ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্কুল বন্ধ করে কাল বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল

মোস্তফা মোঘল, বগুড়া অফিস: দীর্ঘ ১০ বছর পর আগামীকাল বুধবার সকাল ১০টায় বগুড়া জিলাস্কুল মাঠে জেলা আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিচ্ছেন ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের প্রায় ৫০ হাজার প্রতিনিধি। কাউন্সিলকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে নেতাকর্মিদের মাঝে। তবে, বহুল প্রতিক্ষিত এই কাউন্সিলেও নেতৃত্বে পরিবর্তনের তেমন কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছেনা। সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতিই বহাল থাকছেন এটা অনেকটাই নিশ্চিত। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা রয়েছে।
এদিকে, কাউন্সিলের জন্য বুধবার বগুড়া জিলাস্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জিলাস্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী আকন্দ জানিয়েছেন, ‘আয়োজকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে একদিনের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’
টানা ১০ বছর কাউন্সিল নেই। সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়। দলের সিনিয়র নেতাদের অনেকেই বিভিন্ন সময় সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু কাউন্সিলের ঠিক পুর্বমুহুর্তে জানা গেল, সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন ছাড়া আর কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। সুতরাং সভাপতি পদে মমতাজ উদ্দিনই বহাল থাকছেন এটা নিশ্চিত। তবে, সাধারণ সম্পাদক নিয়ে কানাঘুষা বেশ জমে উঠেছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনুর প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থীর নাম এত দিন শোনা যায়নি। এ পদে তিনিই টিকে যাচ্ছেন এমন সম্ভাবনা যখন উজ্জ্বল ঠিক তখনি বর্তমান কমিটির যুগ্ম- সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। রাতারাতি মমতাজ উদ্দিনের ছবির সাথে রিপু’র ছবি জুড়ে দিয়ে শহরের নানাপ্রান্তে ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। রিপুকে সাধারণ সম্পাদক করতে পর্দার আড়ালেও ব্যাপক তৎপরতা চলছে বলে জানাগেছে।
আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদ দখল করে আছেন। একারণে দলের সর্বত্র তার একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। তার ইচ্ছার বাইরে কেউ কোন কিছু করার সাহস পায় না। তার ইচ্ছাতেই মজিবুর রহমান মজনুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বলে দলের ভেতরে গুঞ্জন রয়েছে। এবারও তাকেই সাধারণ সম্পাদক করার চেষ্টা তদবির চলছে বলে জানা গেছে।
তবে, নেতাকর্মিরা মজিবুর রহমান মজনুকে একজন নিস্ক্রিয় নেতা হিসেবেই চেনেন। ২০০৯ সালে তিনি শেরপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তিনি জেলার রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এলাকার রাজনীতি নিয়ে বেশী ব্যস্ত হয়ে পড়েন।  এলাকায় গ্রুপিং তৈরী করা, সরকার দলীয় এমপির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন তিনি। পরে অবশ্য বাছাইকালে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়ে যায়। একই বছর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি জামায়াতের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছেন।
দলের তৃণমূল নেতাকর্মিদের মতে, মজিবর রহমান মজনুর বিপরীতে অপর দু’জন প্রার্থী রাগেবুল আহসান রিপু এবং টি জামান নিকেতার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে। আওয়ামীলীগ সরকারের গত প্রায় ৬ বছরের শাসন আমলে এই দুই নেতা ক্লিন ইমেজ ধরে রেখেছেন।
দলীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে ৬ আগষ্ট বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তিন বছরের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন হয়ে অনেক আগেই। আর সময় মতো সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব আসতে পারেনি। একারণে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
বগুড়া সদর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু সুফিয়ান সফিক জানান, এই সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৭৫ পুর্ববর্তী আওয়ামীলীগে ফিরে যাবে। সম্মেলনের মাধ্যমে গঠন হওয়া কমিটির নেতৃত্বে বগুড়ার আওয়ামীলীগ আরো শক্তিশালী হবে।
জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক টি জামান নিকেতা বলেন, আশা করি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বগুড়ায় ত্যাগী এবং তরুণ নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের কমিটি হবে। এই কমিটি সকল ভেদাভেদ ভুলে বগুড়ায় আওয়ামীলীগকে আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সক্রিয় ভুমিকা রাখবে।
দীর্ঘ ১০ বছরের বেশী সময় পর এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতাকর্মিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। শহর থেকে তৃণমুল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বেশ চাঙ্গা। সর্বত্র শোভা পাচ্ছে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ব্যানার ফেস্টুন আর বিল বোর্ড। সম্মেলন উপলক্ষে গত এক মাস ধরে চলছে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি এবং নেতাকর্মীদের শো-ডাউন।
কাউন্সিলের সাজ-সজ্জা উপ-কমিটির আহ্বায়ক শহর আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুলতান মাহমুদ খান রনি জানান, কাউন্সিল সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। এ উপলক্ষ্যে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের চান্দাইকোনা থেকে শিবগঞ্জের রহবল পর্যন্ত মহাসড়কে প্রায় দেড় শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথাসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো রঙ বেরঙ এর ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। কাউন্সিলের জন্য জিলাস্কুল মাঠ আকর্ষনীয় করে সাজানো হয়েছে। কাউন্সিলে প্রায় ৩০ হাজার নেতাকর্মি অংশগ্রহন করবেন বলে তিনি জানান।
কাউন্সিল বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মাশরাফী হিরো জানান, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রায় ৫০ হাজার নেতাকর্মি অংশগ্রহন করবেন। দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশ নেবেন জেলার ১৪টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৪৪৭ জন কাউন্সিলর। কাউন্সিলে আগত নেতাকর্মিদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ