ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পুলিশ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে : আকবর আলী খান

অনলাইন ডেস্ক : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশের পুলিশ পুরোপুরি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। যদি পুলিশ কমিশন গঠন করা না হয়, পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন করা না হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। আকবর আলী বলেন, “পুলিশ যেন রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে পারে এটির জন্য পুলিশ অ্যাক্ট পরিবর্তন করতে হবে।”

বিচার বিভাগ পৃথককরণের সাত বছর উপলক্ষে শনিবার এক মুক্ত আলোচনায় এ কথা বলেন আকবর আলি খান। জাতীয় প্রেস ক্লাবে এ আলোচনার আয়োজন করে হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন। মুক্ত আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান।

পুলিশের কর্মকাণ্ডের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ যে পরিমাণ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিয়েছে তার মধ্যে মাত্র ২৩-২৪ শতাংশ মামলায় অপরাধী সাজা পেয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এফআইআরের কথা উল্লেখ নেই। “এফআইআরসহ ধরলে অপরাধী সাজাপ্রাপ্ত হওয়া মামলার সংখ্যা ১০-১২ শতাংশে নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তার মানে প্রায় ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে যে কেউ অপরাধ করলে তার সাজা হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতি দেশকে দুর্বৃত্তের অভয়ারণ্যে পরিণত করছে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে এখনো বৃটিশ আইনিব্যবস্থা প্রচলিত, যা অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। এই আইনিব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।” আকবর আলি খান বলেন, “দেশের বিচারব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন দরকার। এ লক্ষ্যে ফৌজদারি কার্যবিধি, সাক্ষ্য আইন, দেওয়ানি কার্যবিধিসহ প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করতে হবে।” তিনি বলেন, “আগে নিম্ন আদালতে জামিন না পেলে মানুষ উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন পেত। কিন্তু বর্তমানে নিম্ন ও উচ্চ আদালতের মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।” আকবর আলি খান বলেন, “একটি মামলা নিষ্পত্তি করতে যদি ৫০ থেকে ১০০ বছর লেগে যায়, তাহলে এমন বিচার বিভাগ দিয়ে কি লাভ।” দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি আমিরুল কবির চৌধুরী বলেন, “বিচার বিভাগের কার্যক্রমের ওপর নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপ এখনো চলছে।” এ বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “প্রশাসনের হাত যতদিন না সংকুচিত করা হবে, ততদিন পর্যন্ত বিচার বিভাগ স্বাধীন হবে না।” বিচার বিভা্গকে কাঠামোগতভাবে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার ইকতেদার আহমেদ বিচার বিভাগের পৃথকীকরণকে কথিক পৃথকীকরণ উল্লেখ করে বলেন, “উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। অতীতে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা মানা হতো কিন্তু বর্তমানে তা চরম ভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।” তিনি বলেন, “এই সরকারের আমলে বিরোধী মতাদর্শের লোকদের রিমান্ড দেয়া এবং জামিনের ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগ প্রভাব বিস্তার করছে।”

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান। লিখিত বক্তব্য মিজানুর রহমান খান বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সাত বছর পূর্ণ হলেও মাসদার হোসেন মামলায় পৃথকীকরণের সুপারিশগুলো আজও বাস্তবায়িত হয়নি। মিজানুর রহমান খান তার প্রবন্ধে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে ৯টি সুপারিশ করেন। এর মধ্যে মাসদার হোসেন মামলার রায় সংশোধনে উদ্যোগী হওয়া, সব অবস্থায় কোনো বিচারকের বদলি বা কর্মস্থল পরিবর্তন করার প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে হওয়া, বিচার বিভাগের তদারকির জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে পৃথক সচিবালয় চালু, মামলার জট নিরসনে উদ্যোগী হওয়া, হাইকোর্টে বিচারক নিয়োগে জেলা জজদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিল সংশোধন তথা আইন প্রণয়নের এখতিয়ার সচিবালয় থেকে সংসদে স্থানাস্তর করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

টিভি টকশোর আলোচক ও সাপ্তাহিক সম্পাদক গোলাম মোর্তোজা সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড.এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী ও সাবেক বেশ কয়েকজন বিচারক।

আ.হু/সংগ্রাম

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ