ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

সাভারে কর্ণপাড়া খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে প্রভাবশালীরা

মো. শামীম হোসেন (সাভার সংবাদদাতা) : সাভার পৌর এলাকায় কর্ণপাড়া খাল দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ স্থাপনা ও বহুতল ভবন। ফলে খালটি প্রায় মৃত্যুর পথে। প্রায় ৩ কিলোমিটার খালটি নামাগে-া, সাধাপুর ও ব্যাংকটাউন ঢাকা আরিচা মহাসড়ক হয়ে বংশী নদীতে সংযুক্ত হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কর্ণপাড়া ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে সাভার পৌর ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মোঃ আমিনুর রহমান আমিন এক বছর আগে বালি ফেলে জলাশয়  ভরাট করে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভরাটকৃত জায়গার উপরে দুইটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে  নাম প্রকাশ না করার সর্তে একজন বলেন, কাউন্সিলর আমিন তার ভরাটকৃত জায়গা থেকে ৬ শতাংশ জমি মাদরাসার নামে দান করেছেন। এখন সেখানে  মাদরাসার নামে  একটি বহুতল ভবনের কাজ নির্মণাধীন রয়েছে।
তার পার্শ্বের আরেকটি নির্মাণাধীন ভবন তৈরি করছে পৌর এলাকার রাজাবাড়ি মহল্লার সাগর। এ দুটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় প্রায় ৫ মাস আগে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাগর বলেন, দলিল বলে তার ক্রয়কৃত ৯ শতাংশ জমির উপরেই স্থাপনা তৈরি করছেন। তিনি আরো বলেন, এসএ ও আরএস পর্চার মালিক রাম প্রসাদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন।
কর্ণপাড়া খাল আর বংশী নদীর সংযুক্ত মহনায় ঘুরে দেখা যায় বংশী নদীর প্রায় ৯০ ভাগ জায়গা  দখল করে সিমানা খুঁটি দেয়া রয়েছে। এ ব্যপারে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, কিছুদিন আগে কাউন্সিলর  আমিন লোকজন এনে মেপে সিমানা খুঁটি দিয়ে রেখেছেন, তারা আরো বলেন, শুনেছি কিছুদিনের মধ্যেই এটা বালি ফেলে ভরাট করা হবে। এ ব্যপারে সাভার পৌর ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজী মোঃ আমিনুর রহমান আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সাভার পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কর্ণপাড়া ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে খালের মধ্যে আবর্জনা ফেলে ভরাট করায় পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আবর্জনা অপসারণের নির্দেশ দেন পরিবেশ অধিদফতর। পরে সেখানে আর্বজনা ফেলা বন্ধ হলেও ভরাটকৃত জায়গা থেকে এখন ও আর্বজনা অপসারণ করা হয়নি। এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, সরেজমিনে জরিপ করার পর অবৈধ দখলকৃত জমি উদ্ধার ও দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ