ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

দর্শনায় বিএসএফ'র গ্রেনেডে নিহত বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বাড়াদি সীমান্তে সাউন্ড গ্রেনেড মেরে গরু ব্যবসায়ী জাকির হোসেনকে (৩২) হত্যা করেছে বিএসএফ। পরে লাশটি মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়। দীর্ঘ ৪১ ঘণ্টা পর সোমবার রাত ১০টার দিকে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, সোমবার রাতে এলাকাবাসী উপজেলার কামার পাড়া সীমান্তের ৮২ নং মেইন পিলার বরাবর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাথাভাঙ্গা নদীর চরে জাকির হোসেনের লাশ দেখে বাড়াদি বিজিবি ক্যা¤েপ এবং দামুড়হুদা থানা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্যে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে লাশ দেখে স্থানীয়রা জানান, জাকিরের একটি হাত ভাঙ্গা। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পুড়ে গেছে। লাশ নিয়ে বিএসএফ’র ছলচাতুরী ও বিজিবির নতজানু ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। 
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে কামার পাড়া গ্রামের জাকির হোসেনসহ ৯-১০ জন গরু ব্যবসায়ী সীমান্তে ৮২ নং মেইন পিলারের কাছ দিয়ে ভারতের গোবিন্দপুর গ্রামে গরু কেনার উদ্দেশ্যে যায়। শনিবার ভোর ৫টার দিকে একই পিলারের কাছ দিয়ে গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বিজয়পুর ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে পরপর দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। এতে জাকির হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। এরপর বিএসএফ তার লাশ মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলে দেয়।
এলাকাবাসী জানায়, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বারাদী সীমান্তে সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম কামারপাড়া। গত রোববার ভোরে এ গ্রামের একদল গরু ব্যবসায়ী সীমান্তবর্তী মাথাভাঙ্গা নদী সাঁতরিয়ে ভারতের চাপড়া থানার বিজয়চন্দ্রপুর গ্রামে যায় গরু আনতে। ফিরে আসার সময় বিজয়পুর ক্যা¤েপর টহলরত বিএসএফ তাদের উপর গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। এ সময় সবাই পালিয়ে আসতে পারলেও সেই থেকে নিখোঁজ হন জাকির। এ ঘটনার পর থেকে জাকিরের পরিবার-পরিজন ও কামারপাড়া গ্রামবাসী ধারণা করেছিলেন, বিএসএফ জাকিরকে মেরে ফেলেছে। তার লাশ গুম করেছে। এরপর জাকিরের পরিবার আবেদন করে, বিএসএফ যদি জাকিরকে মেরেই ফেলে তবে যেন লাশটি ফেরত দেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে  বিজিবি বারাদী ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার মসলেম উদ্দিন এ ব্যাপারে  বিজয়পুর বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার পি হ্যারেন্সর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। তবে বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করে বলে, কোনো বাংলাদেশী ভারতে আসেনি। তারা কাউকে ধরেনি, মারেনি। এরপর সোমবার বিকাল ৪টায় সীমান্তের ৮১ নম্বর মেইন পিলার বরাবর পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ বৈঠকেও বিএসএফ বিষয়টি অস্বীকার করে বলে, কোনো বাংলাদেশি ভারতে আসেনি। তারা কাউকে ধরেনি, মারেনি।
সোমবার রাত আটটার দিকে জাকিরের লাশের খোঁজ মিলেছে ভারতের অভ্যন্তরে। জাকির কামার পাড়া গ্রামের পূর্ব পাড়ার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে। তার মিঠুন ও সাথী নামের দুটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তারা স্থানীয় স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। কামারপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, জাকিরের বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। তার স্ত্রী শখের বানু, মা জোসনা বিবি, ছোট্ট ছেলে মিঠুন ও  মেয়ে সাথী কেঁদে কেঁদে বুক ভাসিয়ে ফেলছে। গ্রামবাসী জানান, গত ১০ মাস আগে পাশের গ্রাম নাস্তিপুরের গরু ব্যবসায়ী আবুকে মেরে তার লাশ এই মাথাভাঙ্গা নদীতে ফেলে দিয়েছিল বিএসএফ। জাকির নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে রাত-দিন সব সময় পাহারা দিয়েছে গ্রামবাসীরা। কারণ যে কোনো সময় তার লাশ নদীতে ফেলতে পারে বিএসএফ। বুধবার একই সীমান্তের কামারপাড়া গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানকে (৩২) ধরে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে মুমূর্ষ অবস্থায় মাথাভাঙ্গা নদীর ধারে ফেলে রেখে যায় বিজয়পুর ক্যাম্পের বিএসএফ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ