ঢাকা, বুধবার 19 September 2018, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

উইল্স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ প্রিন্সিপালকে জোরপূর্বক অব্যাহতি দিয়েছেন রাশেদ খান মেনন

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের প্রিন্সিপাল কর্নেল বাবর মোহাম্মদ সেলিমকে জোর পূর্বকভাবে অব্যাহতি দিয়ে কলেজ শাখার প্রধান আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার দুপুরে আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল করার লিখিত রেজুলেশনে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন স্বাক্ষর করেছেন বলে স্কুলটির একাধিক শিক্ষক জানিয়েছে।
জানা যায়, আবুল হোসেন স্কুলের শিক্ষিকা শ্যামলী হোসেনের খুব কাছের লোক। আর শ্যামলী হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক কবির বিন আনোয়ারের ছোট বোন।
তাই আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তারা এখন চাকরি হারানোর ভয়ে আছেন বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষিকা বলেন, রাশেদ খান মেনন জোরপূর্বক বর্তমান প্রিন্সিপালকে অব্যাহতি দিয়ে শ্যামলী হোসেনের লোক আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপালের দায়িত্ব দিয়েছেন। মেনন সাহেবের টার্গেট হলো আবুল হোসেনকে প্রিন্সিপাল বানানো। তিনি বলেন, আবুল হোসেন প্রিন্সিপাল হলে আমাদের সবাইকে স্কুল থেকে বের করে দেবেন।
বর্তমান প্রিন্সিপাল কর্নেল বাবর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আমি অসুস্থ। ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে আছি। স্কুল পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সাহেব শনিবার আবুল সাহেবকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল করার জন্য যে রেজুলেশন করা হয়েছে সেটিতে স্বাক্ষর করেছেন। আবুল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন।
এদিকে শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উইল্স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজকে উচ্চাভিলাষী কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের চক্রান্তের হাত থেকে রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে রিন্টু আনোয়ার বলেন কিছু কুচক্রী মহল ও অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপ্যাল  কর্ণেল বাবর মোঃ সেলিম (পিএসসি)কে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে স্কুলের অভিভাবক রিন্টো আনোয়ার বলেন, কোন সিভিল লোককে আমরা স্কুলের প্রধান হিসেবে মানি না এবং কখনো মানবো না। কর্নেল বাবরের কোন সমস্যা থাকলে সেটা অফিসিয়ালি সমাধান করে প্রয়োজনে সামরিক বাহিনী থেকে আরেকজনকে আনা হোক। কিন্তু মেনন সাহেব স্কুলের সভাপতি হিসেবে একজন স্টাফকে ডেকে এনে এভাবে রেজুলেশনে স্বাক্ষর করে একজনকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া কোন ভাবেই ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, মেনন সাহেবের এই সিদ্ধান্তের পর একজন অভিভাবক হিসেবে আমি আমার ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। তার এই সিদ্ধান্তে আমরা মর্মাহতও হয়েছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ