প্রতারণা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছিল। তার জ্বলন্ত প্রমাণ সরকারের শীর্ষ এই পাঁচ কর্মকর্তার জালিয়াতির ঘটনা।”
“এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যে কোনো কারণে এরা পার পেয়ে গেলে এ ধরনের জাল সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। তখন আর আমাদের কিছুই করার থাকবে না,”  বলেন আকবর আলি খান।
এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেও জনপ্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে দুদক।
সরকারি কর্মচারী বিধি অনুযায়ী, এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা-ভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা ছাড়াও প্রতারণার মামলা হতে পারে।
নিয়মানুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন এই পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, এই পাঁচ সচিবের মুক্তিযোদ্ধার সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। “এই সনদ ব্যবহার করে তারা যদি রাষ্ট্রের সম্পদ নিয়ে থাকেন তাহলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৮২ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ তালিকার ১ লাখ ৪৪ হাজার ছাড়া বাকিদের সনদ স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। তিনি বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ছাড়া অন্যসব তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই-বাছাইয়ের পর আগামী ২৬ মার্চ মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে তাদের পরিচয়পত্র দেয়া হবে বলেও জানান মোজাম্মেল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এখন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা

১৯৮৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সেই আলোচিত-সমালোচিত ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফের খবরের শিরোনামে আসলেন। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। ১৯৮৫ সালে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন দেশের কোরআন প্রেমিক জনতার উপর গুলী চালানোর নির্দেশ দিয়ে। দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও বহাল তবিয়তেই ছিলেন তিনি। প্রায় তিন দশক পর আবারো সংবাদের শিরোনামে আসলেন যুদ্ধ না করেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সনদগ্রহণ করে। সে কারণে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে নিয়ে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ১৯৮৫ সালের ১০ এপ্রিল ভারতের দুজন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী নাগরিক পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং মুসলমানদের পবিত্র ঐশীবাণী কোরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন।
রিটে বলা হয়েছিল, কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেয়া হয়েছে। তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে।
ওই বছরের ১২ এপ্রিল বিচারপতি মিসেস পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করে এ বিষয়ে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ভারতসহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের মুসলিম জনতাও বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জেও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ১৯৮৫ সালের ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক প্রতিবাদ সমাবেশের। সেদিন বেলা ১১টায় সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা হোসাইন আহমদকে এসপি অফিসে ডেকে নিয়ে চাপ দিয়ে সভা স্থগিতের জন্য লিখিত অঙ্গিকার নেওয়া হয়। পরে প্রশাসন নিজ উদ্যোগে সভা স্থগিত করা হয়েছে মর্মে সভা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে মাইকিং শুরু করে।
কিন্তু তৌহিদী জনতা প্রশাসনের অপপ্রচার ও বাধা উপেক্ষা করে দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ ময়দানের দিকে। উপায় না দেখে ঈদগাহ ময়দানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে মাওলানা ইসারুল হক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে শুধুমাত্র মুনাজাত করেই সভা শেষ করে চলে যাওয়ার অনুমতি চান।
কিন্তু তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে জনতাকে গালিগালাজ করতে থাকেন এবং কোনোভাবেই এখানে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। এসময় তৌহিদী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের নির্দেশে এলোপাতাড়ি গুলীবর্ষণ করে পুলিশ। পুলিশের গুলীতে প্রথমেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দশম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিকশাচালক মোক্তার হোসেন ও রেল শ্রমিক নজরুল ইসলাম নিহত হন। আহত হয়েছিলো আরো অর্ধশতাধিক মানুষ।
পবিত্র কুরআনের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী তৌহিদী জনতার উপর গুলি বর্ষণের নির্দেশ দেওয়ায় ওই দিন ৮জন মুসল্লিকে জীবন দিতে হয়েছে। ওই ঘটনায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মানসিকভাবে আহত হয়েছিলেন। আলোচিত সেই মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান তখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান বর্তমানে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন বেসরকারিকরণ কমিশনের চেয়ারম্যান।
১৯৮৫ সালের ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের বিচার এখনো হয়নি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের অভিযোগের তীর মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে হলেও বিগত ২৮ বছর বিভিন্ন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো তাকে তিরস্কার না করে বিভিন্ন মেয়াদে পুরস্কৃত করেছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের গত আমলে দীর্ঘ সময় ধরেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ছিলেন মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান। এরপর ২০১৪ সালের মধ্য জানুয়ারি থেকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করে প্রমাণ করেছে তিনি একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ না নিয়েই তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে মুক্তিযোদ্ধা সেজে সনদ গ্রহণ করেছেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে গত রোববার মুক্তিযুদ্ধ ও জনপ্রশাসনবিষয়ক মন্ত্রণালয় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকার) বৈঠকে মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানসহ চার সচিব ও একজন যুগ্ম সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের বিচারের জন্য এখনো আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় আছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। ২৮ বছর পার হয়ে গেলেও বর্বরোচিত এই হত্যাকান্ডের মূল নায়কদের শাস্তির দাবি থেকে সরে আসেনি নিহতদের স্বজনরা।
এ বিষয়ে ওই ঘটনায় নিহত রাশিদুল হকের ভাই গোলাম মোর্তজা বলেন, দেশের সরকারগুলো এত বড় একটা হত্যাকান্ডের বিচার না করে উল্টো ঘটনার নায়ক ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানকে পুরস্কার দিয়েছে। তিনি বলেন, ভাইকে হারানোর বেদনা শুধু আমরাই বুঝি। মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানসহ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।
ঘটনার ২৯ বছরেও আলোচিত ওই হত্যাকান্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিহত আব্দুল মতিনের বড় ভাই সাদিকুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩৫ বছর পর তার বাবার হত্যাকারীদের বিচার করেছে। খুনিদের ফাঁসি দিয়েছে। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার আমরা পাবো না কেন? ৫০ বছর গেলেও আমরা এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি থেকে পিছু হটবো না।তিনি বলেন, ২৯ বছরে দেশে অনেক সরকার এসেছে কিন্তু কোনো সরকারই এই হত্যাকান্ডের বিচার করেনি।তিনি আরো বলেন, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন।
সাদিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শুনেছি তিনি নাকি (মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান) নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মিথ্যা সনদ গ্রহণ করেছেন। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে প্রতারণার জন্যও তার শাস্তি দাবি করেন সাদিকুল।
১৯৮৫ সালের ১১ মে’র ঘটনায় নিহত রিকশাচালক মোক্তার হোসেনের ছেলে খাইরুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা নিহতের সময় আমার বয়স ছিল সাত বছর। আমার একটি বোন আছে। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমরা খুব কষ্ট করে দিন কাটিয়েছি। ভেবেছিলাম বাবার হত্যাকারীদের বিচার হবে। কিন্তু ২৮ বছর চলে গেলো কোনো বিচার আমরা পাইনি। যার হুকুমে পুলিশ গুলী করে আমার বাবাসহ ৮ জনকে হত্যা করেছিল তিনি এখন সরকারের বড় কর্মকর্তা। আমরা এই খুনি মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের বিচার চাই।
মোক্তার হোসেনের স্ত্রী পুরমানুন খাতুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ