ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

নির্দেশনা পেলেই খুলনাঞ্চলের সরকারি অফিসে দুদকের ঝটিকা অভিযান

খুলনা অফিস : ঘুষ, দুর্নীতি, হয়রানি ও প্রতারণা বন্ধে সরকারের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঝটিকা অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনার আঞ্চলিক কার্যালয়। সেবার নামে হয়রানি বন্ধে নির্দেশনা পেলেই খুলনা বিভাগের জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোতে অভিযান চালাবেন বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান। চলতি বছরে খুলনাঞ্চলের বিচারাধীন ৪৩০টি মামলার মধ্যে মাত্র ১৫টির নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে ১১টি মামলায় সাজা দেয়া হয় এবং একটিকে খালাস দেয়া হয় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে। দুর্নীতি দমন কমিশন খুলনার আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে দুদক’র কার্যকারিতায় মন্থরগতি বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশরাফ উজ জামান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুদক চেয়ারম্যান মোঃ বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে কমিশনের গত ৭ ডিসেম্বরের সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, শিগগিরই একাধিক মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে সেবাদানকারী অফিসগুলোতে ঝটিকা সফর শুরু করা হবে। অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এ নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা যচ্ছে। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে ঝটিকা অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মকর্তারা। নির্দেশনা পেলে খুলনা বিভাগের জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোতে অভিযান চালানো হবে।
দুদক আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় চলতি বছরে ১৪টি অভিযোগ অনুসন্ধান করেছে সমন্বিত জেলা কার্যালয় খুলনা। গত বছরের অবশিষ্ট এবং চলতি বছরে ৮২টি অনুসন্ধান রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো হয়। যার মধ্যে মামলা দায়ের হয় ৬টি। খুলনার সমন্বিত কার্যালয়ে চলতি বছরে ৫টি মামলায় সাজা পায় অভিযুক্তরা এবং দুটিতে খালাস পান। বর্তমানে ২৪৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে, যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে যশোর, নড়াইল, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলায় গত বছরের অবশিষ্ট এবং চলতি বছরে ৪৪টি অনুসন্ধান রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো হয়। যার মধ্যে মামলা দায়ের হয় ১১টি। যশোর সমন্বিত কার্যালয়ে চলতি বছরে ৫টি মামলায় অভিযুক্তরা সাজা পেয়ে বর্তমানে ১২৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অপরদিকে, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় (সমন্বিত কার্যালয় কুষ্টিয়া) ২০১৩ সালের অবশিষ্ট এবং চলতি বছরে ৮২টি অনুসন্ধান রিপোর্ট ঢাকায় পাঠানো হয়। যার মধ্যে মামলা দায়ের হয় ৫টি। কুষ্টিয়া সমন্বিত কার্যালয়ে চলতি বছরে একটি মামলায় সাজা পেয়ে অভিযুক্তরা এবং দুইটিতে খালাস পান। বর্তমানে ৫৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত বছরে ৪৪৫টি মামলা বিচারাধীন ছিলো। খুলনা বিভাগে চলতি বছরে বিচারাধীন ৪৩০টি মামলার মধ্যে ৯২টি মামলা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশে বিচার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
দুদক খুলনার বিভাগীয় পরিচালক একেএম জায়েদ হোসেন খান বলেন, খুলনাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ভূমি অফিসে দুর্নীতির আখড়া। তবে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের অন্তরায় হিসেবে টেন্ডার সিন্ডিকেটও শক্তিশালী। সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদিসহ অভিযোগকারী মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাছাড়া যেসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হচ্ছে, সেগুলো দীর্ঘসূত্রিতার কারণে কার্যকারিতা প্রতীয়মান হচ্ছে কম। সেবার নামে হয়রানি বন্ধে সরকারি অফিসগুলোতে অভিযান চালানোর নির্দেশনা পেলেই পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানালেন তিনি।
খুলনা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সেবাদানকারী অফিসগুলোতে সেবার বদলে জনগণকে জিম্মি করে অবৈধভাবে অর্থ নেয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাপ্য সেবা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারের অফিসগুলো নজরদারিতে আনা হলে সেবার মান বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সাথে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করে দুদক’র অধিকতর গতিশীল হবার আহ্বান জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ