ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয় ওই মুসলমানদের

ভারতে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়া মুসলমানদের অনেকেই জানিয়েছেন, “তারা মুসলামানই আছেন। জোর করে হুমকি দিয়ে তাদের দিয়ে ধর্মান্তর অনুষ্ঠানে হাজির করা হয়েছে।”

ধর্মান্তরিতকরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া ফারহান নামের এক বস্তির বাসিন্দা বলেন, “যখন ৪০ জন মিলে আপনার মাথার উপর চড়াও হবে, তখন তারা যাই বলবে তাই আপনাকে মানতে হবে।”

২০০ মুসলমানের ধর্মান্তর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেয়া ইসমাইল বলেন, “আমরা গরিব তাই, আমাদের যে যা ইচ্ছা তা করতে পারে। ধর্ম এবং ধর্মান্তরিত হবার জন্য তো আমরা জীবনকে হারাতে পারি না।”

ধর্মান্তরিত অনুষ্ঠান শেষে গতকাল মঙ্গলবারও নামাজ আদায় করেছেন উল্লেখ করে ইসমাঈল বলেন, “হিন্দুরা প্রথমে এসে আমাদের বাড়ি ঘর খালি করে দেবার হুমকি দেয়। এ জমিগুলো হিন্দুদের মালিকানায়। পরে তারা জানায়, যদি আমরা হিন্দু হই তাহলে আমাদের বাড়িতে থাকতে দেবে এবং বাচ্চাদের স্কুলে যেতে দেবে।”

তিনি জানান, রেশন কার্ডের সুবিধার লোভেও অনেকে ধর্মান্তরিত হতে আকৃষ্ট হয়েছে।

ধর্মান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজক বজ্রং দলের কর্মী অজু চোওহান বলেন, “এখানে ভয় দিয়ে কোনো কিছু করা হয়নি। যারা  ধর্মান্তরিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিল তাদের পূর্বসুরিরা হিন্দু ছিলেন। তাদের রেশন কার্ডের কিংবা বাড়ির কোনো লোভ দেখানো হয়নি। তারা পরিচ্ছন্ন একটা জীবনের শুরু করতে চেয়েছে।”

এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পঙ্কজ কুমার বলেন, “ধর্মান্তর অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু বলেনি।”

গত সোমবার আগ্রায় দুই শতাধিক মুসলমানকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।‘ধর্ম জাগরণ সমবায় বিভাগ’ এ ধর্মান্তরকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এটি হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’(আরএসএস) এর শাখা সংগঠন। ‘পুরখন কি ঘর বাপসি’ শিরোনামের এ অনুষ্ঠানে ৫৭ টি মুসলিম পরিবারের ২০০ এর বেশি সদস্যকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়।

ক্রিস্টমাসের আগে আরো মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করা হবে জানিয়ে আরএসএস এর বিভাগীয় প্রধান রাজেশ্বর সিংহ বলেন, “এই ক্রিস্টমাসের মধ্যে আলীগড়ে আরো ৫০০০ মুসলমান ও খ্রিস্টানকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হবে।”

তিনি জানান, “আলীগড়ের মহেশ্বরী কলেজে এ বিশাল ধর্মান্তরকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।” কেউ এটা বন্ধ করতে পারবে না বলেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন সিংহ।

অনুষ্ঠানে পুরোহিতরা মন্ত্র পড়েন, আর ধর্মান্তরিত মুসলমানরা মূর্তির পা ধুয়ে দিয়ে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। এরপর তাদের কপালে সিন্দুর পরিয়ে দেয়া হয় এবং প্রসাদ খেতে দেয়া হয়।

আনুষ্ঠানিকতা শেষে আরএসএস এবং বজ্রং দলের কর্মীর নতুন হিন্দুদের একটা মন্ত্র শিখিয়ে দেন এবং সারাদিন তা জপার নির্দেশনা দেয়। এরপর নতুনদের ভোটার হবার ও অন্যান্য সুবিধার জন্য একটি তালিকা করে সংগঠনগুলো। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।


অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ