ঢাকা, শুক্রবার 16 November 2018, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইতিহাসের নির্মম সরকারী হত্যাকান্ড ও সম্মিলিত মিডিয়া সন্ত্রাসের শিকার শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা

তিনি দ্বীনের পথে নিজেকে বিলিয়ে দেয়া এক অগ্রজ দুর্বার নির্ভিক সৈনিক। যিনি আল্লাহর দরবারে জান্নাতি মেহমান। যিনি হযরত হামজা, হাসানুল বান্না, সাইয়েদ কুতুব ও মালেকের পথ ধরে শহীদদের মিছিলের অগ্রভাগে। যিনি লক্ষ কোটি জনতার হৃদয়ে উচ্চকিত এক অনন্য নাম “শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা”! যিনি অনাগত ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাছে সাহসী, উদ্যেমী ও মিথ্যা অবিচারের বিরুদ্ধে এক প্রচন্ড দ্রোহের নাম!
যাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। এগিয়ে চলে সরব মিশন, শুরু হয় সম্মিলিত মিডিয়া সন্ত্রাস। এরপর আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে পরিচালিত হয় সর্বকালের নিষ্টুরতম নির্মম বিচারিক হত্যাকান্ড! আইন-আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করে আওয়ামী চক্রান্তকারীরা। আসামীর আত্মপক্ষ সমথনের নুন্যতম আইনি সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে সেদিন হায়নারা আহলাদে মেতে উঠে। বিবাদী পক্ষ আগে থেকেই দাবী করে আসছিল এ বিচার ব্যবস্থা অস্বচ্ছ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। সর্বশেষ ২৫ নভেম্বর ২০১৪ আব্দুল কাদের মোল্লার বিচারের পূর্নাঙ্গ রায় প্রকাশ হল, যেখানে তাঁর দন্ডের বিরুদ্ধে রিভিউ করার সুযোগ ছিল। আসামীকে রিভিওর সুযোগ না দিয়ে সময়ের আগেই ষড়যন্ত্রের বিচারিক হত্যাকান্ডের নির্মমতাকেও হার মানিয়ে সরকারী হত্যাকন্ড ঘটাল আওয়ামী ইসলাম বিদ্বেষী ফ্যাসিষ্টরা!
বাংলাদেশে তথ্য সন্ত্রাসের আরেক নজির শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। যেখানে দেশের অধিকাংশ মিডিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল। দাবি একটাই কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই। এক কথায় সম্মিলিত মিডিয়া সন্ত্রাস! ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৩ সাল থেকে টানা ২ মাস এ সকল মিডিয়া দিনে রাতে কুড়ি থেকে বাইশ ঘন্টা লাইভ নিউজ করতে লাগল। সারাদেশের মানুষ স্তম্ভিত হলো। শাহাবাগের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে শাস্তি বাড়াতে নতুন আইন পাশ করা হলো। সিন্ডিকেট নিউজে দেশবাসী অতিষ্ট হতে লাগল। দেশে যেন আর কোন খবর নেই, সমস্যা সম্ভবনা নেই, খবর একটাই তরুণ প্রজন্ম জেগেছে! মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জেগেছে! ফাঁসি চাই! ফাঁসি চাই, কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই! এরপর ক্ষণে ক্ষণে মঞ্চের আস্তরণ পরিবর্তন হতে লাগল। দাবি আসলো ইসলামী রাজনীতি বন্ধ করতে হবে, ইসলামী ব্যাংক বন্ধ করতে হবে। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি বন্ধ করতে হবে। ইসলামী ব্লগ, ওয়েব সাইট ও পেইজ গুলো বন্ধ করতে হবে। শুধু তাই নয় আন্দোলনকারীরা মিডিয়া গুলোর ছত্রছায়ায় আল্লাহ, রাসূল, নামাজ ও রোজা নিয়ে কটুক্তি করতে থাকল। নিহত ইসলাম বিদ্বেষী রাজিব হায়দারের নামাজের জানাজা শাহবাগে নারী-পুরুষ, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো! শুধু তাই নয় সংসদে নিহত রাজিব হায়দারর ওরফে থাবা বাবাকে শহীদ হিসাবে আখ্যা দিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা দাড়িয়ে তার সম্মানে নিরবতা পালন করলেন।
এভাবে সরকার শাহবাগীদের কথা আমলে নিয়ে দেশের অধিকাংশ জনমত উপেক্ষা করে প্রায় সকল দাবি এক এক করে পূর্ণ করে চলছে। সাংবাদিক নামধারী বোধ বিবেকহীন ব্যক্তিরা এ ধরণের নির্লজ্জকর মিথ্যাচারে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন থেকেই যায়। জানিনা তাদের বিক্রিত মগজে কোন নাড়া দেবে কিনা? স্বাধীনতার চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের নবজাগরণের নামে নিরপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা এ কেমন চেতনা?
নির্লজ্জ মিথ্যার বেসাতির বাদ্য-বাদকদের কাছে কথিত যুদ্ধপরাধী (!) জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ব্যাপারে এই প্রশ্নগুলোর কি কোন উত্তর আছে?
-১৯৭১ সালে দালাল আইনে প্রায় ৩৭ হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। এমন একজন কুখ্যাত খুনির(?) বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোথাও ১৯৭১-২০১০ পর্যন্ত কোন মামলা তো দূরের কথা সাধারণ ডায়েরীও হয়নি কেন?
- তিনি কি করে ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে অবস্থান করে অধ্যায়ন অব্যাহত রাখেন ও ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত পড়াশুনা করেন?
-তিনি যদি যুদ্ধপরাধী হয়ে থাকেন তাহলে ১৯৭৭ সালে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পিলখানার রাইফেলস স্কুল এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব কিভাবে পালন করলেন?
-তিনি কিভাবে ১৯৭৪-১৯৭৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের উদয়ন স্কুলের শিক্ষকতা করেন?
-কিভাবে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান আব্দুল কাদের মোল্লাকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দেন?
-তিনি কিভাবে ১৯৮১-৮২ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের পরপর দুইবার সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন?
-মিডিয়ায় মিথ্যার বেসাতি যারা অনুরণিত করছেন ১৯৮১-৮২ সালে কাদের মোল্লা যখন সাংবাদিক নেতা ছিলেন তখন তাদের মুখে কে আঠা লাগিয়ে দিয়েছিল?
- তাহলে কি তারা কারো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?
তাহলে তার অপরাধ কি?

এগুলোই কি তার অপরাধ যে.......?
-তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মার্ষ্টাসে ১ম বিভাগে ১ম হয়ে গোল্ড মেডেল লাভ করেছেন।
-তিনি বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে ভালবেসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্নাঙ্গ স্কলারশীপ প্রত্যাখ্যান করে ইসলাম ও দেশের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছেন।
-তিনি বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তারে নেতৃত্বদানকারী সংগঠক এবং ‘ঢাকা মানারাত’ সহ দেশে শতাধিক আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে অনুঘটকের ভুমিকা রেখেছেন।
- তিনি জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নীতি নির্ধারক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল। ঢাকা মহানগরী শাখার সাবেক আমীর এবং বিগত দুই দুইটি জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।
-তিনি রাশেদ খান মেনন ও মতিয়া চৌধুরীরর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা থাকাকালিন ইসলামী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বাম রাজনীতি পরিত্যাগ করেন।

উল্লেখিত বিষয়গুলোর উপস্থাপন নেতিবাচক বিকৃতমনা নরঘাতকদের কাছে অরণ্য রোদন ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা তাদের চক্ষু অন্ধকারের মোটা আস্তরন দিয়ে ঢেকে রেখেছে। এরা দেখেও দেখেনা, বুঝেও বুঝেনা। তাদের সত্য মিথ্যার পার্থক্য করার সক্ষমতা নেই, তারা যেন মানুষ নামে অচেতন লাশ। অর্থের গোলাম। তাদের হীন চক্রান্ত শুধুমাত্র নিরাপরাধ এক আব্দুল কাদের মোল্লা বা কথিত যুদ্ধপরাধীদের বিচার চাওয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। তারা দেশে ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদ স্যেকুলারিজমের বিষবাষ্প চিরতরে দায়েম-কায়েম করতে চায়।
একজন নিরপরাধ আব্দুল কাদের মোল্লাকে হত্যা করে যারা উল্লাস প্রকাশ করেছেন, ভেবেছেন নিজেরা বিজয়ী হয়ে গিয়েছেন তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই-
“শহীদরা মিল্লাতের জীবন, মিল্লাতের গৌরব, দুর্যোগের রাহবার। হতাশাগ্রস্ত মুসাফিরের জন্য তারা আলোকদিশা ধ্রুব তারা। সেই ধ্রুবতারাদেরই একজন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা!”
একজন শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লার রক্তের উপর দিয়ে যে জাগরণ ইসলামপ্রিয় তৌহিদী জনতার মাঝে উঠেছে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার তারুণ্যের যে ঝড় শুরু হয়েছে, সে জাগরণী ঝড়ে ইসলাম ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই, ইনশাল্লাহ।

লেখকঃ মুহাম্মদ আবদুল জব্বার
কেন্দ্রীয় সভাপতি
বাাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ