ঢাকা, শনিবার 15 November 2014 ১ অগ্রহায়ন ১৪২১, ২১ মহররম ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

ধূমকেতুতে নামা রোবটযান থেকে তথ্য পাওয়ার আশা বিজ্ঞানীদের

ডারমস্টাড (জার্মানি) থেকে এএফপি: ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা এই প্রথম কোনো ধূমকেতুতে নামা রোবটটির কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার আশা করছেন।
বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১০টার দিকে রোবটযান ফিলে ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপির ওপর অবতরণ করে। ঘটনাটি পৃথিবী থেকে কিলোমিটার দূরে। পৃথিবী থেকে ৫১ কোটি কিলোমিটার দূরে দ্রুত ধাবমান এক ধূমকেতুর বুকে মানুষের তৈরি একটি যান এই প্রথম অবতরণ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
গবেষকরা আশা করছেন, এ অভিযান সফল হলে ৪৫০ কোটি বছর আগে সৌরজগৎ সৃষ্টির সময়কার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে জানা যাবে।
ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর আগে ল্যান্ডারটিকে সৌরজগতে ১০ বছর পরিভ্রমণ করতে হয়েছে। ফিলি নামে এই ল্যান্ডারটি বরফে তৈরি ধূমকেতুর ওপর অবতরণ করার পর বিজ্ঞানীরা তার পাঠানো সঙ্কেতও পেয়েছেন। যে ধূমকেতুটির বুকে এই যান অবতরণ করেছে তার নাম সিক্সটিসেভেনপি চুরিউমভ-গেরাসিমেনকো। ধূমকেতুটির বয়স অন্তত ৪০০ কোটি বছর এবং অবতরণযানটি যেখানে নেমেছে সেই জায়গাটি বরফ আর ধূলোর আস্তরণে ঢাকা। আশা করা হচ্ছে এই অভিযান থেকে জানা যাবে কী ধরণের মৌলিক উপাদান দিয়ে আমাদের এই মহাবিশ্ব বা সৌরজগৎ গঠিত হয়েছে।
ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপি’র কাছাকাছি অবস্থানরত ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (ইএসএ) মহাকাশযান রোজেটা থেকে রোবটযান ফিলে বিচ্ছিন্ন হয়। এটি ধূমকেতুর পৃষ্ঠে অবতরণ করতে সাত ঘণ্টার মতো সময় নেয়। রোজেটার অভিযানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সব দেশের পাশাপাশি সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
ফিলে রোবটযান ধূমকেতুতে অবতরণের পরপরই ইএসএ’র মহাব্যবস্থাপক জেন-জ্যাকুয়েস ডোরিয়েন বলেন, এটি মানবসভ্যতার জন্য এটি বড় পদক্ষেপ।
রোবটযান কীভাবে ধূমকেতুতে অবতরণ করল, এ বিষয়ে গবেষকেরা বলেন, ধূমকেতু থেকে ১৪ মাইল (২৩ কিলোমিটার) দূরে থাকা অবস্থায়, ১০০ কেজি ওজনের ফিলে রোবটযান মহাকাশযান রোজেটা থেকে আলাদা হয়। কোনো রকম ইঞ্জিনের শক্তি বা দিক-নির্দেশনা ছাড়াই এটি ধূমকেতুর দুর্বল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এর ওপরে অবতরণ করে। অভিযান শুরুর আগে ইএসএ’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞান উপদেষ্টা অধ্যাপক মার্ক ম্যাককফরিয়ান বলেছিলেন, ধূমকেতুতে ফিলের অবতরণ বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন ও পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রের ওপর নির্ভরশীল।
রোবটযান ফিলের সফল অবতরণে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল, চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপি’র অত্যন্ত দুর্বল মাধ্যাকর্ষণ। রোবটযানটি ধূমকেতুর ওপর পড়ে লাফিয়ে উঠে মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে পারতো। তাই অবতরণ নির্বিঘ্ন করতে রোবটযানটি ধূমকেতু লক্ষ্য করে হারপুন ছোড়ে। আর রোবটযানের পা থেকে বের হওয়া স্ক্রু ধূমকেতুতে আটকে গিয়ে এর অবস্থান সুসংহত করে।
নাসার গবেষক আর্ট চেমিলিউস্কি বলেন, ধূমকেতু সিক্সটিসেভেনপি’র মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর অভিকর্ষ বলের এক লাখ ভাগের এক ভাগ। চেমিলিউস্কি আরও বলেন, রোবটযান ফিলেতে দু’টি হারপুন এবং ধাক্কা সামলে অবতরণের দু’টি যন্ত্র আছে। এ ছাড়া এর তিনটি পায়েই একটি করে ড্রিল মেশিন আছে। আছে একটি ছোটখাটো রকেট ইঞ্জিনও। এই সবকিছুই শুধু সফল অবতরণের জন্য। অবতরণের পর রোবটযান ফিলের কাজ প্রসঙ্গে গবেষকেরা জানান, ধূমকেতুতে ভালোভাবে অবস্থান নিশ্চিত করার পরপরই রোবটযান চারপাশের ছবি তুলবে। দূর থেকে দেখা গভীর গর্ত ও লম্বা প্যাঁচানো বরফের ধূমকেতুটি দেখা যাবে অনেক কাছ থেকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ