ঢাকা, বুধবার 19 December 2018, ৫ পৌষ ১৪২৫, ১১ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নেপালে জনসভার অনুমতি পেলেন না মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

সংগ্রাম ডেস্ক: নেপালে জোরালো ধাক্কা খেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শেষ পর্যন্ত নেপাল সরকার তাকে জনসভা করার অনুমতি দেয়নি।

সার্ক শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে মঙ্গলবারই মোদি কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন। এই সফরে জনকপুর, লুম্বিনী ও মুক্তিনাথেও যাবার ইচ্ছা ছিল মোদির। ভারতের তরফ থেকে নেপাল সরকারকে জানানো হয়েছিল মোদি এই তিন জায়গায় ‘খোলা সভা’ করতে চান। প্রাথমিক ভাবে নেপাল সরকার অনুমতিও দিয়েছিল। কিন্তু জোরালো প্রশ্ন ওঠে নেপালের রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে সংসদেও।

একাধিক রাজনৈতিক দলের সাংসদরা প্রশ্ন করেন, সার্বভৌম নেপালে কেন জনসভা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী? তিনি ব্যক্তিগত সফরে বেড়াতে যান, আপত্তি নেই। কিন্তু মোদিকে জনসভা করতে দেয়া যাবে না। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সংক্রান্ত উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, তিন জায়গাতেই ধর্মীয় স্থানে মোদি যাবেন এই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুধু সরকারি আতিথেয়তার অনুষ্ঠানে রাজি হয়নি। সুতরাং মোদির ওই তিন জায়গা সফরই বাতিল হয়ে গেছে।

কাঠমান্ডু পৌঁছে মোদি বলেছেন, এই তিন জায়গায় যাবার জন্য ইচ্ছা ছিল আমার। যেতে পারছি না সময়ের অভাবে। এর ফলে এই এলাকার মানুষ যে ‘হতাশ’ হবেন, তা-ও অনুভব করছি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ কারণ দেখিয়েছেন, সংসদ অধিবেশন চলছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে ফিরে যেতে হবে। যদিও এই ব্যাখ্যা রাজনৈতিক-কূটনৈতিক মহলে ধোপে টিকছে না। ভারতে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের সময়সূচি নির্ধারিত হয়েছিল অনেক আগেই। অথচ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২১ নভেম্বর পর্যন্তও মোদির জনসভার জন্য তদ্বির চালাচ্ছিলেন।

নেপালের রাজনৈতিক মহলে মোদির এই প্রস্তাবিত অনুষ্ঠান ঘিরে একাধিক প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছিল। তরাই অঞ্চলে কোনো কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ভারতের তরফে বাড়তি প্রশ্রয় দেবার অভিযোগ আছে। এই ধরনের জনসভা বিভেদের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে জনকপুরের প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানটিকে ‘নেপাল সরকারের’ অনুষ্ঠানে পরিণত করতে দু-একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দিয়ে ভাষণ দেওয়ানো হবে বলেও ঠিক হয়েছিল। জানা গেছে, মাওবাদীরা জানায় তারা প্রতিবাদ কর্মসূচিও করবে। মোদি জনসভা করলে সেখানেই সমান্তরাল সভা হবে। নেপাল সরকার তারপরে অনুষ্ঠানের অনুমোদন প্রত্যাহার করে নেয়।
আ.হু/সংগ্রাম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ