ঢাকা, রোববার 23 September 2018, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টির অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে

জম্মু-কাশ্মীরে নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ তুলল পিডিপি। পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান, মেহবুবা মুফতি বলেছেন, ‘বিজেপি রাজ্যে সাম্প্রদায়িক স্ট্যান্ড নিয়েছে এবং মুসলিমদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করছে। তারা সাম্প্রদায়িক এজেন্ডা নিয়ে নির্বাচনে লড়ছে।’
তাঁর দাবি, ‘জম্মু-কাশ্মীরে পিডিপিই পারে পরিবর্তন আনতে। রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের জন্য তৈরি হয়েছেন। আমি আশা করছি বিধানসভা নির্বাচনে আমরাই জয়ী হব। জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ কর্মসংস্থান চায়। পিডিপিই পারে মানুষের আশা পূর্ণ করতে।’
পিডিপির অভিযোগ, জম্মু-কাশ্মীরে সংখ্যাগুরু ভোট ভাগ করতে চাইছে বিজেপি। দলের নেতা তারিক হামিদ কারা'র মতে,  ‘বিজেপি ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ পলিসি নিয়ে চলছে। দুর্ভাগ্যক্রমে বিজেপি চিনাব উপত্যকা ও পুঞ্চের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সাম্প্রদায়িক ও মেরুকরণের রাজনীতি শুরু করেছে। এই ধরণের রাজনীতির খারাপ দিকটা এক সময়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে।’
রাজ্যে শিখদের একটা বড় অংশ বিজেপিকে ভোট না দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে। রাজ্যের অল পার্টি শিখ কমিউনিটি কো-অর্ডিনেশন  কমিটি জানিয়েছে, কোনো দলকেই ধর্মের নামে ভাগাভাগি করতে দেয়া হবে না। সংগঠনের চেয়ারম্যান জগমোহন সিং রাইনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে তাদের প্রতি কোনো  সুবিচার করা হয়নি। কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের শিখদের কাছে ভোট চাওয়ার কোনো অধিকার নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা, মেরুকরণের বিরুদ্ধে এবং কাশ্মিরিয়াতের পক্ষে আমাদের লড়াই। কিন্তু কিছু মানুষ ইতোমধ্যেই ‘হিন্দু জম্মু, মুসলিম কাশ্মীর ও বৌদ্ধ লাদাখের তত্ত্ব খাড়া করতে চাইছে। এর তীব্র বিরোধিতা করা হবে।’ 
৮৭ আসনের বিধানসভায় বিজেপির লক্ষ্য ‘মিশন ৫০’। অর্থাৎ ৫০টি আসনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তারা। গত লোকসভা ভোটে বিজেপির ফল তেমন ভাল ছিল না এখানে। অনন্তনাগ, শ্রীনগর ও বারামুলা আসনে বিজেপির প্রার্থীরা সবমিলিয়ে মাত্র ১৫,৮৪৫ ভোট পেয়েছেন। ২০০৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই তিনটি আসন থেকে বিজেপি মাত্র ১৫৬৫০টি ভোট পেয়েছিল।
এবার সংবাদপত্রে পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দিয়ে বলা হচ্ছে, ‘চলুন জম্মু ও কাশ্মীরের হাল বদলাই, চলুন মোদির সঙ্গে চলি’।
বিজেপির শীর্ষ নেতারা ঘন ঘন বৈঠক করছেন মোদির স্বপ্ন সফল করে তুলতে। কিন্তু ৩৭০ ধারা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ায় বিজেপি অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিং বিবৃতি দিলেও এই ইস্যুতে বিজেপি বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।    

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ