ঢাকা, শুক্রবার 21 September 2018, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিশ্বের ক্রীতদাস রাজধানী ভারত!

সংগ্রাম ডেস্ক : বিশ্বের ক্রীতদাস রাজধানী হিসেবে উঠে এলো ভারতের নাম। ২০১৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব ক্রীতদাস তালিকায় সবার উপরে স্থান পেয়েছে ভারত।

সম্প্রতি প্রকাশিত সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে প্রতি বছর মোট এক কোটি বিয়াল্লিশ লক্ষ মানুষ বাধ্যতামূলক শ্রম ও পাচারের শিকার হচ্ছেন। সারা দুনিয়ায় বছরে মোট ৩.৫৮ কোটি মানুষ আধুনিক দাসত্বের কবলে পড়েন। এর মধ্যে ২.৩৫ কোটি মানুষ, অর্থাৎ ৬৮.৮% নাগরিকই এশীয়। গত সোমবার প্রকাশিত সমীক্ষার ফলে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট দাস সংখ্যার ৪৫ শতাংশই আসে শুধু ভারত ও পাকিস্তান থেকে। বলা হয়েছে, 'ভারত ও পাকিস্তানে অনেক ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক, এমনকি তার গোটা পরিবারই চুক্তিশ্রমের আঁওতায় নথিভুক্ত হয়ে নির্মাণ, কৃষি, ইটভাটা, বস্ত্রশিল্প ক্ষেত্রে বছরের পর বছর ধরে বন্দি রয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় ২০১৪ সালে দাসত্বের আঁওতায় যুক্ত হয়েছেন আরও ২৩ শতাংশ মানুষ। গোটা বিশ্বে ১৬৭টি দেশে দাসত্ব বলবৎ রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৫টি দেশে বিশ্বের ৬১ শতাংশ ক্রীতদাস বাস করে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'ভারতে দাস প্রথার বিকাশ ঘটছে নানা ভাবে। ১২০ কোটি জনসংখ্যার এক বড় অংশ নানা ভাবে দাসত্বের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বংশানুক্রমিক চুক্তিশ্রম, জোর করে বিয়ে দেয়া এবং যৌন নিগ্রহ। তফশিলি জাতি ও উপজাতি, ভিনরাজ্যের শ্রমিক এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই ধরণের দাসত্বের শিকার হচ্ছে। '

ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, চাকরির ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহিলাদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করা অথবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে করার মতো ঘটনার বহু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয়, অনেককেই বাধ্য করা হচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তি অথবা যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করতে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবপাচার রুখতে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে খাতায়-কলমে বহু সংশোধন ও সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৩ সালে আইনে নির্দিষ্ট পাচারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে সারা দেশে পাচার রোধকারী পুলিশ চৌকির সংখ্যা ২১৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৫০ জেলায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তা সত্বেও রোধ করা যায়নি পাচারের হার।– ওয়েবসাইট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ