ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ফিলা অভিযানে নতুন উদ্বেগ

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় অবতরণ যান ফিলা ঐতিহাসিকভাবে ধূমকেতু চুরিয়মোভে নামার পর এখন থিতু হয়ে ছবি পাঠানো শুরু করলেও এর ব্যাটারির কার্যক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অবতরণের সময় দুবার লাফিয়ে উঠে গন্তব্যস্থল থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পেছনে সরে গিয়ে খাড়া একটি পাহাড়ের ছায়ায় স্থির হয়েছে ফিলা। ফলে খুব সম্ভবত ব্যাটারি চার্জ হওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সূর্যরশ্মি পাচ্ছে না যানটি।

ওয়াশিংমেশিন আকৃতির এই অবতরণ যানটি এরই মধ্যে ধূমকেতু পৃষ্ঠের প্রথম ছবি পাঠিয়েছে।

একটি ছবিতে ফিলার অবস্থান দেখা গেছে। এতে দেখা যায় বড় একটি গর্তের কাছ থেকে বেশ খানিকটা দূরে রয়েছে যানটি। এ জায়গাটিকে ফিলার অবতরণস্থল হিসাবে ঠিক করা হলেও পরে তা বদল করা হয়েছিল বলে জানান ল্যান্ডার টীমের প্রধান ড. স্টেফান উলামেক। কিন্তু ওই গর্তের চারপাশের জায়গাতেই ফিলা কোথাও থিতু হয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করেন তিনি।

তবে যানটির ল্যান্ডিং গিয়ার ঠিক কোন জায়গাটিতে এবং কিভাবে ঝুলে আছে তা এখনই ঠিকঠাক ভাবে বলা যাচ্ছে না। এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিশ্লেষণের জন্য পর্যাপ্ত সময় নাও পাওয়া যেতে পারে বলে জানান স্টেফান।

তিনি বলেন, “ব্যাটারির কার্যক্ষমতা সামন্যই বাকি আছে। পর্যাপ্ত সূর্যরশ্মির অভাবে সোলার প্যানেলও ঠিকমত কাজ করছে না। তাই আমরা সঠিকভাবে বলতে পারছি না এটি ঠিক কতক্ষণ কাজ করবে।”

বুধবার মহাকাশযান রোজেটা থেকে আলাদা হয়ে প্রথমবারের মত ধূমকেতুতে পা রাখে এর অবতরণ যান ফিলা।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) ২০০৪ সালে রোজেটা উৎক্ষেপণ করেছিল। এরপর ১০ বছর ধরে ফিলাকে নিয়ে রোজেটা ৪শ’কোটি মাইল পথ পাড়ি দিয়ে গত অগাস্টে ধূমকেতু ৬৭পি/চুরিয়মোভ-গেরাসিমেনকোর কাছে পৌঁছার পর অনেক উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে এ সফলতা আসে।

ফিলা ধূমকেতুতে নামার পর এর থ্রাস্টার এবং হারপুন সিস্টেম ঠিকমত কাজ না করায় মাটিতে গেড়ে বসতে সমস্যা হচ্ছিল।তাছাড়া, মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানও খুব ক্ষীণ থাকায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ ছিল। তবে সব বাধা ঠেলে স্থির হয়ে বৃহস্পতিবার ছবি পাঠানো শুরু করে ফিলা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ