ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

সালমান রুশদী দাউদ হায়দার তসলিমা নাসরীন ও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর গন্তব্য একই

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে লিখার এতটুকু আগ্রহও আমার ছিল না। এ ব্যক্তিটির চরিত্র সম্পর্কে পূর্বেই আমার কিঞ্চিৎ ধারণা ছিল। আমি যেহেতু একজন আস্তিক, তাই মানুষের কোন কাজের কী পরিণতি হতে পারে, তার প্রতি রয়েছে আমার প্রবল বিশ্বাস। কেবল লতিফ সিদ্দিকী কেন, যারা লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করলো তাদের গোডাউনে লতিফ সিদ্দিকীর চেয়ে আরো ভয়ঙ্কর জিনিস মজুদ রয়েছে। বেচারা বুদ্ধিমান বোকা হওয়ার কারণে কথাগুলো একেবারে আবেগে বলে ফেলেছেন। তার কি আর জানা ছিল যাদের আশীর্বাদে আমি এত সাহসীকতার পরিচয় দিচ্ছি, তারাই যে লোক দেখানোর জন্য আমাকে ছুঁড়ে ফেলবে। ২৪ অক্টোবর ২০১৪ টিভির সংবাদে এইমাত্র পাওয়া খবরে দেখলাম আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বাদ দেয়া হয়েছে। তখন আর এ বিষয়ে না লিখে পারলাম না। আজকের লেখার উদ্দেশ্য লতিফ সিদ্দিকী নয়। কারণ তার সম্পর্কে লিখবো না আগেই বলেছি; তবে কথা প্রসঙ্গে তার উদাহরণ টানবো কেবল। আজকের লেখার উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দেয়া। আমরা কেবল ছুতো খুঁজি যদি লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কার না করতেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করতাম আবার বহিষ্কার করার পরেও বলছিÑ এটা লোক দেখানো, তবে তিনি যাবেন কোথায়? আমি বর্তমান সিদ্ধান্তকে ধনবাদ জানাই। কেউ যদি কাউকে লোক দেখানোর জন্যও থাপ্পড় মারে, তখনও কিন্তু ব্যথা পাওয়া যায়। ইসলামবিরোধী একটি জঘন্য ভূমিকা রাখার পর এ ব্যক্তির যদি এতটুকু বিচার না হতো, তখন আমাদের কি করার ছিল? তাকে গ্রেফতার করার ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেন তাকে ধরিয়ে দেন, সে তো দেশেই নেই। এ কথাও অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে এর অর্থ দাঁড়ায়- এবার যদি সে দেশে আসে তবে প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তাকে গ্রেফতার করবেন অথবা বলবেন, সে আমাদের কেউ নয়। তখন ইসলামপ্রিয় জনতা কি দায়িত্ব পালন করে, সেটা তাদের বিষয়। প্রিয় পাঠক, প্রধানমন্ত্রীকে কেন ধন্যবাদ দেব না, তিনি যদি লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়টি বিভিন্নভাবে এড়িয়ে যেতেন, তা কী পারতেন না? সে যোগ্যতা কী তার নেই? তিনি যখন বলেছিলেন, ‘৫৭ বছর বয়স হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব’ এর কি তার বয়স ৫৭ হয়েছিল? সাংবাদিকগণ জিজ্ঞেস করেছিলেন, আপনার বর্তমান বয়স কত? তিনি বলেছিলেন, ‘বলব না, মেয়েরা বয়স গোপন করতে ভালোবাসে।’ প্রিয় পাঠক, বলুন তো এমন জবাব দিলে জীবনে কি আর ৫৭ বছর বয়স হওয়ার সম্ভাবনা থাকে? তিনি বলেছিলেন ‘১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবো’ এর পর বললেন না- এমন কথা বলিনি। যখন টিভির ফুটেজ দেখানো হলো, তখন বললেন, ‘ও ওটাতো ’৯৬ সালে বলেছিলাম।’ গোলাম আযমের বাসায় দোয়া আনতে যাওয়া আর মুজাহিদ সাহেবকে নিজ হাতে চা বানিয়ে খাওয়ানোর পারও বললেন ‘জীবনেও না, ওদের সাথে আমার দেখাই হয়নি।’ এমনিভাবে আরো চমকদার অনেক কথাই তিনি বলার যোগ্যতা রাখেন। তা না বলে লতিফ সিদ্দিকীর ব্যাপারে অন্তত সঠিক সিদ্ধান্তটাই গ্রহণ করেছেন। আইন-কানুনের মাথা খেয়ে ভদ্রতা আর শালীনতার ডাস্টবিনে ফেলে একজন গগনচুম্বী জনপ্রিয় নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম সম্পর্কে যে ককুলাঙ্গাররা বলে থাকে তার জানাযা আর দাফন এ দেশে হবে না। লাখ লাখ মানুষের ঢল দেখার পরেও যায়া বলে এরা পারিবারিক ও জামায়াতের লোকজন। হোক পারিবারিক বা জামায়াতের লোক, তারা কি চাঁদের দেশ থেকে এসেছে, নাকি এ দেশেরই নাগরিক? কুলাঙ্গার ইমরান সরকারের সাথে কয়েকশ’ লোক যদি মিছিল করে তাই হয়ে যায় জনতার দাবি। মনে রাখবেন, এক মাসে শীত যায় না। ওদের এ বেপরোয়া কথার ধারাবাহিকতায় আমিও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে কিছু বলতে চাই। প্রকৃতপক্ষে এদেশের মানুষ দেখেছে মন্ত্রী অবস্থায় যখন পাটমন্ত্রী ছিলেন, তখনও এমনভাবে কথাবার্তা বলতেন মনে হয়েছে দেশটা তার বাবার সম্পূর্ণ একা। অসভ্য আর বেয়াদবীর দিক দিয়ে তাকে কার সাথে মেলানো যায়, তা খুঁজে পেলাম না। প্রসঙ্গক্রমে বলি, আমার এক বন্ধুর লাশ নিয়ে গিয়েছিল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর থানার মাটিকাটা বাজার গ্রামে। যমুনা নদীর পাশে এলেঙ্গা মোড় থেকে ভূঞাপুর যাওয়ার পথে রাস্তার বাম দিকে যমুনা নদী এবং নদীর পাশে সামান্য বস্তি। আর রাস্তার ডান দিকে যে অশংটা রাস্তার কারণে আপাতত ভাঙার সম্ভাবনা নেই তার অধিকাংশ জমিই ক্রয় করে নিয়েছে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর ছেলে। অনেকেই বলেছেন, কাউকে হুমকি দিয়ে, কাউকে আবার বুঝিয়েছে এগুলো নদীতে ভেঙে নেবে, অনেককে আবার জমির দলিল করার পরেও টাকা ঠিকমতো দেয়নি। তখন ভাবলাম, যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান। আর লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে আমার একটা প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ছিল যে, মহান আল্লাহ বলেছেন- ‘আমি যাকে সম্মানিত করি পৃথিবীর কোনো মানুষ তাকে অসম্মান করতে পারে না, আর আমি যাকে অসম্মান করি পৃথিবীর কোনো মানুষ তাকে সম্মানিত করতে পারে না।’ মহান আল্লাহর এ বাণীর বাস্তবায়ন হবেই। লতিফ সিদ্দিকী যেভাবে মানুষকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলতো, তাতে তার পরিণতি কি হবে তা আমার জানা ছিল।
মানুষ মনে-প্রাণে যা বিশ্বাস করে, হৃদয়ে যা লালন করে, মনের অজান্তেই তা মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়। একটি গল্প এমন এক লোক ঢাকায় গিয়ে চকলেট বিক্রি করতো আর দেশে অর্থাৎ গ্রামে বাড়ি গিয়ে স্ত্রীর কাছে বলতো ঢাকায় ভালো চাকরি করে। একদিন  ঘুমের মধ্যে হঠাৎ সে বলে উঠলো লাগবে ‘ঝাল-মিষ্টি-টক চকলেট’ তখন তার স্ত্রী বলে উঠলো বুঝেছি তুমি কি চাকরি কর। এক চামারের ছেলে পরিচয় গোপন করে বড় লোকের এমএ পাস মেয়েকে বিয়ে করলো। একদিন  দুপুরের রোদে বাড়ির ছাদে উঠলো দু’জন। স্বামী হঠাৎ বলে ফেললো এ প্রখর রোদে একেবারেই চামড়া শুকিয়ে যায়। স্ত্রী জিজ্ঞেস করলো তুমি তা জানলে কি করে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ছেলেটির বাবা জুতো সেলাই করে। অতএব, যারাই যত কথা বলুক তাদের পরিবারের পরিচয় নিলে দেখা যাবে, হয়তো সমাজের ধনী পরিবারের লোক; তবে ইসলামবিরোধী অথবা ‘মনের দিক দিয়ে নীচু মনের আর সে পরিচয়টি ফুটে উঠে তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে।’ লতিফ সিদ্দিকী আজ বিশ্বময় ইসলামপ্রিয় লোকদের নিকট একটি পরিচিত অথচ ঘৃণিত নাম এটাই আল্লাহর মাইর। আর অধ্যাপক গোলাম আযমের গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বের অনেক নামী-দামী রাষ্ট্রেও। বাংলাদেশের কিছু শাহরিয়ার কবির আর ইমরান সরকার তাদের বাপের জনমেও এমন জানাযা দেখেনি। স্বাভাবিভাবেই বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামের জাগরণ দেখে ওদের মাথাটা এমনভাবে খারাপ হয়েছে, যেমনটি হয়েছিল এক লোকের দুধের গাভী হারানোর পর। এক লোকের দুধের গাভী হারানোর পর খুঁজে না পেয়ে ছেলেকে বলছে ভাই গাভীটা খুঁজে দেখো। স্ত্রী বললো, আপনার কি মাথা খারাপ ছেলেকে ভাই বলছেন? লোকটি বললো, ‘মা গো দুধের গাভী হারালে কি মাথা ঠিক থাকে।’ আজ কি লতিফ সিদ্দিকী আর কি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুখে যাই বলুক প্রকৃতপক্ষে তাদের দুধের গাভী হারিয়ে গেছে। সে কারণেই কথা বলার সময় কেউ হুঁশ রাখতে পারছে আবার কেউবা পারছে না। বেগম সাজেদা চৌধুরী বললেন, ‘ড. হাসান মাহমুদ স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ বেয়াদব’ আবার একদিন পরে যখন তাকে একটি মিটিং-এ বক্তব্য রাখতে দেয়া হলো তখন বললেন, ‘হাসান মাহমুদকে আমি খুব ভালোবাসি;’ তবে কোনটা সঠিক? আগেরটা, না পরেরটা। যদি আগেরটা ঠিক হয়, তবে আমাদের বুঝতে হবে গাভী হারিয়েছেন বলে মাথা ঠিক ছিলো না, তাই ওটা বলেছিলেন আর যদি পরেরটা ঠিক থাকে তবে ভাবতে হবে বেয়াদবদেরই তিনি বেশি ভালোবাসেন। লতিফ সিদ্দিকী সম্পর্কে বেগম সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মুখ পোড়ারা অনেক কথাই বলেন।’ তার এ বক্তব্যটাই আমি আশা করেছিলাম। এ লোকটি অর্থাৎ লতিফ সিদ্দিকী তার বয়সের দিক বিচেনা করলেও কথাবার্তায় ভারসাম্য রাখা দরকার ছিলো। অথচ কথা বলতে একেবারে বাচাল এবং কিছু বেয়াদব বখাটে ছেলেদের মতো। তাই মহান আল্লাহ তার মুখ দিয়ে এমন একটি কথা বের করে দিয়েছেন যে, তাকে এ কথার গ্লানি বয়ে বেড়াতে হবে আজীবন। সালমান রুশদী, দাউদ হায়দার বা তসলিমা নাসরীনদের কাতারেই হবে তার স্থান। বলাবাহুল্য, আওয়ামী লীগ থেকে যখন তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়েছে, তার জবাবও নাকি সে উগ্রতার সাথেই দিয়েছে এবং বলেছে, বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই আসে না।
আমরা বেয়াদব দেখেছি, এমনটি দেখিনি। বাংলাদেশে ইতিপূর্বেও ইসলাম নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছিল একটি জুতো কোম্পানির জুতোর নিচে লেখা ছিলো আল্লাহ। তাদের বিরুদ্ধে জনতার বিদ্বেষ হলে তারা এর একটা ব্যাখ্যা প্রদান করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। তারা বলেছিলো এটা একটা ডিজাইন হয়তো বা আরবীতে আল্লাহর মতো হয়ে গিয়েছে। একটি পত্রিকা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যঙ্গ কার্টুন ছাপার পর জনতার প্রতিবাদের মুখে সে নামী-দামী পত্রিকাটির সম্পাদক দু’হাত উঠিয়ে জনতার সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী যদি বলতো যে ইয়াহুদীদের সামনে একটি মিটিং আমি আবেগে কথাগুলো বলে ফেলেছি বা আমরা যে ধর্মনিরপেক্ষতা পালন করি তা প্রমাণের জন্য কথাগুলো বলেছি। তা না করে সে বললো যা বলেছি তা প্রত্যাহার করার প্রশ্নই আসে না। প্রকৃতপক্ষে কথাগুলো সে কোনো আবেগে বা মাতাল অবস্থায় বলেনি। সে যে মনে-প্রাণে বা জন্মসূত্রে একজন নাস্তিক, তা প্রমাণ করার জন্যই সে কথাগুলো বলেছে। সঙ্গত কারণেই এসব কথা প্রত্যাহার করা তার সম্ভব নয়। অতএব, আমরাও মনে-প্রাণে এমন নাস্তিক সে হোক নামধারী মুসলমান বা অন্য কোনো ধর্মের অনুসারী, তাকের অবশ্যই আমার দ্বীনের ব্যাপারে কটাক্ষ করার জন্য শাস্তি পতে হবে। প্রয়োজনে ব্লাশফেমী আইনে তার বিচার করতে হবে। অন্যথায় দেশে ইসলাম ও আদর্শবাদী জনতার প্রতিবাদী মিছিল ঠেকানো কোনদিনই সম্ভব হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ