ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কাশ্মির জয়ে মরিয়া বিজেপি, ওমর বললেন দিবাস্বপ্ন

ভারত নিয়ন্ত্রিত  জম্মু-কাশ্মির রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিজেপি। তারা এই রাজ্যের ৮৭টি আসনের মধ্যে ৫০টি আসনের লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও ৪৪টি আসন পাওয়ার আশায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং চলতি নভেম্বরে এই রাজ্যে সফরে গেছেন। নির্বাচনী সভায় গিয়ে মোদি আবেদন করেছেন রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই রাজ্যকে ভালোবাসি, এজন্য এতবার আমি কাশ্মীরে এসেছি।’ মোদি সরাসরি আব্দুল্লাহ এবং মুফতি পরিবারের নাম করে বলেন, ‘দু’টি পরিবারই এ রাজ্যকে লুট করছে। এদের ক্ষমতা থেকে ছুঁড়ে ফেলতে হবে। এবার ভোটে এটাই হবে এদের শাস্তি।’
মোদির এসব বক্তব্যকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, ‘এসব অভিযোগের কোনো  ভিত্তি নেই। আসলে উনি বড্ড বেশি ভয় পেয়ে গেছেন বলে এসব কথা বলছেন। আমরা যদি সত্যিই রাজ্যকে লুট করতাম, তাহলে মানুষ আমাদের ক্ষমতায় রাখতেন না। তাঁদের হৃদয়ের সমর্থন নিয়েই আমরা জিতে আসি। এটা দিনের আলোর মতো স্বচ্ছ এবং প্রমাণিত।’
এদিকে, ওমর আবদুল্লাহ বিজেপির ৪৪টি আসন পাওয়ার আশাকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপির নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেছেন, ‘দেশের একটি শক্তি মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগকে ব্যবহার করে দেশভাগের চেষ্টা চালাচ্ছে।’ রাজ্যের বিরোধী দল পিডিপি পার্টি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে বলেও সমালোচনা করেছেন তিনি।
কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীও অভিযোগ করেছেন,  ‘বিভাজনের রাজনীতি করে বিজেপি দেশ ভাগ করতে চাইছে। তাদের থেকে সতর্ক থাকা উচিত।’
গত শনিবার কিশতওয়ারে নির্বাচনী সভায় এসে মোদি ৩৭০ ধারা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তার এই নীরবতাকেই অস্ত্র করে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘বিতর্কে জড়িয়ে পড়তে পারে ভেবেই ওরা বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছে। জম্মুর একটা অংশে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করাকে ওরা নির্বাচনী বিষয় বানিয়ে ফেলেছে। অন্য অংশে ৩৭০ ধারা নিয়ে বিজেপি পুরোপুরি নিশ্চুপ। আর কাশ্মীরে ওদের প্রার্থী বলেছেন, ৩৭০ ধারা তুলে দেয়া হলে বন্দুক তুলে ধরবেন– নিজেরাই তো পরস্পর বিরোধী কথা বলছে।’
অন্যদিকে পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি মোদির পরিবারতন্ত্র নিয়ে কটাক্ষের জবাব দিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচন আসন্ন বলেই এভাবে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এধরণের সমালোচনা তাঁর অজ্ঞতারই পরিচয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী  যে কোনো বিষয়ে জেনেশুনে মন্তব্য করবেন এটাই সকলে আশা করে, কিন্তু অভিযোগেই স্পষ্ট, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তার জ্ঞানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।’
জম্মু কাশ্মিরে প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৫ নভেম্বর। পাঁচ দফার নির্বাচন শেষ হবে ২০ ডিসেম্বর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ