ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

কলকাতা থেকে দিল্লীতে গিয়ে নির্যাতিতদের বিক্ষোভ

সংগ্রাম ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে এক নজিরবিহীন অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা পঞ্চাশজনের বেশি নির্যাতিত, যারা নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন ‘আক্রান্ত আমরা’ নামে। এই দলে যারা আছেন, তাদের কারো ছেলে বা কারো বাবা রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারিয়েছেন, কারো বন্ধু বা কারো মেয়ে ধর্ষিতা হয়েছেন, কারো ভাইকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। কিন্তু তারা কেউই রাজ্যে বিচার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ, কেউ আবার বিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ধমকও খেয়েছেন।
তারা দেশের রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে মানবাধিকার কমিশনের দরজায় দরজায় ঘুরেছেন অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে।
সুঁটিয়া গ্রামের প্রতিবাদী যুবক বরুণ বিশ্বাস খুন হয়েছিলেন রাজনৈতিক গুন্ডাদের হাতে। তার অশীতিপর বাবা জগদীশ বিশ্বাস এসেছিলেন দিল্লিতে; তার অভিযোগ, পুলিশের চার্জশিটে আসল দোষীদের আড়াল করা হয়েছে।
পাশাপাশি ছিলেন কামদুনিতে ধর্ষিতা নারীর বন্ধু মৌসুমী কয়ালও, যিনি দোষীদের শাস্তি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ধমক খেয়েছেন। মৌসুমী বলছেন, “আমাদের গ্রামের মেয়েকে ধর্ষণ করে দুই পা চিরে খুন করা হলো – আর মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দৌড়ে গিয়ে যখন দোষীদের সাজা চাইলাম, তিনি আমাদের মাওবাদী আর সিপিএমের দালাল বলে হেনস্থা করলেন!’
বীরভূমের জেলার এক দাপুটে তৃণমূল নেতার প্রকাশ্য হুমকির পরই হৃদয় ঘোষের বাবাকে খুন করা হয়েছিল, সেই হৃদয় ঘোষও বলছিলেন তাদের মতো রাজ্যে আর কেউ যাতে আক্রান্ত না হয় সেই আশাতেই তাদের দিল্লিতে দরবার!
দলটাকে একজোট করে দিল্লিতে নিয়ে এসেছেন যিনি, সেই অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র নিজে ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একটি কার্টুন শেয়ার করার জেরে জেলহাজতে রাত কাটিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে নর্থ ব্লকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ছোটাছুটির ফাঁকেই আরো একটা অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলেছে আক্রান্ত আমরা তাদের প্রতি সংহতি জানাতে সিপিএম ও বিজেপির নেতারাও চলে এসেছেন এক মঞ্চে।
সিপিএমের নেতা মহম্মদ সেলিম যখন দিদি তথা মমতা ব্যানার্জির শাসনকে একহাত নিচ্ছেন, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েই বিজেপির মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলছেন, দিদি নামটার সঙ্গে যে স্নেহ-ভালোবাসার টান জড়িত, সেই অর্থটাকেই আমূল বদলে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি।
পশ্চিমবঙ্গের এই নির্যাতিতরা তাদের সংগঠনকে অরাজনৈতিক রাখতে চাইছেন ঠিকই, কিন্তু একটা দলের অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে এসে অন্য দলগুলোর সাহায্য যে নিতেই হবে, এই বাস্তবটাও দিল্লিতে এসে তাদের টের পেতেই হচ্ছে! সুত্র: বিবিসি বাংলা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ