ঢাকা, বুধবার 10 December 2014 ২৬ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৬ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

বিটিসিএলের সাবেক এমডির জেল জরিমানা স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার : আদালত অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডের (বিটিসিএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসওএম কলিম উল্লাহকে চার মাসের কারাদ- এবং এক লাখ টাকা জরিমানার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। একই সঙ্গে তাকে দু’মাসের জামিনও দেয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত এবং জামিন চেয়ে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন।
গত বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত বিটিসিএলের এমডির দায়িত্বে ছিলেন এসওএম কলিম উল্লাহ।
আদালতে আবেদনকারী কলিম উল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহমুদুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। বাদিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক। বর্তমানে তিনি (কলিমুল্লা) কারাগারে।
আদালত অবমাননার দায়ে গত ৪ ডিসেম্বর বিটিসিএল’র সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসওএম কলিম উল্লাহকে চার মাসের জেল ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন হাইকোর্ট। জরিমানা অনাদায়ে আরও একমাসের জেল দেয়া হয়েছে তাকে। অক্সিনেল সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির পক্ষে করা আবেদনের শুনানি শেষে এই জরিমানা ও জেলের দ- দেন বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হাসানের একক বেঞ্চ। অক্সিনেল কোম্পানিটি ব্রিটেনে কলিং কার্ডের ব্যবসা করে।
আইনজীবী সূত্রে জানা যায় ২০০৯ সাল থেকে বিটিসিএলের সঙ্গে কাজ করে আসছে অক্সিনেল। বৃটেন থেকে অক্সিনেলের কোন টেলিফোন কল বাংলাদেশে আসলে বিটিসিএল সংযোগ দিত। বাংলাদেশ থেকে বৃটেনে কল গেলে একই কাজ করতো অক্সিনেল। তার জন্য দুই পক্ষে অর্থ লেনদেনে জড়িত। এই লেনদেনের মধ্যে বিটিসিএলের একটি বিভেদের উৎপত্তি হয়। এক পর্যায়ে বিটিসিএল অক্সিনেল কোম্পানির কাছে ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। এই বিভেদের বিপরীতে আইএফআইসি ব্যাংকে অক্সিনেলের ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা গ্যারান্টি ছিলো। ৬০ লাখ টাকার এই বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৬৮ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা রেখে বাকী টাকা তুলে নিতে হাইকোর্টে আবেদন করে কোম্পানিটি। হাইকোর্ট তিন দফা মত জানতে চাইলেও বিটিসিএল জবাব দেয়নি। এরপর হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে অক্সিনেল টাকা তুলে নেয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় বিটিসিএল আদালতে আপিল আবেদন বা (রিভিউ) পূর্ণবিবেচনার আবেদন না করে বা অন্য কোনভাবে হাইকোর্টে না এসে আপত্তি জানিয়ে ব্যাংকের কাছে চিঠি দেয়। এরপর অক্সিনেল হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদন করলে আদালত রুল জারি করে। পরে বিটিসিএল আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
আদালত অবমাননা করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেই ক্ষমা করে দিতে হবে কিনা, তার আইনগত ভিত্তি জানতে আদালত পাঁচজন এমিকাস কিউরি নিয়োগ করে। এরা হচ্ছেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, ড. কাজী আখতার হামিদ ও এডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
আবেদনের পক্ষে বিপক্ষে ও অ্যামিকাস কিউরিদের বক্তব্য গ্রহণ করে গত বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় কলিম উল্লাহ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদেশের পর দ-িতকে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কুদ্দুস জামানের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রেজিস্ট্রার তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ