ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাগর-রুনী হত্যা মামলায় আটক তানভীরের জামিন বহাল

স্টাফ রিপোর্টার: সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী হত্যা মামলায় আটক তানভীর রহমানের জামিন স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। ফলে তার জামিন বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। হাইকোটের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে সরকার আবেদন করলে আজ রোববার শুনানি শেষে চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এতে ‘নো অর্ডার করেন।
তানভীর রহমানের আইনজীবী ফাউজিয়া করিম ফিরোজ বলেন, আদালত ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। ফলে তার জামিন বহাল থাকছে। এখন তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের পক্ষে করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ২ ডিসেম্বর বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি এস এইচ মো.নুরুল হুদা জায়গীরদার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ তানভীর রহমানকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। একইসঙ্গে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
গত ১৩ জুলাই রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের পক্ষে তানভীর  রহমানের জামিন চেয়ে একটি রিট দায়ের করা হয়। এর আগে পাঁচবার তার জামিন নাকচ হয়েছিল হাইকোর্টে।
রিটে তানভীর রহমানের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল চাওয়া হয়। পাশাপাশি বেআইনীভাবে আটক করা হয়নি নিশ্চিত হতে তাকে কেন হাইকোর্টে হাজির করা হবে না, মর্মেও রুল চাওয়া হয়।
আবেদনের পরে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিও হয়। আদালত রিটের শুনানি মুলতবি করে নিম্ন আদালতের জামিন না মঞ্জুরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের জামিনের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদন করার কথা বলে আবেদনটি নথিতে রেখে দেন।
তানভীর রহমানের বাবা মাহাবুবুর রহমান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় তানভীর। তিনি স্কলাসটিকা স্কুলের শিক্ষার্থীবিষয়ক কর্মকর্তা। আটক হওয়ার পর ২০১২ সালের ১০ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব। তবে আইনজীবীর দাবি, তাকে ওই বছরের ১ অক্টোবর আটক করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এ হত্যায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব।
আটক হওয়ার পর তানভীর নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করেন। সেখানে খারিজের পর হাইকোর্টে আবেদন করলে ২০১৩ সালের ২ জুন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে। পরে একটি অবকাশকালীন বেঞ্চ স্বল্প সময়ের জন্য জামিন দিয়ে তা নিয়মিত বেঞ্চে বর্ধিত করতে বলে। আদেশের অনুলিপি না পাওয়ায় সেই আদেশে কারাগার থেকে বের হতে পারেননি তানভীর। এরপর নিয়মিত বেঞ্চ আর জামিনের মেয়াদ বাড়ায়নি। পরে নিম্ন আদালতে আবার খারিজ হওয়ার পর হাইকোর্টে এলে গত এপ্রিলে তা আবার উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়।
ছেলের বিনা-বিচারে আটকের বিরুদ্ধে সহায়তা চেয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি তানভীরের বাবা মাহবুবুর রহমান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে আবেদন করেন। সেই আবেদন বিবেচনায় নিয়ে কমিশন ও কমিশনের চেয়ারম্যান বাদী হয়ে এই রিট করেন।
সাগর-রুনী হত্যার ঘটনায় ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনীর ভাই নওশের আলম। আগেরদিন রাজাবাজারের নিজ বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ