ঢাকা, শুক্রবার 14 November 2014 ৩০ কার্তিক ১৪২১, ২০ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ১৮৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪১ হাজার শিশুর পাঠদান

খুলনা অফিস : খুলনায় ঝুঁঁকিপূর্ণ ভবন, অস্থায়ী চালাঘর আর খোলা আকাশের নিচেই চলছে ১৮৬ বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠদান।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ওইসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদানে শিক্ষকরা ব্যর্থ হচ্ছে, পাশাপাশি অভিভাবকরাও শঙ্কিত।
খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে মহানগরীসহ খুলনার নয় উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অস্থায়ী চালাঘর আর খোলা আকাশের নিচেই বসেই পাঠদান চলছে এমন সরকারি ও সদ্য জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮৬টি।
এগুলোর মধ্যে মহানগরীতে রয়েছে ৬টি, কয়রায় ১৯টি, ডুমুরিয়ায় ৩৬টি, তেরখাদায় ১৩টি, দাকোপে ১৯টি, দিঘলিয়ায় ৯টি, পাইকগাছায় ৩৪টি, বটিয়াঘাটয় ৩৮টি ও রূপসায় ১২টি।
এ হিসাব অনুযায়ী খুলনায় ১৭.৬৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী। আর এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রয়েছে অন্তত ৪১ হাজার শিশু। এসব শিক্ষার্থী এ রকম নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে লেখাপড়া করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগ্রহ হারাচ্ছে, সঠিকভাবে পাঠদান দিতে ব্যর্থ হচ্ছে শিক্ষকরা।
ডুমুরিয়া উপজেলার কাঁঠালতলা বিদ্যালয়ের মঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিবপদ বিশ্বাস জানান, ২০১৩ সালের মে মাসে বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর পর থেকেই এভাবেই খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। উপজেলা শিক্ষা অফিসে বার বার চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি তারা।
চিংড়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ফকির জানান, টাকার অভাবে ঘরের চালা তৈরি করেও ছাউনি দিতে পারিনি। তাই ছাউনিবিহীন ঘরেই ক্লাস নিতে হচ্ছে।
কদমতলা প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণপদ ম-ল জানান, ভবনটি ঝুঁঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয় ত্যাগ করে পাশের মন্দিরে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এখানে জায়গা অত্যন্ত কম।
ওইসব স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, রোদ ও বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচেই ক্লাস করতে তাদের কষ্ট হয়। আর ঝুঁঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করতে তাদের ভয় কাজ করে। ফলে বাড়ি থেকে স্কুলে আসতে ইচ্ছা হয় না তাদের।
অভিভাবকরা জানান, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে খুব অশান্তিতে থাকি। কারণ প্রায় ছাদের পলেস্তরা খসে ছেলেমেয়েদের গায়ের ওপর পড়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বটিয়াঘাটা থানা শিক্ষা অফিসার সুধা রাণী দাস জানান, তার থানায় ৩৮টি স্কুলের ভবন ঝুঁঁকিপূর্ণ, কম ঝুঁঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত রয়েছে। পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্য স্থানে টিনশেড তৈরি করে এবং কম ঝুঁঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ওই ভবনে আর অধিক ঝুঁঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলের বারান্দায় পাঠদান করানো হচ্ছে।
রূপসা থানা অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, রূপসায় ঝুঁঁকিপূর্ণের আওতায় ১২টি বিদ্যালয় রয়েছে। সে বিদ্যালয়ের পাঠদান কম ঝুঁকিপূর্ণ হলে ওই ভবনে আর অনুপযোগী হয়ে পড়লে বিকল্প হিসেবে অন্য ভবনে চালানো হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অশোক কুমার সমাদ্দার বলেন, প্রতি বছর জেলার সকল বিদ্যালয়ের সংস্কার, বেশি সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ এই তিন ক্যাটাগরিতে তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেলে বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার করা হয়।
চলতি বছর খুলনায় এ রকম বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৮৬টি। এর মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া বা কাজ শুরু হয়েছে। আর যেসব বিদ্যালয়ের ভবনের খুবই খারাপ অবস্থা সে ক্ষেত্রে টিনশেড অথবা আশপাশের বিদ্যালয়ে বা অন্য ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ