ঢাকা,মঙ্গলবার 13 November 2018, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্রিটেনে মুসলমানরা চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার

সম্প্রতি নতুন এক গবেষনার জরিপে দেখা গেছে, ব্রিটেনের মুসলমানরা চাকরির বাজারে সবচেয়ে বেশি বঞ্চনা আর অবহেলার শিকার।
ড. নাবিল খাত্তাব এবং প্রফেসর রন জনস্টন নামের দুই গবেষক তাদের গবেষণার মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টে এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন।
গবেষণায় তারা দেখিয়েছেন, চাকরি বিশেষ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ম্যানেজারিয়েল পদে ব্রিটিশ মুসলমানেরা চাকরি লাভের ক্ষেত্রে অনুপযুক্ত হন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ কিংবা খ্রিস্টানদের চাইতে মুসলমান পুরুষদের জব লাভের সম্ভাবনা ৭৬ শতাংশ আর মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ৬৫%।
চাকরিদাতারা ক্রমশ মুসলমানদের হুমকি হিসাবে দেখছে। মুসলমানদের দেখা হচ্ছে এমন একটি সম্প্রদায় হিসাবে যাদের কোনো আনুগত্য নেই।
ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. নাবিল খাত্তাব ইন্ডিপেন্ডকে বলেন, "ক্রমবর্ধমান ইসলাম বিদ্বেষের কারণে মুসলমানদের এখন এদেশের বর্ণ, সংস্কৃতি এবং জাতিগত কাঠামোর সর্বনিম্নে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ড. খাত্তাব হুঁশিয়ার করেছেন, সাম্প্রদায়িক এ বৈষম্য চলতে থাকলে, ব্রিটেনের বহুজাতিক সমাজের জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে চরম অনীহা দেখা দিতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয় মুসলিমদের মধ্যে চাকরি পাওযার তুলনামূলক সম্ভাবনা সবচেয়ে কম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের। পুরুষদের ক্ষেত্রে, সম যোগ্যতার খ্রিস্টান একজন প্রার্থীর চেয়ে একজন বাংলাদেশি মুসলিমের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ৬৬ শতাংশ কম। এই সংখ্যা পাকিস্তানী মুসলিমদের ক্ষেত্রে ৫৯ শতাংশ। বাংলাদেশি মুসলিম নারীদের চিত্রটি অপেক্ষাকৃত ভালো। ব্রিটেনে নিয়মিত বেতনের চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি খ্রিস্টানদের। চাকরি করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম এইরকম ৬৪ শতাংশ খ্রিস্টান কোনো না কোন নিয়মিত বেতনের চাকরি করছেন । এর পরেই আছেন ভারতীয় হিন্দুদের যা ৫৭%। সেই তুলনায় বাংলাদেশি মুসলিমদের মাত্র ২৩% এবং পাকিস্তানী মুসলিমদের ২৭% চাকরি করছেন বলে তারা গবেষণায় পেয়েছেন।
বৃটেনে নিয়মিত বেতনের চাকরি পাওয়ার সুযোগ এবং সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ইহুদিদের। চাকরি করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম এরকম ৬৪ শতাংশ ইহুদিই যে কোন নিয়মিত বেতনের চাকরি করছে।
ডঃ খাত্তাব অবশ্য এখানে আরো যোগ করেছেন এই বলে যে, এক্ষেত্রে প্রধান বাঁধাগুলোর মধ্যে তিনি স্কিন, কালার ও রিলিজিয়ন ব্যারিয়ারকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখতে পেয়েছেন। তারপরেও তিনি বলেন, কালার হয়তো ডায়নামিক, হয়তো একজনের ক্ষেত্রে হয়েছে কিন্তু আসল কারণ হলো মুসলিম আইডেন্টিটি, যা ভারতীয় হিন্দু- ডার্ক স্কিন কালার সত্যেও এধরনের বৈষম্য বা তারতম্যই পরিলক্ষিত হয়নি যতোটুকু মুসলিম রিলিজিয়নের কারণে হয়েছে ।



অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ