ঢাকা,বুধবার 14 November 2018, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লুটপাটে ব্যস্ত অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা

সংসদ রিপোর্টার: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর, এমনকি দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোরও অর্থের যোগানদাতা অর্থ মন্ত্রণালয়েই অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের অর্থ নাশ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কাজের চেয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন লুটপাটে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে আজ রোববার অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়কালীন (২০০৮-০৯ অর্থবছর) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সংক্রান্ত সিএন্ডএজির অডিট প্রতিবেদনে এসব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, পঞ্চানন বিশ্বাস, আ.ফ.ম. রুহুল হক, মো. আফছারুল আমীন, গোলাম দস্তগীর গাজী, বেগম রেবেকা মমিন এবং শামসুল হক টুকু অংশ নেন। সিএন্ডএজি মাসুদ আহমেদ, এনবিআর’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।   
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বছরে বিধি বহির্ভূতভাবে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ২৪০ টাকা রেয়াত প্রদানের মাধ্যমে সরকারের অর্থ ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়া আমদানীকৃত উপকরণ উৎপাদনে ব্যবহার না করায় এক কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫২৭ টাকা এবং আয়কর অফিসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক হিসাব বিবরণীতে প্রদর্শিত বিক্রয় অপেক্ষা ভ্যাট অফিসে কম বিক্রয় প্রদর্শন করে আরো এক কোটি ৯৮ লাখ ৩ হাজার ৬৭৬ টাকা রাজস্ব ক্ষতি করা হয়েছে। কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে ত্রি-পক্ষীয় সভার আয়োজন করে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করে সার্বিক অগ্রগতি অনধিক ৩০ দিনের মধ্যে অডিট অফিসের মাধ্যমে কমিটির নিকট উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে।
প্রকৃত উৎপাদন অপেক্ষা কম উৎপাদন দেখিয়ে ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৯ হাজার ৫৩২ টাকা ক্ষতি এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন কর পরিশোধে ৬ কোটি ৭৮ লাখ ৬২ হাজার ২৫৭ টাকা ১৮ পয়সা রাজস্ব ক্ষতি, অনুমোদিত মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে পণ্য খালাস /বিক্রয়  করায় ২ কোটি এক লাখ ১৩ হাজার ৮৩৭ টাকা ৩৩ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে যেসব কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন এবং গ্রীন লাইন পরিবহন মূল্য সংযোজন কর কম পরিশোধ করায় ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ৬৩৪ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে মর্মে উত্থাপিত অডিট আপত্তির প্রেক্ষিতে কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি অডিট অফিসের মাধ্যমে কমিটির নিকট উপস্থাপনের সুপারিশ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ