ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুরসিকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারী কৌঁসুলীদের

মিশরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা। প্রসিকিউটর এমান এল-শারাউয়ি গত বুধবার আদালতকে বলেছেন, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি ও তার সহযোগীদের ফাঁসি দিতে হবে।
মিশরের সেনা-সমর্থিত আদালতে মুহাম্মাদ মুরসি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের ৩৫ জন নেতার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, ইসলামপন্থি দলটির এসব নেতা ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে মিশরকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিলেন। এ ছাড়াও তারা কয়েকটি দেশের কাছে মিশরের 'গোপন তথ্য' পাচার করেছেন। আগামী ২৬ নভেম্বর আদালতের পরবর্তী অধিবেশন বসবে। ওই দিন সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসি আত্মপক্ষ সমর্থন করে চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাবেন।
গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত মিশরের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি। পরবর্তীতে মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ করাসহ ইসলামপন্থি নেতা-কর্মীদের গণহারে হত্যা করে ও জেলে ঢুকিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দেয় সেনা-সমর্থিত অন্তর্র্বতী সরকার। ওই নির্বাচনে জেনারেল সিসি বিজয়ী হন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সরকার বিরোধী আন্দোলনে চালানো নির্বিচার গণহত্যায় অন্তত ১,৪০০ ব্যক্তি নিহত ও হাজার হাজার লোক আহত হয়। আটক করা হয় ২২,০০০ ইসলামপন্থি নেতাকর্মীকে। এ ছাড়া, মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রায় ২০০ সদস্যের বিরুদ্ধে এরইমধ্যে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জারি করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ