ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডেসটিনির ৫১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন শুনানি ১৫ জানুয়ারি

আদালত প্রতিবেদক: চার হাজার ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগের পৃথক দুটি মামলায় ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমিনসহ ৫১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানি আগামি ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র স্পেশাল জজ ইমরুল কায়েস এ তারিখ ধার্য করেন। ডেসটিনির চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) হারুন অর রশিদ আদালতে হাজির ছিলেন। এছাড়া রফিকুল আমিন ও ডেসটিনির পরিচালক মোহাম্মদ হোসেনকেও জেলহাজত থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ১১ জুন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জহুরুল হক চার্জশিট দুটি গ্রহণ করে পলাতক ৪৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত ৪ মে মামলা দুটিতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে ডেসটিনির চেয়ারম্যান, এমডি ও সাবেক সেনাপ্রধানসহ মোট ৫১ জনকে আসামি করা হয়। মামলা দুটির মধ্যে ৩২ নং মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ১৯ জনের বিরুদ্ধে আর ৩৩ নং মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে। দুটি মামলায় একই ব্যক্তি দুটি মামলায় আসামি হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা ৫১। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসার জন্য সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড এবং ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের নামে বিভিন্ন প্যাকেজের শেয়ার দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন গ্রুপের পরিচালকেরা। ওই সব অর্থ ৩২টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের নামে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসেবে স্থানান্তর করেছেন ডেসটিনির পরিচালকেরা।

আসামিরা হলেন- সাবেক সেনাপ্রধান ও ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) হারুন-অর-রশিদ, ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীন, তার স্ত্রী ফারাহ দীবা, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোফরানুল হক, পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন, সাঈদ-উর-রহমান, সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, জমশেদ আরা চৌধুরী, ইরফান আহমেদ, শেখ তৈয়বুর রহমান, নেপাল চন্দ্র বিশ্বাস, জাকির হোসেন, আজাদ রহমান, আকবর হোসেন, শিরিন আক্তার, রফিকুল ইসলাম সরকার, মজিবুর রহমান, সুমন আলী খান, সাইদুল ইসলাম খান, আবুল কালাম আজাদ এবং ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) দিদারুল আলম। তদন্তে এ মামলায় নতুন করে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাকিবুজ্জামান খান, এস এম আহসানুল কবির, এ এইচ এম আতাউর রহমান, গোলাম কিবরিয়া, মো. আতিকুর রহমান, খন্দকার বেনজীর আহমেদ, এ কে এম সফিউল্লাহ, শাহ আলম, দেলোয়ার হোসেন, বেস্ট এভিয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান এম হায়দার উজ জামান, উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন, সাবেক প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কাজী ফজলুল করিম এবং সাবেক কর্মকর্তা মোল্লা আল আমীন। আত্মসাতের ঘটনায় সহযোগী হিসেবে আরও অভিযুক্ত হচ্ছেন- বনানীর ইসলাম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের শফিউল ইসলাম, বাগেরহাটের জিয়াউল হক মোল্লা, জেসমিন আক্তার, ফিরোজ আলম, শাহাজাদপুরের সেতু এন্টারপ্রাইজের সিকদার কবিরুল ইসলাম, বনানীর মমতাজ এন্টারপ্রাইজের ওমর ফারুক, ডিভেক রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন, ডেসটিনি গ্রুপের কন্ট্রোলার সুনীল বরণ কর্মকার, ডেসটিনি-নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস সহিদুজ্জামান, ডায়মন্ড বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ডেসটিনি এয়ার সিস্টেমসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আকতার ও ডেসটিনি গ্রুপের এডভাইজার শফিকুল হক।

দুদকের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরদার এবং সহকারী পরিচালক মো. তৌফিক দীর্ঘ তদন্তের পর বহু প্রতিক্ষিত এ চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির (ডিএমসিএসএল) মামলায় আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুন মাস পর্যন্ত সাড়ে আট লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এ সময় ঋণ প্রদান, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, নতুন প্রতিষ্ঠান খোলার নামে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসামীরা এক হাজার ৯০১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা করে। সে অর্থ থেকেই আসামিরা লভ্যাংশ, সম্মানী ও বেতন-ভাতার নামে এক হাজার ৮৬১ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সরিয়ে নেন। দুদকের অপর মামলাটি ছিল ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেড (ডিটিপিএল) সংক্রান্ত। বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত শাখা জানায়, ২০০৬ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০০৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে গাছ বিক্রির নামে ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) জন্য দুই হাজার ৩৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। এ অর্থ থেকে দুই হাজার ২৫৭ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ২২৭ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ