ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় মাটির তৈরি মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে

খুলনা অফিস: উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর বাজারজাতকরণের নানা প্রতিকূলতায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে খুলনার ডুমুরিয়ার প্রসিদ্ধ মৃৎশিল্প। ফলে এ পেশায় নিয়োজিতরা দিন দিন বেকার হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, উপজেলার ডুমুরিয়া সদর, শোভনা, খর্নিয়া, আটলিয়া, শরাফপুর, রুদাঘরা, মাগুরাঘোনা ও রঘুনাথপুর এ ৮টি ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে ৯ শতাধিক পরিবার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তারা মাটি দিয়ে হাঁড়ি-পাতিল, কলসি, চাড়ি, ঢালী, রিং, মাটির ব্যাংক, ফুলের টবসহ হরেক দ্রব্য তৈরি করে স্থানীয় বাজার বা গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করে থাকেন।
এ কাজের সঙ্গে জড়িত রানাই গ্রামের মালতী পাল, রিতা পাল, সুকুমার পাল, আরতী পালসহ আরো কয়েকজন জানান, প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব, এঁটেল মাটির সংকট, জ্বালানির জন্য বাঁশের মুথা, বাঁশের পাতা, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রির মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। কয়েক বছর আগে মাটি, বাঁশে মুথা (গাড়ার অংশ) কাঠ, বাঁশের পাতার বিভিন্ন বাগান কুড়িয়ে এগুলো ফ্রি আনা হতো। এরপর নামমাত্র মূল্য দিয়ে তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সেসব জ্বালানির এখন আকাশ ছোঁয়া দাম। অথচ মাটি দিয়ে তৈরি এসব দ্রব্যাদির মূল্য সে তুলনায় বাড়েনি। বর্তমান বাজারে আধুনিক সামগ্রির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে মাটির তৈরি মৃৎশিল্পের সাথে নিয়োজিত অনেক পরিবারই বাপ-দাদার মূল পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ