ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

সিনেট রিপোর্টে বন্দিদের ওপর সিআইএ’র বর্বরতার চিত্র

আরটিএনএন : টুইন টাওয়ারে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটককৃতদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে বর্বরতা চালিয়েছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে ওই নির্মমতার কিছু চিত্র উঠে এসেছে। নিবিড় সম্পাদনার পর প্রকাশিত ৪৮০ পাতার সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে নেয়া লোমহর্ষক কৌশলগুলোর কিছুটা আঁচ পাওয়া যায়। তবে ৬,২০০ পাতার পুরো প্রতিবেদনটি ‘গোপনীয় নথি’ বিবেচনায় প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদনে ২০০১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আটক শতাধিক সন্দেহভাজনের সঙ্গে সিআইএ কেমন আচরণ করেছে তার বর্ণনা রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে নেয়া নির্মম কৌশলের সমালোচনা করে সিনেট বলেছে, সিআইএ যে উপায়ে তথ্য আদায় করেছে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সন্ত্রাসবাদের হুমকি হ্রাসে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া সিআইএ নীতিনির্ধারকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছিল বলেও অভিযোগ করেছে সিনেট। অবশ্য শুরুর দিকে সিআইএ দাবি করে আসছিল, (আমেরিকানদের) জীবন রক্ষার্থেই তারা এটা করেছিল। তবে এ ধরনের কর্মসূচির জন্য তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি না থাকায় ভুল হয়েছে বলে পরে সংস্থাটি স্বীকার করেছে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তা আমাদের মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করা কঠিন হয়েছে।’
সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিআইএ জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিদের ওপর বর্বর ওয়াটারবোর্ডিং পদ্ধতি চালিয়েছে যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর ছিল। এতে বন্দির মৃত্যু হওয়ারও আশঙ্কা ছিল। এছাড়া নিপীড়নের কৌশলের মধ্যে ছিল টানা ১৮০ ঘণ্টা ঘুমোতে না দেয়া। ওই সময় দাঁড় করিয়ে কিংবা কষ্টকর শারীরিক অবস্থায় থাকতে বাধ্য করা। ইলেকট্রিক শক দেয়া, যৌন নিপীড়ন এবং কুকুর দিয়ে ভয় দেখানো ছিল নির্মমতার নিয়মিত অংশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ