ঢাকা, বুধবার 12 November 2014 ২৮ কার্তিক ১৪২১, ১৮ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

শার্শায় খেজুর রস আহরণে ব্যস্ত গাছীরা

বেনাপোল সংবাদদাতা: যশোরের যশ খেজুরের রস। শীতের শুরুতেই প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যশোর জেলার শার্শা উপজেলার গাছিরা খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করার জন্য ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য যশোর জেলার শার্শার খেজুর গাছ। যশোরের শার্শা এক সময় খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত ছিলো। শীত শুরু হওয়ার সাথে সাথে খেজুর গাছ (তোলা/ঝোড়া) কাটার প্রতিযোগিতা পড়েছে গাছীদের মধ্যে। গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক এ অঞ্চলের খেজুর গাছ। অনেকে  শখের বশে এই গাছকে বলে থাকেন মধুবৃক্ষ।
গত কয়েক বছর ইট ভাটার জ্বালানি হওয়ায় দ্রুত খেজুর গাছ ফুরিয়ে যেতে শুরু করেছে। যশোরে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বন বিভাগের উদ্যোগে ২০০৯/১০ সালে বৃক্ষরোপণ অভিযানে বেশ কিছু খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর যশোর জেলার জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গত কয়েক বছরে রোপিত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ খেজুর গাছের চারা। দেশী জাতের সাথে পরীক্ষামূলকভাবে আরব দেশীয় খেজুরের চারাও রোপণ করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এলাকার মানুষ সুফল পাবে। অতীতে কখনও এভাবে খেঁজুরের চারা রোপণ করা হয়নি। যশোরের আবহাওয়ার সাথে মানানসই খেজুর গাছ এমনিতেই জন্মে। বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয় খেজুরের বাগান। এখন শীতকাল তাই অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা খেজুর গাছের কদর বেড়ে উঠেছে। কারণ এ গাছ এখন দিচ্ছে গাঢ় মিষ্টি রস। আর এ রস জ্বালিয়ে পাতলা- ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরী করা হয়। খেজুরের গুড় থেকে এক সময় বাদামী চিনিও তৈরী করা হতো। যার সাধ ও ঘ্রান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্বাদের তৃপ্তিতে বাদামী চিনির জুড়ি নেই।
এখন অবশ্যই সেই চিনির কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপ কথার গল্পের মতো মনে হয়। খেজুর গাছের বৈশিষ্ট হচ্ছে যত বেশী শীত পড়বে তত বেশী মিষ্টি রস দেবে। পুরো মওসুম জুড়ে চলবে রস, গুড়, পিঠা-পুলি, পায়েস খাওয়ার পালা। আর কিছুদিন পর নতুন গুড়ের মিষ্টি গন্ধে ধীরে ধীরে আমোদিত হয়ে উঠবে গ্রাম বাংলা। দিন শেষে গ্রামীণ সান্ধ্যকালীন পরিবেশটা বড়ই আনন্দের। খেজুর রসের কারণে গ্রামীণ পরিবেশটা মধুর হয়ে উঠে। মন ভরে যায় সন্ধ্যার খেজুরের রসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ