ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

সাঈদ তারেক আরিফ ও রানা জড়িত

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে মো. শাহজাহান আলী মোল্লাই দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন তিনিই তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আদালতে দাখিল করবেন। গত মঙ্গলবার কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লাকে পদোন্নতি দিয়ে তার পরিবর্তে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল হাকিমকে দায়িত্ব দেয় সরকার। তদন্ত কমিটির প্রধানের রদবদলের একদিন পরেই হাইকোর্ট সরকারের সিদ্ধান্ত নাকচ করে তাকেই ওই পদে বহাল রাখার এই আদেশ দিলেন।
এর আগে র‌্যাবের পক্ষে দেয়া প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে তাতে বলা হয়েছে- লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মাহমুদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এমএম রানা সাত খুনের সঙ্গে জড়িত। এই তিনজন কর্মকর্তা ছাড়াও র‌্যাবের আরো বিভিন্ন পদমর্যাদার অতিরিক্ত ২৪ জন এ হত্যাকান্ডে সাহায্য করেছে বলে হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাবের চূড়ান্ত তদন্তে জানানো হয়। এদের মধ্যে তারেক সাঈদ মাহমুদ সরকারের ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জাল হোসেন চৌধুরী মায়ার জামাতা।
গতকাল বুধবার বিকালে বিচারপতি মো. রেজাউল হক এবং গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে র‌্যাবের এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে আদালত জনপ্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধানের পরিবর্তনের বিষয়ে আদেশ দেন। গত ২৩ নবেম্বর র‌্যাবের পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করার জন্য এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। তা ২৭ নবেম্বর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে গতকাল বুধবার দাখিল করা হয়েছে।
এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সময় নারায়ণগঞ্জ র‌্যাবে থাকা তারেক সাঈদ ও আরিফ সাতজনকে অপহরণ থেকে শীতলক্ষ্যায় লাশ ডুবানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে রয়েছে। আর রানা অপহরণে অংশ নিয়ে ঘটনায় আংশিক জড়িত ছিলেন বলে র‌্যাবের এই তদন্তে এসেছে। হাইকোর্টের আদেশের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এখন আর তদন্ত প্রধান পরিবর্তিত হবেন না এবং শাহজাহান আলী মোল্লাই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ৭ মে সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান আলী মোল্লাকে ওই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। তার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গত সাত মাসে চার শতাধিক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেয়, এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী, আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানও রয়েছেন। এই অবস্থায় শাহজাহান মোল্লাকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের (পিএসসি) ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। ফলে তদন্তে স্থবিরতা দেখা দেয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।
গত ৫মে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে সাতজনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা তদন্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ঘটনায় র‌্যাবের সম্পৃক্ততা আছে কি না, এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করতে র‌্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া এ ঘটনায় করা মামলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পাশাপাশি সিআইডিকে নির্দেশ দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দেন আদালত। স্বতঃপ্রণোদিত রুলও জারি করা হয়।
অপহরণের পর খুনের ঘটনায় নিহত সাতজনের মৌলিক অধিকার রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণে বিবাদীদের ব্যর্থতা চ্যালেঞ্জ করে ১১ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। নিহত আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ডা. বিজয় কুমার পাল, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী’র নির্বাহী সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাঈল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রিট আবেদনটি করেন।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে লিংক রোড ধরে ঢাকায় যাওয়ার পথে অপহৃত হন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং তার চার সহযোগী। একই সময়ে গাড়িচালকসহ অপহৃত হন আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার। তিন দিন পর গত ৩০ এপ্রিল একে একে ছয়জনের এবং পরদিন ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান গত রোববার র‌্যাবের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে নজরুল ইসলামসহ বাকীদের হত্যার গুরুতর অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নজরুল ইসলামকে র‌্যাব তুলে নিয়ে হত্যা করেছে। এর জন্য আরেক কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ কয়েকজনের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়েছেন র‌্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করে নজরুল ইসলামের পরিবার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ