ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক অব্যাহত

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তি উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত অবস্থায় আজ বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। গতকাল মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে আনিত ৯টি অভিযোগের মধ্যে ৭ ও ৮ নং অভিযোগের ওপর আর্গুমেন্ট উপস্থাপান করেছেন প্রসিকিউটর  সুলতান মাহমুদ সিমন।  ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পঞ্চম দিনের মতো যুক্তি পেশ করা হয়। আজ বুধবার ৯ নং অভিযোগের ওপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউশন।
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গত ৫ নবেম্বর শুরু হয়েছে। জামায়াতের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগভিত্তিক যুক্তি তুলে ধরছেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন ও রেজিয়া সুলতানা চমন। তার বিরুদ্ধে আনীত ৯টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিঊশন।
মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ৩০ জন সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ ৯টি সুনির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মাওলানা সুবহানকে গ্রেফতার করা হয়। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রসহ ৮ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ৯টি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
হাছেন আলীর বিরুদ্ধে
সাক্ষ্যগ্রহণ ৭ ডিসেম্বর
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আসামী পলাতক সৈয়দ মোঃ হাসান আলী ওরফে হাছেন আলীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে আগামী ৭ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুনির্দিষ্ট ৬টি ঘটনায় অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দেন।
গত ২২ আক্টোবর অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি শেষে গতকাল ১১ নবেম্বর আদেশ দেয়ার দিন ধার্য করে দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী ও প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ। অভিযোগ গঠনের বিপক্ষে শুনানি করেন হাসান আলীর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আব্দুস শুকুর খান।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর হাসান আলীর অনুপস্থিতিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় আব্দুস শুকুর খানকে রাষ্ট্রীয় খরচে আসামীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।
গত ২৪ আগস্ট হাসান আলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে পলাতক এ রাজাকার কমান্ডারকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। পরে তাকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেয় প্রসিকিউশন।
তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, আটক ও নির্যাতনের ৬টি অভিযোগ আনা হয়। এতে ২৪ জনকে হত্যা, ১২ জনকে অপহরণ ও আটক এবং ১২৫টি ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আনা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ