ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গত ১৬ বছরে খুলনায় ২১৪ জন বিদেশ থেকে লাশ হয়ে ফিরেছে

খুলনা অফিস: খুলনা থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৫ জন নারীসহ ৪৪ জন কাজের জন্য (অভিবাসনে) বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে। আর বছরে এ গড় সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২ জন নারীসহ ৫২৬ জন। আর বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিবছর খুলনায় ফেরত আসে গড়ে ১৩ জনের লাশ। খুলনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস এ তথ্য জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেকে দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার আশায় প্রকৃত ঠিকানা ও জন্ম তারিখ গোপন করেন। ফলে অভিবাসীদের মৃতদেহ নিয়ে তথ্য বিভ্রান্তির কারণে অনেকের লাশ বিদেশে পড়ে থাকে।
১৯৭৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত খুলনা থেকে ২০ হাজার জন কাজের জন্য বিদেশে গেছে। এদের মধ্যে ২ হাজার নারী রয়েছে। খুলনা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, বাহরাইন ও কাতারে গমনেচ্ছুদের ভিসা যাচাই করা সম্ভব হয়। অন্য দেশের ভিসা যাচাইয়ের জন্য আগ্রহীদের ঢাকায় যেতে হয়। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে ২১৪ জনের মৃতদেহ খুলনায় ফিরেছে। অর্থাৎ গত ১৬ বছরে প্রবাস থেকে লাশ হয়ে ফিরছে ২১৪জন। এর মধ্যে ১৭৪ জনের শরিকদের মাঝে অর্থ সহায়তা বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। লাশ পরিবহন ও দাফন বাবদ ৫৬ জনকে ১২ লাখ টাকা, ৬১ জনের বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং আর্থিক অনুদান বাবদ সাত জনকে তিন লাখ ৭৫ হাজার ৯৯ টাকা দেয়া হয়েছে। আরও ৪০টি মৃতদেহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের উপসহকারী পরিচালক শেখ আজিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে অভিবাসী শ্রমিকদের লাশ দেশে আনার পর বিমানবন্দর থেকে লাশ পরিবহন ও দাফন বাবদ ৩৫ হাজার টাকা দেয়া হয়। এরপর আর্থিক অনুদান বাবদ সরকার দিচ্ছে তিন লাখ টাকা।
খুলনা জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের জনশক্তি জরিপ অফিসার শেখ আব্দুল হাকিম বলেন, শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও ক্ষতিপূরণের অর্থ রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আদায় করার পদক্ষেপ নেয়া হয়।
খুলনা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সহকারি পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, পাসপোর্ট করার সময় অনেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য প্রকৃত ঠিকানা ও জন্ম তারিখ গোপন করে থাকে। ফলে জটিলতা দেখা দেয়। এ জটিলতার কারণে অভিবাসীদের মৃত্যুর পর তার মৃতদেহ নিয়ে তথ্য বিভ্রান্তি হয়। ফলে অনেক লাশই বিদেশে পড়ে থাকে। দেশে আসে না। আর চাকরির নামে পাচার হওয়া নারীরাও বিপদের মধ্যে থাকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রকৃত তথ্য পাসপোর্টে দেয়া উচিত।
বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক এসোসিয়েশনের (বোমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে অভিবাসী শ্রমিকদের ৭০-৯০টি লাশ বিমানবন্দরে আসে। এর মধ্যে কমপক্ষে ২০টিই থাকে নারীর মৃতদেহ। তিনি বলেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন-২০১৩ অনুযায়ী বিদেশে কাজের জন্য গমণকারীরা অভিবাসী। যা আইনের ২ ধারার ১ উপধারায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, নানা জটিলতার কারণে দেশে আসা অভিবাসীদের অনেক মৃতদেহ মর্গে পড়ে থাকে। আবার এ সংক্রান্ত আর্থিক অনুদান ও ক্ষতিপূরণের বড় অংশই শরিকদের দেয়া সম্ভব হয় না। যা সরকারের কোষাগারে মজুদ থাকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ