ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

ওয়াটসনের নোবেল মেডেল ফিরিয়ে দিতে চান ক্রয়কারী

বিডিনিউজ : ডিএনএর গঠন উন্মোচন করে পাওয়া মার্কিন প্রফেসর জেমস ওয়াটসনের নোবেল পুরস্কারের মেডেলটি নিলামে কিনেছেন রাশিয়ার ধনকুবের আলিশের উসমানোভ। আর এটি তিনি ওয়াটসনকে ফিরিয়ে দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি ওয়াটসন প্রথম জীবিত নোবেল লরিয়েট হিসেবে সোনার মেডেলটি নিলামে বিক্রি করেছেন। আর এটি ৪৮ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
ইস্পাত ও টেলিকম ব্যবসায়ী উসমানোভ বলেন, ওয়াটসনই এই মেডেলের যোগ্য। আর এটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন ভেবে তিনি (উসমানোভ) মানসিকভাবে বিষন্ন হয়ে পড়েছিলেন।
এক বিবৃতিতে উসমানোভ বলেন, গত সপ্তায় পরিচয় গোপন করে টেলিফোনের মাধ্যমে ওয়াটসনের সোনার নোবেল মেডেলটি তিনি নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টির কাছ থেকে এটি কিনে নেন।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, “আমার অভিমত হচ্ছে, একজন অসামান্য বিজ্ঞানী তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে যে মেডেল অর্জন করেছেন সেটি কোনো এক পরিস্থিতিতে বিক্রি করতে দেয়া অগ্রহণযোগ্য।”
উসমানোভ বলেন, “মানবজাতির ইতিহাসে জেমস ওয়াটসন একজন অন্যতম মহান জীববিজ্ঞানী। আর ডিএনএর গঠন উন্মোচন করে যে পুরস্কার তিনি অর্জন করেছেন সেটি অবশ্যই তার সঙ্গে থাকা উচিৎ।” ফোর্বস ম্যাগাজিন বলছে, উসমানোভের সম্পদের পরিমাণ ১৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার। তিনি ফুটবলক্লাব আর্সেনালের বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক। ২০১৩ সালে সানডে টাইমসের তালিকায় যুক্তরাজ্যের সবচে ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াটসনের সোনার নোবেল মেডেলের মূল্য ২৫ থেকে ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার হতে পারে বলে আভাস দিলেও এটি ধারণাতীত মূল্যেই বিক্রি হয়েছে।
১৯৬২ সালে ওয়াটস, মুরিচ উইকিনস এবং ফ্রান্সিস ক্রিক ডিএনএর গঠন উন্মোচন করে নিজেদের অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। তাদের প্রত্যেককেই সোনার মেডেল দেয়া হয়।
প্রফেসর ওয়াটসনের বরাতে বিবিসি বলছে, বিজ্ঞান গবেষণার জন্য তিনি এই অর্থ দান করবেন।
তিনি জানান, এই নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ অংশ যাবে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো, ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির ক্ল্যারে কলেজ, কোল্ড স্প্রিং হারবোর ল্যাবরেটরি, লং আইল্যান্ড ল্যান্ড ট্রাস্ট এবং আরো বেশকিছু দাতব্য প্রতিষ্ঠানে।
২০১৩ সালে ফ্রান্সিস ক্রিকের নোবেল মেডেল ২২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল। তিনি ২০০৪ সালে মারা যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ