ঢাকা, বৃহস্পতিবার 11 December 2014 ২৭ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৭ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে মেতে উঠেছে -মির্জা ফখরুল

গতকাল বুধবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতাসীনরা গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডে মেতে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মানবাধিকার সংরক্ষণ প্রশ্নে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে ব্যতিক্রম।  বিশ্বের সকল দেশ মানবাধিকার সংরক্ষণে সদা তৎপর। কিন্তু এখানে মানবাধিকার পদে পদে ভূলুণ্ঠিত। প্রতিনিয়ত মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া দুদকের ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু খালেদা জিয়াকে নিয়ে যে উক্তি করেছেন তা রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বাহির্ভূত। তিনি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা ছিলেন। সে কারণে রাজনৈতিক নেতার মতই বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম-মহাসচি রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, অর্থ সম্পাদক আব্দুস সালাম, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আনহ আখতার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে যারাই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকেই মিথ্যা মামলা  দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা সিনিয়র আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন মালিকের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছে। আজকে আবার বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দিয়েছে সেই মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। সরকার মামলা-হামলা করে জনগণের আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে চাইছে। মির্জা আলমগীর বলেন, অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে অতীতের কোনো শাসক গোষ্ঠীই টিকে থাকতে পারেনি। বর্তমান আওয়ামী লীগও বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
দুদকের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তিনি যে ভাষায় কথা বলেছেন তা অশোভনীয় এবং তার এখতিয়ার বহির্ভূত। একটি সাংবিধানিক পদে থেকে তা বলতে পারেন না। আমরা যতটুকু জেনেছি তিনি (চুপ্পু) ছাত্রজীবনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের উচ্চ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। যে কারণে তিনি রাজনৈতিক নেতার মতোই বক্তব্য দিয়েছেন। এখতিয়ার অতিক্রম করে এসব বক্তব্য তার মুখে শোভা পায় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে দুদকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান ফখরুল।
টিআইবির সমালোচনা করে চুপ্পুর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, সারাদেশের মানুষ জানে দুদক সঠিকভাবে, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে না। আর দুদকের ব্যর্থতা যখন টিআইবি জনসম্মুখে প্রকাশ করেছে তখন তাদের গায়ে জ্বালা ধরে গেছে।
আবারো গ্যাস, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “গত চারদলীয় জোট সরকারের সময় বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মাত্র একবার দাম বাড়ানো হয়েছিল। অথচ অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুইবারসহ মহাজোট সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার দাম বাড়িয়েছে।”
তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির কারণেই ঘন ঘন তেল-গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং সরকার উল্টো দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। এ সময় তেল গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি কিভাবে আপোসহীন থাকবে এমন প্রশ্নে  তিনি বলেন, আমরা জুলুম অত্যাচারের মধ্যেও গুম, খুনের প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করছি। আর আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সভা সমাবেশ, মানবন্ধন করছি। কিন্তু তাতেও সরকার বাধা দিচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেয়া হবে না। দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ