ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্যাক্তিগত আক্রোশে খুন হয়েছেন ড. শফিউল

# পুলিশ ‘জামায়াত নিয়ন্ত্রিত’ জঙ্গি সংগঠনের জড়িতের কথা বললেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি: মুখপাত্র

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যার ঘটনায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করার পর এবার আরো ছয়জনকে আটক করেছে র‌্যাব। তাদেরকে আটকের পর র‌্যাব বলেছে, এরাই হত্যাকান্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকারী’। কেন হত্যাকান্ডটি ঘটেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব আটককৃতদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানায়, ব্যক্তিগত আক্রোশে খুন হয়েছেন শফিউল। আক্রোশের প্রসংগ টানলে র‌্যাব দাবী করে, “আটককৃতদের একজন পিন্টু। তার স্ত্রী নাসরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সেকশন অফিসার। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল তার সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করেন এবং এর জের ধরে তাকে হত্যা করার কথা গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) কর্ণেল জিয়াউল আহসান জানান, শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও রাজশাহীর বিভিন্ন স্থান থেকে এই ছয় জনকে আটক করা হয়। এরা হলেন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টু, কাটাখালী পৌর যুবদলের নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক, টোকাই বাবু, মামুন, কালু ও সবুজ।

তাদের গতকাল রোববার বিকেলে উত্তরাস্থ র‌্যাব সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। তিনি এ সময় বলেন, “পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সেকশন অফিসার। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল তার সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ করেন এবং এর জের ধরে তাকে হত্যা করার কথা গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছেন।”

শফিউল হত্যাকান্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ‘জামায়াত নিয়ন্ত্রিত’ জঙ্গি সংগঠনের জড়িত থাকার কথা বললেও তার কোনো প্রমাণ পাননি বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান মুফতি মাহমুদ। তিনি বলেন, অধ্যাপক শফিউলের বাসা থেকে তার যে ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে, তারও কোনো সংশ্লিষ্টতা এ ঘটনায় পাওয়া যায়নি।

র‌্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যা পরিকল্পনায় জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও জামাই বাবু নামে আরো দুজন জড়িত। উজ্জ্বল ও পিন্টু পরামর্শ করে অধ্যাপক শফিউলের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজিয়ে বাকিদের নিয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেন মানিক। আর শফিউলের মাথায় কোপ দেন সবুজ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ