ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

প্রচুর পানি পান কেন প্রয়োজন

গ্রীষ্মের খর রোদে বাইরের উত্তাপ যখন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় তখন পানি পান করার কথা মনে হয় ঠিকই। হওয়া উচিতও। শরীর ঘেমে নেয়ে উঠে, আর তখন গ্লাসের পর গ্লাস পানি পান গুরুত্বপূর্ণ বটে। কিন্তু পানি আমাদের বিশ্বস্ত সহচর হওয়া উচিত সারা বছর জুড়ে।
যথেষ্ট পানি পান না করলে অনেক সমস্যা হয়, যেসব সমস্যা আমাদের পরিচিত। আবার ভিন্ন অন্য রকম সমস্যাও হতে পারে অনেক সময়।
আমরা কেবল পিপাসা মেটাবার জন্যই পানি পান করে থাকি? কিন্তু সেখানেই থামা কেন? ওয়াইডস্টেট ইউনিভার্সিটি ওয়েক্সনার মেডিক্যাল সেন্টারের বিজ্ঞানী লরি ডং বলেন, প্রায়ই বলা হয় পানি হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপকরণ। আমাদের খাদ্যের একটি ভালো ভিত্তি। নারীদের জন্য পানি পান করার পরামর্শ: ২.২ লিটার দিনে এবং পুরুষের জন্য ৩ লিটার। অনেকের জন্য এটি বেশি মনে হতে পারে কিন্তু সুস্থ মানুষের জন্য এই পানি পান প্রয়োজনীয়। আপনি যথেষ্ট পানি পান যদি না করেন তাহলে কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ হতেই পারে প্রচন্ডভাবে যেমন-
ক্লান্তি বোধ করা
ক্লান্ত মনে হচ্ছে, মেজাজ খিচড়ে আছে, পানি শূন্যতা কিছুটা হলে এমন হতে পারে। কিছু পানি পান করলে ফিরে আসবে এনার্জি লেভেল।
জার্নাল অব নিউট্রিশনে ২০১২ সালে প্রকাশিত মেয়ো ক্লিনিকের একটি গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছে মৃদু পানি শূন্যতা ঘটাতে পারে অবসন্নতা, ক্লান্তি এবং এলার্জি। তাই ক্লান্ত বোধ হলে এক কাপ কফি পান না করে এক গ্লাস পানি পান শ্রেয়। কফি, চা, সোডা ও স্পোটর্স ড্রিংক পানীয় বটে কিন্তু এতে থাকে সুগার ও অন্যান্য দ্রব্য তাই পানীয়ের বেশিরভাগ জুড়ে থাকা উচিত কেবলই পানি আর পানি।
টয়লেটের সমস্যা ও কোষ্ঠবদ্ধতা
কোষ্ঠবদ্ধতা ঠেকানোর একটি বড় উপায় হলো খাদ্যের সঙ্গে প্রচুর আঁশ গ্রহণ করা। কিন্তু এতেও কাজ হলো না, সমাধান হলো, এর সঙ্গে প্রচুর পানি পান করতে হবে। খাদ্যের আঁশের কাজ কর্মকে আরও কার্যকর করে তোলে পানি, মন সচল হয় নিয়মিত হয়। আঁশের প্রয়োজন পানি, তাই কেউ যদি খাদ্যে আঁশ অনেক বাড়ালেন অথচ সে পরিমাণ পানি পান বাড়ালেন না, কোষ্ঠবদ্ধতা থেকে যাবে, পেটেও ব্যথা হবে। তাই প্রচুর পানি পান করলে কোষ্ঠ পরিষ্কার হয় সহজে।
হাড়ের গিটে ব্যথা
পানি পান যদিও হাড়ের গিটে ব্যথা বা আর্থ্রাইটিস নিরাময় করেনা তবে পানি পান করলে ব্যথা বেদনা কিছুটা উপশম হতে পারে। প্রচুর পানি পান না করলে গোড়ালিতে ও আংগুলীতে তরল জমা হওয়া ঘটতে পারে। ঢং বলেন, হাড়ের গিটকে পিচ্ছিল রাখার জন্য প্রয়োজন তরল। তাই হাড়ের গিটে ব্যথার কিছুটা আরাম হতে পারে পানি পান করলে।
ওজন বাড়ছে শরীরে
ওজন শরীরে কমানোর জন্য প্রাথমিক তত্ব হলো যত কম তত ভালো। কিন্তু পানি পানের ব্যাপারে কথাটি সত্য নয়। বেশি পানি পান করলে ওজন হ্রাসে সুবিধা হয়। শরীরে মেদ জমাতে সাহায্য করে যে সব সোডা জাতীয় পানীয় এর বদলে পানি পান এদের স্থান পূরণ করে, মোট ক্যালোরি গ্রহণ ও কমে আসে।
আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির একটি গবেষণা থেকে দৃঢ় প্রতিপন্ন হয় যে, বেশি পানি পান ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে।
পর্যাপ্ত পানির অভাবে কিডনির সংক্রমণ হতে পারে।
যথেষ্ট পানি পান না করলে মূত্র পথে সংক্রমণ হতে পারে। তা থেকে পরে কিডনিও সংক্রমিত হতে পারে। কিডনি আমাদের রক্ত ফিল্টার করে এবং মূল অংশ হলো পানি, তাই শরীরে পানি শূন্যতা থাকলে কিডনির উপর বাড়তি অনেক চাপ পড়ে। প্রচুর পানি পান করলে কিডনিতে পাথুরি হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
পুষ্টির অভাব ঘটে
দেহের পুষ্টি উপকরণ প্রবাহিত হয় পানি ও রক্তের মাধ্যমে। তাই সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য যাতে পুষ্টি পৌঁছায় দেহের সর্বত্র সেজন্য প্রচুর পানি পান করা উচিত। অক্সিজেন, পুষ্টি উপকরণ এবং বর্জ্য কোষের ভেতর বাইরে চলাচলের জন্য প্রয়োজন হয় পানির।
রোগ প্রতিরোধ হয় মজবুত শরীর সচল থাকলে, পানিপূর্ণ থাকলে সার্বিক রোগ প্রতিরোধ কাজে সহায়তা হয়। প্রচুর পানি ও পানীয় পান করলে কাশি, সর্দি, ঠান্ডা লাগা প্রতিরোধ হয় অনেক ক্ষেত্রে।
ত্বক ভালো থাকে
প্রচুর পানি পান করলে তা ত্বকের জন্য খুব ভালো। কথাটিতে অতিরঞ্জণ থাকলেও পানির উপকারিতা তো রয়েছে ত্বকের জন্য।  নিকদন ঠেকাতে পানি চাই।  নিকদন ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এছাড়া প্রচুর পানি পান করলে সারাদিন ভালো যায়, ভালো থাকা যায়। দিনের ক্লান্তি অনেকটা মুছে যায়। মন থাকে ঝরঝরে প্রফুল্ল।
অধ্যাপক ডা: শুভাগত চৌধুরী
পরিচালক, ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ