ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

ফেনীতে যুবলীগ-ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া অস্ত্র উদ্ধার ॥ শহরে আতংক

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনী শহরের উত্তর সহদেবপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোনো সময় আরও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষেরও আশংকা করা হচ্ছে। গত সোমবার রাতে অভিযান চালিয়ে বসতঘরের পাশ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন থেমে থেমে চলা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। যুবলীগ-ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়ার কারণে শহরে আতংক বিরাজ করছে। ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক চলাচল করতে পারছে না।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার গভীর রাতে ফেনী মডেল থানার ওসি মো. মাহবুব মোর্শেদ বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে শহরের সহদেবপুরে অভিযান চালায়। এ সময় আবদুল আউয়ালের ঘরের পাশ থেকে একটি পাইপগান, তিনটি চাপতি ও ২ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তবে অস্ত্রধারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলকায় প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলে আসছে। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে সহদেবপুর, রেলওয়ে কলোনী, মাস্টারপাড়া, বিরিঞ্চি, একাডেমিসহ আশপাশের এলাকা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় দেশী-বিদেশী মাদকদ্রব্য। মাদক বিক্রেতারা সরকার দলীয় হওয়ায় কেউ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করে না। প্রতিবাদ করলে নেমে আসে ধর্ষণ, হামলা, ডাকাতি-লুটসহ নির্যাতনের খড়গ। সম্প্রতি এ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবলীগের দুটি গ্রুপ বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে গত ক’দিন ধরে তাদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হামলা-পাল্টা হামলা ঘটেছে। এলাকাবাসী উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। একাধিকবার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করলেও গ্রেফতার হয়নি স্বপন, মুন্না, মানিকসহ উল্লেখযোগ্যদের কেউই। সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবলীগের দুই গ্রুপের গুলী বিনিময়ে ফরহাদনগর ইউনিয়নের আবুল কাশেম ডালিম নামে একজন নিহত ও অন্তত ৫-৭ জন আহত হয়েছে।  এ সময় বোমা ও গুলীর শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। ওইদিন থেকে সন্ধ্যা নামলেই এলাকাজুড়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতংক বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ