ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

কম বয়সে চুল পাকে কেন?

কথাটি কি ঠিক? চুল পাকলেই কেউ বুড়ো হয়েছেন এমনটি বলা যাবে না। বরং বুড়ো হলেই চুল পাকবে এটাই বোধহয় অধিক সত্য। চুল পাকা নিয়ে অনেকেই হতাশায় ভোগেন। বিশেষ করে যাদের অল্প বয়সেই চুল পাকতে শুরু করে। কারণ চুল পাকা যেহেতু বৃদ্ধ বয়সের লক্ষণ তাই অল্প বয়সে চুল পাকা কারো মতেই মেনে নেয়া যায় না। কিন্তু বৃদ্ধ বয়স ছাড়াও আরো কিছু কিছু ক্ষেত্রে চুল পাকতে পারে এবং এই ধরনের চুল পাকাকে অকালপক্বতা বলা যায়।
শ্বেতী রোগে একগুচ্ছ চুল সাদা হয়ে যেতে পারে। আবার সীমিত এলাকাজুড়ে যখন মাথায় চুল থাকে না এবং পরবর্তীতে যখন সেখানে চুল গজাতে শুরু করে তখন প্রথম দিকে চুল পাকা দেখা যেতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে না। শুধুমাত্র এসব রোগের জন্য প্রথমে যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সময়ানুযায়ী চুল তার হারানো রং ফিরে পাবে। জন্মগত ধবল রোগে আক্রান্ত বা আংশিক ধবল রোগে আক্রান্ত রোগীদের সাদা চামড়ায় পাকা চুল দেখা যায় এবং এই চুলগুলো কিন্তু সাদা সাদা অবস্থায়ই থেকে যায়।
চিকিৎসা : অল্প বয়সে পাকা চুল কিংবা কাঁচা পাকা চুল দেখতে খুবই খারাপ লাগে। এজন্য উচিত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে কারণ খুঁজে বের করা ও তদনুযাযী চিকিৎসা করা। চিকিৎসা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ক্যালসিয়াম প্যানথেনেট ট্যাবলেট কারো কারো ক্ষেত্রে ব্যবহারের ফলে সাদা চুল কালো চুলে পরিবর্তিত হয়েছে। চিকিৎসার ফলে সাদা চুলে পরিবর্তন এসেছে, অর্থাৎ চুলের গোড়া কালো হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, চুলের যে ফলিকলগুলো পূর্বে  সাদা চুল তৈরি করতো, এখন সেগুলো কালো চুল তৈরি করছে। যেহেতু সমস্ত সাদা ও পাকা চুল একসঙ্গে পরিবর্তিত হয় না এবং চুল প্রতি মাসে ১ সেন্টিমিটার করে বৃদ্ধি পায়-তাই ওষুধ ব্যবহারের পর চুল পর্যবেক্ষণ করা উচিত। অবশ্য চুলের সাদা অংশ কেটেও ফেলা যায়, তাহলে শুধু গোড়ার অংশ কালো দেখাবে। যদি ওষুধ ব্যবহারের ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন না দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে বলা যায়। যদি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চুল পরিবর্তিত হওয়া শুরু করে, তাহলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। উল্লেখ করার মতো চুলে পরিবর্তন দেখতে হলে অনেক ক্ষেত্রে কয়েক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। অন্য কোনো আলাদা সাবধানতার প্রয়োজন নেই। চুল নিয়মিত ধোয়া বা শ্যাম্পু করা উচিত। স্থানীয়ভাবে লাগানোর জন্য কোনো ওষুধ বা তেল ব্যবহার দরকার পড়ে না এবং খাদ্যের ব্যাপারে কোনো বাছ-বিচার নেই। এই ওষুধের ব্যবহার এ পর্যন্ত নিরাপদ হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে গর্ভাবস্থায় বর্জন করা ভালো। কারণ এ অবস্থায় এর ব্যবহার নিরাপদ কি না এর সঠিক প্রমাণ নেই। অবশ্য সমস্ত রোগীর ক্ষেত্রেই এই ওষুধের ব্যবহার কার্যকর নয়। প্রধানত ২৫ বছরের নিচের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রযোজ্য। অন্যদের বেলায় কতটুকু কার্যকর বলা মুশকিল। তবে কাজ না করার আশঙ্কাই বেশি। যদি চিকিৎসার পরও চুলের স্বাভাবিক রং ফেরানো না যায়, তাহলে কৃত্রিম রং ব্যবহার করে চুল কালো করা ছাড়া আর উপায় থাকে না।
কৃত্রিম রং ব্যবহারের অসুবিধা হচ্ছে- একবার ডাই করা শুরু করলে তা নিয়মিত ব্যবহার করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তাই চুলের স্বাভাবিক রং ফিরিয়ে আনার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করা উচিত।
অধ্যাপক এম ফেরদৌস
ত্বক, সেক্স ও কসমেটিক বিশেষজ্ঞ,
চেম্বার-ইবনে সিনা ডায়াগনেস্টিক সেন্টার।
ফোন : ০১৭১৭-৩৫১৬৩১

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ