ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

সরকারের আবেদন মঞ্জুর আপিল বিভাগে না’গঞ্জের চাঞ্চল্যকর ৭ খুনের তদন্ত থেকে বাদ পড়ল সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বাদ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে সিআইডি এখন আর মামলাটিতে অনুসন্ধান করতে পারবে না। সিআইডিকে তদন্ত থেকে বাদ দিতে এর আগে সরকার আবেদন করলে হাইকোর্টে তা নাকচ হয়ে যায়।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, একটি মামলায় এক সঙ্গে দুটি সরকারি সংস্থা তদন্ত চালাতে পারে না। এভাবে তদন্ত চললে মামলাটিই জটিল হয়ে পড়বে। এ কারণে আপিল আদালত সিআইডিকে অনুসন্ধান না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে আলোচিত এই মামলায় সিআইডির তদন্ত বন্ধ করার আবেদন করেছিল সরকার। তার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সিআইডিকে অনুসন্ধান করতে আদেশ দিয়েছিলেন। সরকার হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে সুপ্রিম কোর্ট সিআইডিকে অনুসন্ধান থেকে থেকে বিরত থাকার এই আদেশ দিলেন। সিআইডির পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করছে।
এর আগে হাইকোর্ট সিআইডি ও ডিবি পুলিশকে মামলাটির তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে সরকার সিআইডিকে বাদ দিতে আবেদন করলে ১০ জুলাই বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালত তখন বলেন, সিআইডি তদন্ত নয় অনুসন্ধান করবে। এদিকে সিআইডিকে বাদ দিতে সরকারের আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে এটর্নি জেনারেল আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। এরপরই হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার।
হাইকোর্ট তখন আদেশে বলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ মামলায় নিয়মিত তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেবে। তবে সিআইডিসহ অন্যরা অনুসন্ধান করে এ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদন দেখে প্রয়োজনে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো, সেখানে যদি অতিরিক্ত কোনো তথ্য বা ডকুমেন্ট থাকে তা সাক্ষ্য হিসেবে তদন্ত কর্মকর্তাকে মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে কিনা।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার চার সহযোগী। একই সময়ে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার। তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান গত রোববার র‌্যাবের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে নজরুল ইসলামসহ বাকীদের হত্যার গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নজরুল ইসলামকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছে র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামী করে মামলা করে নজরুল ইসলামের পরিবার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ