ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিআইএ'র ‘নিষ্ঠুরতা’

অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা অভিযোগ করেছেন, ৯/১১-পরবর্তী সময় সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে চরম নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।

অবিরাম পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা ছাড়াও যৌন নির্যাতনের হুমকি দিয়ে, পায়ুপথে পানি ঢুকিয়ে, চড় মেরে, ঠান্ডার মধ্যে রেখে, হেনস্থা করে এমনকি দিনের পর দিন একটুও ঘুমাতে না দিয়ে বন্দিদের জিজ্ঞেসাবাদ চলেছে।

সিনেট গোয়েন্দা কমিটি মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এসব নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছে। মোট ৬,০০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও তা সংক্ষিপ্ত আকারে ৪৮০ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের বাকি অংশ এখনো গোপন রাখা হয়েছে। তাছাড়া, প্রতিবেদনটির কোন অংশ প্রকাশ করা হবে না তা নিয়ে মতভেদ থাকায় এটি দেরি করেই প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সিআইএ এবারই প্রথম তাদের হেফাজতে থাকা ১১৯ জন বন্দির তালিকা দিয়েছে। এদের মধ্যে ২৬ জন ভুল পরিচয়ের কারণে এবং গোয়েন্দাগিরির অদক্ষতার কারণে আটক হয় বলেও ইঙ্গিত রয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নির্মম কৌশলে এ জেরা করা নিয়ে জনগণকে মিথ্যাও বলেছে সিআইএ। তারা প্রকাশ্যে যতটুকু নির্যাতনের কথা বলেছে প্রকৃতপক্ষে তার চেয়েও অনেক বেশি নির্মম নির্যাতন করেছে।

তারপরও এ পদ্ধতিতে হুমকি মোকবেলা করার মত কার্যকর কোনো তথ্য সংগ্রহ করতে মূলত ব্যর্থই হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

বিশ্বজুড়ে আটক আল কায়েদা ও অন্যান্য সন্দেহভাজন জঙ্গিদের ওপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালানো এ জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে সরকার, জনগণ এবং আইনপ্রণেতাদের ধাঁধায় রাখে সিআইএ।

গোয়েন্দা সংস্থাটির নির্মম নির্যাতনের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের নভেম্বরে হাইপোথারমিয়ায় এক বন্দির মৃত্যু হয়। তাকে অর্ধনগ্ন করে একটি কংক্রীটের মেঝেতে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

আবার অন্য অনেক বন্দিকে ১৮০ ঘন্টা ঘুমাতে না দিয়েও জেরা করা হয়েছে। সময়ে সময়ে তাদের হাত মাথার ওপরে তুলে বেঁধে রাখা হয় এমনকি পায়ুপথে পানিও ঢোকানো হয়।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০০৯ সালে সিআইএ’র এ নির্মম জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি বন্ধ করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এ সমস্ত জেরা পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের সঙ্গে বেমানান। এসব কৌশলের কারণে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। সেইসঙ্গে মিত্র ও বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছে”।

৯/১১’র সন্ত্রাসী হামলার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অনুমতিতেই আটক জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব অত্যাচার চলত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিনেটে প্রতিবেদনটি পেশ করে গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারপার্সন ডায়ানে ফেইস্টেইন সিআইএ’র এ কার্যকলাপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি কালিমা বলে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, “প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কালিমা মোচন করা যাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে ভুল স্বীকার করে নেয়া এবং এ থেকে শিক্ষা নেয়ার মতো বড় পদক্ষেপ নিতে পারে তা এর মধ্য দিয়ে জনগণ এবং বিশ্ববাসী জেনে যাবে”।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ