ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শার্শায় যুবলীগ নেতা হত্যার প্রতিবাদে ৪/৫টি বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় গত বৃহস্পতিবার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষে গুরুতর আহত যুবলীগ নেতা তোজাম (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি ক্লিনিকে আজ সোমবার ভোর রাতে মারা যান। একটি মেয়েলি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি রহিমের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে যুবলীগ নেতা তোজামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে কুপিয়ে জখম করে। তোজামের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে। সেখানে ৪ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সোমবার ভোর রাতে সে মারা যায়। তোজামের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে নাভারণে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তোজামের সমর্থক ও আওয়ামীলীগের একটি অংশ তাৎক্ষনিকভাবে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিমের বাড়ি, তার শ্বশুর বাড়ি, বোনের বাড়িসহ ৪/৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এছাড়া উত্তজিত জনতা ছাত্রলীগ কর্মী সাজনের বাড়িও ভাঙচুর করে ও আগুন দেয়।  এসময় বাড়িতে থাকা রহিমের মা ও স্ত্রীকে অবরোধ করে রাখলেও শার্শা অফিসার ইনচার্জ শহিদার রহমান পুলিশ নিয়ে তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে। নাভারণ -সাতক্ষীরা ও যশোর-বেনাপোল সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর শুনে শার্শা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতার তোপের মুখে তা ব্যার্থ হয়। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর যশোর থেকে ডাঙ্গা পুলিশ আসে এবং দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এ ঘটনায় নাভারণ সাতক্ষীরা মোড়ে অবরোধ অবস্থায় স্থানীয় আওয়ামীলীগ বিক্ষোভ সমাবেশ করে। উত্তেজিত জনতা ছাত্রলীগ সভাপতি রহিমের বাড়িতে আগুন জ্বালানোর পর তার মার্কেটে ছাত্রলীগের দলীয় কার্যালয়সহ ৬/৭টি দোকানেও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উত্তেজিত করতে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর শুনে শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান, সিরাজুল হক মঞ্জু ও উপজেলা নির্বাহি অফিসার এটিএম শরিফুল আলম ঘটনাস্থলে আসে এবং তোজাম হত্যার সুষ্ঠ বিচার হবে বলে আশ্বাস্ত করেন। এসময় তোজামের সমর্থকরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিমের ফাঁসির দাবি ও তার সাথে থাকা সকল খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জনান। এ ঘটনায় উত্তেজনা চলছে। নিহত তোজামের মৃতুদেহ এখন পর্যন্ত শার্শায় এসে পৌঁছায় নি। এ ঘটনায় পরিস্থিতি সামাল দিতে যেয়ে শার্শা থানার এ এস  আই বখতিয়ার সহ কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল ইটের আঘাতে আহত হন। আহত এ এস আই বখতিয়ারের শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রহিমসহ ১২জনকে আসামী করে শার্শা থানা মামলা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ