ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

তিতাস গ্যাসের হিসাবে হাজার কোটি টাকার গরমিল

স্টাফ রিপোর্টার : পাওনা, নির্ধারিত সময়ের আগে রাজস্ব পরিশোধ এবং গ্রাহকের নিরাপত্তা জামানতের হদিস দিতে পারেনি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি হাজার কোটি টাকার গরমিল করেছে। এতে করে একদিকে কোম্পানির মুনাফা কম দেখানো হয়েছে এবং কর পরিশোধের আগে মুনাফা বেশি দেখানো হয়েছে। তিতাস গ্যাসের ২০১৪ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর নিরীক্ষক হোদাভাসী চৌধুরী এন্ড কোং-এর মন্তব্য থেকে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে।
এ ব্যাপারে গত দু’দিন ধরে দৈনিক সংগ্রাম থেকে কোম্পানির একাধিক পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে কথা বলতে চাননি। পরে তারা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, তিতাস সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক ধারণাকে এক সময় ডিফেন্স করতাম। এখন দেখি সেগুলো ঠিক। তারা আরো বলেন, হিসাবে এত টাকার গরমিলের ব্যাপারে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ভাল বলতে পারবেন। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বসব।
কয়েকবার যোগাযোগের পর তিতাসের ভারপ্রাপ্ত এমডি ইঞ্জিনিয়ার মো. নওশাদ ইসলামের দফতর থেকে জানানো হয়, স্যার এ ব্যাপারে এখন কথা বলবেন না। প্রয়োজন হলে পরে আপনাদের (সাংবাদিক) ডেকে এনে ব্যাখ্যা দেয়া হবে।
নিরীক্ষকের মন্তব্য অনুযায়ী, মোট আয়-ব্যয়ের মধ্যে ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের পাওনা ২ হাজার ২১৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আঞ্চলিক অফিসগুলো সমষ্টিগতভাবে ১ হাজার ৪৩৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা পাওনার হিসাব দিয়েছে। তবে পৃথক পৃথক হিসাবে আঞ্চলিক অফিসগুলো থেকে ১ হাজার ৪০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা পাওনার হিসাব পাওয়া গেছে। ফলে ২৯৪ কোটি টাকার হিসাব অমীমাংসিত রয়েছে। অধিকন্তু আঞ্চলিক অফিসগুলো পৃথক পৃথক হিসাব অনুযায়ী, ৯১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার হদিস দিতে পারেনি। যে কারণে ওই হিসাব যাচাই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে হোদাভাসীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
গ্রাহকদের নিরাপত্তা জামানতের হিসাবেও গরমিল করেছে তিতাস গ্যাস। নিরীক্ষকের মতে, শেষ হওয়া অর্থবছরে এ কোম্পানিতে গ্রাহকের নিরাপত্তা জামানত হিসাবে জমা রয়েছে ৮৭৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে আঞ্চলিক অফিসগুলো ২৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকার নিরাপত্তা জামানত রয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে। তবে পৃথক পৃথক হিসাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা জামানত রয়েছে ৩৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে এখানেও ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার হদিস পায়নি নিরীক্ষক। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা জামানতের ৫৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার হদিস দিতে পারেনি আঞ্চলিক অফিসগুলো।
এ ছাড়া শেষ হওয়া অর্থবছরের হিসাবে সম্পদের ওপর ও দায়ের ওপর বিলম্বিত কর বাবদ ১৬৪ কোটি ও ৮১ কোটি টাকা হিসাবে নেওয়া হয়নি। ফলে বিলম্বিত কর সমন্বয়ে গরমিল করে কোম্পানির কর পরবর্তী ৮৩ কোটি টাকা মুনাফা কম দেখানো হয়েছে।
রাজস্ব হিসাবেও গরমিল করেছে তিতাস গ্যাস। নিরীক্ষক হোদাভাসী এন্ড কোং-এর মতে, বছরজুড়ে তিতাস গ্যাস ৬৬ কোটি টাকার রাজস্ব হিসাব দিয়েছে। যা আগের বছরের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিক্রয় বাবদ প্রদেয় রাজস্ব কোম্পানিটি আগের বছরই পরিশোধ করেছে। বাংলাদেশ হিসাব মান অনুযায়ী (বিএএস) অতীতের পরিশোধকৃত অর্থ চলতি হিসাবে পুনর্ব্যক্ত করার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়নি। এর ফলে কর পরিশোধের আগে কোম্পানিটি ৬৬ কোটি টাকা মুনাফা বেশি দেখিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ