ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চমদিন সফরকারী দল জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। সফরকারী দলকে ৩-০ তে হারিয়ে সিরিজ জিতেছে স্বাগতিকরা। টানা তিন ম্যাচ জিতে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইট ওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে টেস্টে এটি নতুন রেকর্ড। বাংলাদেশ এবার প্রথমবারের মতো টেস্টে টানা তিন ম্যাচ জিতেছে। সফরকারীদের বিরুদ্ধে ১৮৬ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিক দল। এ জয়ে হাসছে বাংলাদেশ। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছে পুরো দেশ। আগেই দুইটা ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয়ায় স্বাগতিক দলের অপেক্ষা ছিল হোয়াটওয়াশ দেখার। চট্টগ্রামকে সব সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য লাকী গ্রাউন্ড বলা হয়। খেলোয়াড়রাও তা মনে করেন। লাকী গ্রাউন্ডের মর্যাদা রাখলো জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। এ মাঠেই ১৮৬ রানে সফরকারীদের পরাজিত করে বাংলাওয়াশ করার স্বাদ নেয় মুশফিক বাহিনী। ঢাকা, খুলনার টেস্ট জয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামেও জয়। অন্য দুই জায়গার চেয়ে এটা একটু ভিন্ন, একটু ভারী, কিছুটা বেশিই মর্যাদার। আগের দুইটাতে যে ছিল শুধু জয়ের আনন্দ! চট্টগ্রামের মাঠে পেলো প্রতিপক্ষকে হোয়াইট ওয়াশ করার স্বাদ। এটা যে সম্পূর্ণ আলাদা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান মমিনুল হক আর সিরিজ সেরার পুরস্কার উঠে বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসানের হাতে। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মমিনুল বলেছিলেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম সেশন। রোববার  প্রথম সেশনে জিম্বাবুয়ের ৪ ব্যাটসম্যানকে সাজঘরের পথ দেখিয়ে দিতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। জয়ের প্রাথমিক মঞ্চটা ওই সময়ই তৈরি হয়ে যায়। চট্টগ্রাম টেস্টে ৪৪৮ রানে জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা জিম্বাবুয়ে ১ উইকেটে ৭১ রানে চতুর্থ দিন শেষ করে। পঞ্চমদিন তাদের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩৭৮ রান। হাতে ছিল ৯ উইকেট। ১৯১ রান যোগ করতে সব উইকেট হারায় জিম্ববাবুয়ে। সব উইকেট হারিয়ে ২৬২ রান সংগ্রহ জিম্বাবুয়ে। এতে ১৮৬ রানে জয়ী স্বাগতিকরা। এরআগে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ ৫০৩ রান। এর জবাবে ৩৭৪ রান সংগ্রহ করে বিম্বাবুয়ে। এতে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড নেয়। টেস্টের চতুর্থদিন ৩১৯ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। এতে ৪৪৮ রানে এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চমদিন সফরকারী দল জিম্বাবুয়ে বাংলা ওয়াশ হয়ে মাঠ ছেড়েছে। রোববার বাংলাদেশকে দিনের প্রথম সফলতা এনে দেন শুভাগত হোম। তার বলে হ্যামিলটন মাসাকাদাজা (৩৮) মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ক্রিজ ছাড়া হন। আগের দিন এক উইকেটে ৭১ রান নেয়া সফরকারী দলের দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর স্কোর দাঁড়ায় ৯৭/২ (২৬.৩ ওভার)। দিনের দ্বিতীয় সফলতাটিও শুভাগত হোমের হাত ধরে আসে। শুভাগতের বলে ৬৫ রান নেয়া সিকান্দার রাজা তাইজুলের হাতে ক্যাচ তুলে দিলে উল্লাসে ভাসে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের গ্যালারি। প্রথম ইনিংসে মাত্র একটি উইকেট পান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। টেলরকে (২৪)  ক্যাচের ফাঁদে ফেলে সাকিব দ্বিতীয় ইনিংসে তার বোলিং ফিগারে উইকেট যুক্ত করেন। এ ইনিংসেও সাকিব একটির বেশি উইকেটের দেখা পাননি। দলের ১৭৯ রানের মাথায় চিগুম্বরা আউট হলে পাঁচ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। চিগুম্বরার মূল্যবান উইকেটটি দখল করেন আগের ইনিংসে ৫ উইকেট নেয়া জুবায়ের হোসেন। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে চাখাভা ও আরভিন দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। আরভিনকে মাহমুদুল্লাহ এলবিডব্লিউ আউট করলে ভেঙ্গে যায় তাদের ৪৯ রানের জুটি। ৭১তম ওভারের ততৃীয় বলে তাইজুল এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরত পান মতুম্বামিকে। ব্যাটিংয়ে চাখাবার নতুন সঙ্গী পানয়াঙ্গারা। তাকে এলবিডব্লিউ আউট করে ফেরান রুবেল হোসেন। শফিউল ইসলাম মোসাকাদাজাকে বোল্ড আউট করলে ২৬২ রানে নবম উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর শুধু প্রতীক্ষা হোয়াইট ওয়াশ দেখার। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। ওই ওভারেই সাঙ্গওয়েকে এলবি ডব্লিউ করলে ২৬২ রানে অল আউট হয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। চাকাভা ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৮৬ রানে জয় পায় বাংলাদেশ। এর আগে ৪৪৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ করে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রান করার জবাবে জিম্বাবুয়ে ৩৭৪ রান করেছিল।

পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামে মটর চালিত যানবাহন চলাচল সকাল থেকেই বন্ধ। স্টেডিয়ামটিও শহর থেকে কিছুটা বাহিরের দিকে। সীমিত যানবাহনরে মধ্যে রিকসা কিংবা যেসব অটোরিক্সা সিএনজি চলছে সেগুলোতেও বাড়তি ভাড়া। তারপরও স্টেডিয়ামে বসে হোয়াইট ওয়াশ দেখার আনন্দ পেতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এসেছিল হাজার কয়েক দর্শক। তাদের নিরাশ করেননি টাইগাররা। আনন্দের অনুভূতি সাথে নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৫০৩ (ইমরুল ১৩০, তামিম ১০৯, সাকিব ৭১; রাজা ৩/১২৩) ও ৩১৯/৫ ডিক্লে. (মুমিনুল ১৩১*, তামিম ৬৫; পানিয়াঙ্গারা ২/৩১, মুশাংওয়ে ২/৭৭)।

জিম্বাবুয়ে: ৩৭৪ (চিগুম্বুরা ৮৮, রাজা ৮২, হ্যামিল্টন ৮১, চাকাবভা ৬৫; জুবায়ের ৪/৯৬) ও ২৬২ (রাজা ৬৫, চারি ০, মাসাকাদজা ৩৮, টেইলর ২৪, চাকাবভা ৮৯*, চিগুম্বুরা ৫, আরভিন ১৬, মুতুমবামি ২, পানিয়াঙ্গারা ২, শিঙ্গি ০, মুশাংওয়ে ০; রুবেল ২/১৬, শফিউল ২/১৭, জুবায়ের ২/৫৬, শুভাগত ২/৬৬, মাহমুদুদুল্লাহ ১/৪, জুবায়ের ১/৪৮)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ