ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

টুনির পুন:ময়না তদন্ত রিপোর্টে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে

স্টাফ রিপোর্টার: নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘এইসব দিনরাত্রি’র টুনি খ্যাত নায়ার সুলতানা লোপার পুন:ময়নাতদন্তে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কারো পক্ষে প্রভাবিত না হয়ে সঠিক ময়না তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার দাবি করেছেন লোপার মা রাজিয়া সুলতানা।
গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লোপার মা রাজিয়া সুলতানা এই দাবি করেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, পুলিশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত রিপোর্টের মধ্যে অনেক গরমিল রয়েছে। যার কারণে প্রথমবার করা ময়নাতদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসেনি বলে অভিযোগ করা হয়। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লোপার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুন:ময়নাতদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজিয়া সুলতানার দাবি, মাদকাসক্ত ও পরকীয়ার কারণে তার মেয়ে লোপাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে স্বামী আলী আমিন। ২০০০ সালে আলী আমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় লোপার। গায়ে হলুদের দিন একজন পুলিশের মাধ্যমে তার পরিবার জানতে পারে আলী আমিন মাদকাসক্ত। কিন্তু অনুষ্ঠান এতদূর গড়িয়েছে যে ঐ সময় বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হয়েছিলো, আলী আমিনকে শোধরানো যাবে। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। মাদকাসক্ত ও পরনারীর প্রতি আসক্তির অভ্যাস পাল্টেনি তার।
সম্প্রতি সাজ নামে আমেরিকা প্রবাসী এক মেয়ের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরকীয়ায় জড়ায় আলী আমিন। সাজ দেশে আসলেই আমিনের বাসায় আসতো। সারারাত দুজন একসঙ্গে থাকার পর ভোরে সাজকে গাড়ি দিয়ে তার মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হতো। আলী আমিনের পরকীয়ার বিষয় ধীরে ধীরে লোপার কাছে স্পষ্ট হতে থাকে। যা সহ্য করতে পারে না আলী আমিন। যার কারণে সুযোগ বুঝে পরিকল্পিতভাবে লোপাকে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে।
রাজিয়া বলেন, আত্মহত্যা করলে গলার হাড় ভেঙ্গে যেত কিন্তু সেটা ভাঙ্গেনি। ঝুলন্ত অবস্থায় লোপার কোমরে ওড়না বাঁধা ছিলো। কেউ নিজে ফাঁস দিলে তার কাপড় কোমরে প্যাঁচানো থাকার কথা নয়। পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে হাত, কনুই ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার পুরোটাই চেপে যাওয়া হয়েছে। রাজিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, আলী আমিন ও তার পরিবার বিপুল পরিমাণ অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাল্টে দিয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যার আগে আলী আমিন বাসার দলিল, ব্যাংকের চেক, লকারের চাবি, আইপট, প্রেমিকার দেয়া উপহার সামগ্রীসহ মূল্যবান জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। আলী আমিন আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। এখন মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ