ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

আজ ভয়াল ১২ নবেম্বর

নোয়াখালী সংবাদদাতা : বাংলাদেশের উপকূল জুড়ে এখন নতুন ফসল কাটার মওসুম। ১৯৭০ সালের ১২ নবেম্বর পরিবেশও ছিল একই। নবান্নের মওসুমে এমনি আনন্দঘন পরিবেশে আকস্মিকভাবে বয়ে যায় প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কয়েক লাখ মানুষ প্রাণ হারায়, মারা যায় অগণিত পশু, বিরান হয় জনপদ।
প্রকৃতির কাছে আজো অসহায় উপকূলের মানুষ। বৈশ্বিক জলবায়ূর পরিবর্তন তাদের আতংক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
১৯৭০ সালের ১২ নবেম্বর বাংলাদেশের উপকূল জুড়ে বয়ে যাওয়া ভয়াল গোর্কী নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের হাতিয়া, সুবর্ণচর, সদর, কোম্পানীগঞ্জের উপকূলকে ও বিরান জনপদে পরিণত করে। ২৫ থেকে ৩০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস থেকে সেদিন যারা প্রাণে বেঁচে ছিলেন তাদের স্মৃতিতে সেই দুঃস্বপ্নের দিনটি আজো অমলিন।
দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে নোয়াখালীর উপকূল জুড়ে এখন বিস্তৃর্ণ চরাঞ্চলের সমারোহ। ছোট বড় ১৯ টি চরাঞ্চলে ভূমির আয়তন প্রায় ১৫০ বর্গ কিলোমিটার।
দীর্ঘ ৪৩ বছর পর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো তাড়া করে ফেরে ঘূর্ণিঝড়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মনে। ১২ নবেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে কেউ হারিয়েছে বাবা-মা, ভাই-বোন আবার কেউ তার প্রিয়তমা স্ত্রী-সন্তানদের।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিটি সে সময় ছিল প্রবাহমান নদী। ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা পরবর্তী এখানে জেগে ওঠে বিশাল চর। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নদী উপকূলবর্তী মানুষগুলোকে সতর্কতার জন্য তখন এখানে ছিল না কোন আবহাওয়া অফিস বা সাইক্লোন সেন্টার।
ছিল না কোন তথ্য প্রযুক্তি বা উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। ১২ নবেম্বরের দিনটিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। সারাদিন রোজা রেখে ক্লান্ত মানুষগুলো যখন ঘুমিয়ে পড়েছে তখনই আঘাত হানে ভয়ঙ্কর এক ঘূর্ণিঝড়। গভীর রাতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় মানুষ, ঘরবাড়ি ও গবাদি পশুগুলো।
কথাগুলো বলছিলেন, সূবর্ণচরের পূর্বচরবাটা উপকূলীয় অঞ্চলে বাবা-মা, ভাই-বোন হারানোর পর অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার মজিবুল হক মেম্বার (৭১)। লাশ খুজে না পাওয়া নিজ পরিবারের ৯ জনকে হারানো এই মানুষটি একটি গাছ আঁকড়ে ধরে সেদিন কোনমতে প্রাণে বেঁচে যায়।
বছর ঘুরে ফিরে আসা স্বজনহারা মানুষগুলোর স্মৃতিকে ভারাক্রান্ত করে তুললেও  প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা প্রতিকূলতার সাথে সংগ্রাম করে টিকে থাকা বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলের এসব মানুষ আরো একটা ১২ নবেম্বর মোকাবিলা করে টিকে থাকার মতো রাষ্ট্রীয় কিংবা সামাজিক অবকাঠামোর আওতায় এখনো আসতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ