ঢাকা, শনিবার 13 December 2014 ২৯ অগ্রহায়ন ১৪২১, ১৯ সফর ১৪৩৬ হিজরী
Online Edition

১৭ নবেম্বর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মওলানা ভাসানীর জীবন : ১৯৭২-১৯৭৬

জিবলু রহমান : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীনের পর অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সদলবলে ঢাকায় ফিরে এসে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এ তিন নীতির ওপর ভিত্তি করে দেশ চলবে বলে ঘোষণা করেন। তারপর আন্তর্জাতিক জনমতের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো অবশেষে নব স্বাধীনতাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবকে ছেড়ে দিতে সম্মত হন। ৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সবার অজান্তে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবকে লন্ডনে পাঠিয়ে দেয়ার পর তিনি কলকাতা সফর করে ১০ জানুয়ারি বাংলার বুকে পদার্পণ করেন। শেখ মুজিব স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পূর্বে ভারতের কলকাতা প্যারেড গ্রাউন্ডের সংবর্ধনা সভায় ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে জাতীয়তাবাদ আদর্শটি সংযোজন করেন।
ভারতের সঙ্গে দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন রাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার পর শেখ মুজিব স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করার পর তাকে একনজর দেখার ও প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য লাখ লাখ মানুষ রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। শেখ মুজিব লাখো জনতার উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণের এক পর্যায়ে বলেন, ‘পাকিস্তানী কারাগার থেকে আমি যখন মুক্ত হই, তখন জনাব ভুট্টো আমাকে অনুরোধ করেছিলেন- সম্ভব হলে আমি যেন দুই দেশের মধ্যে একটা শিথিল সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করি। আমি তাকে বলেছিলাম, আমার জনসাধারণের নিকট ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমি আপনাকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারি না। এখন আমি বলতে চাই- জনাব ভুট্টো সাহেব আপনারা শান্তিতে থাকুন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এখন যদি কেউ বাংলাদেশের স্বাধীনতা হরণ করতে চায়, তাহলে সে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য মুজিব সর্বপ্রথম তার প্রাণ দেবে।’
অগণিত জনতার মাঝে সভা মঞ্চে মুজিব দাঁড়ানোর পর আওয়ামী লীগের একজন কর্মী চিৎকার দিয়ে অন্যান্য স্লোগানের সঙ্গে বলেন, ‘দেশে এলো নতুন বাদ।’ জনতা বিষয়টি বুঝতে না পারায় স্লোগানদাতা উপস্থিত সবাইকে শিখিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি যখন বলবো দেশে এলো নতুন বাদ, আপনারা সবাই তখন বলবেন, মুজিব বাদ মুজিববাদ।’ এই বলে তিনি সেøাগান ধরলে সবাই মুজিববাদের কথা শিখলো। এক ব্যক্তির নামানুসারে এই মুজিববাদ আদর্শই পরবর্তীতে বাকশালরূপে রূপান্তরিত হয়েছিল।
শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কয়েকদিন পরে ঢাকার পত্রিকা মওলানা ভাসানীকে নিয়ে নানা ধরনের লেখালেখি শুরু করে। তখন সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবের আগ্রহে এবং উদ্যোগেই ভারত সরকার মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করেন। তখন তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো ছিল না। ডিসেম্বরে যুদ্ধ চলাকালীন তিনি দিল্লীর অলইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভারত থেকে দেশে ফেরার পূর্বে তিনি আসাম যান। সেখানে তার পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করার অনুমতি চেয়েছিলেন ভারত সরকারের কাছে। ভারত সরকার তাতে সম্মত হয়। ২১ জানুয়ারি আসামের ফরিদগঞ্জে তিনি এক জনসভায় ভাষণ দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস তিনি তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানী বর্বরতার ও ২৩ বছরের শোষণের একটি চিত্র দেন।
মওলানা ভাসানী ১০ জানুয়ারিতে প্রদত্ত শেখ মুজিবের ভাষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে একটা সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভুট্টো শেখ মুজিবকে অনুরোধ জানিয়েছেন। আমি ভুট্টোকে একথাই শুধু বলতে চাই যে, বর্তমানে যে এটা শুধু অসম্ভব তাই নয়, আগামী শত শত বছরেও তা সম্ভব নয়। বর্বর পাকিস্তানীদের অত্যাচারের কথা বাংলাদেশের মানুষ কোনোকালেই ভুলবে না।’ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও তার দল এবং অন্যান্য দলের নেতাদের প্রতিও মওলানা ভাসানী শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ এই হৃদয়বান মহিলার (ইন্দিরা গান্ধীর) কথা এবং ভারতের জনগণের সাহায্য-সহযোগিতার কথা কোনোদিন ভুলবেন না। ভারতের মতো বাংলাদেশও ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়ে বিশ্ব সভায় স্থান করে নেবে বলে আমি আশা করি।’
২২ জানুয়ারি মওলানা ভাসানী মেঘালয় থেকে ভারত সরকারের একটি জিপে করে বাংলাদেশের হালুয়াঘাট পৌঁছান। তার সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন চিকিৎসক ছিলেন। হালুয়াঘাটে তাকে ছোটখাটো অভ্যর্থনা জানান ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক খসরুজ্জামান চৌধুরী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও তার ভক্তম-লী। সড়কপথে ক্লান্তদেহে তিনি শেষরাতে পৌঁছেন টাঙ্গাইল। রাতে সার্কিট হাউসেই তিনি রইলেন, কারণ মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সন্তোষে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল। পরদিন সকালে মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ন্যাপসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা তাকে দেখতে সমবেত হলেন সার্কিট হাউসে।
দেখতে দেখতে অসংখ্য লোক জড় হলো, ছোটখাটো একটা জনসমাবেশ যেন। ফুটপাতের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে নাতিদীর্ঘ ভাষণ দিলেন তিনি, বহুদিন পর টাঙ্গাইলবাসী শুনলেন তাদের পরিচিত কণ্ঠস্বর। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার, যা এখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তা একটি বৈধ সরকার।’ দেশ গঠনের কাজে এই সরকারকে সমর্থন দেয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর টাঙ্গাইল থেকে গেলেন তিনি সন্তোষ। তার পোড়া ভিটেয় গিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলেন সব, কোথায় কি ছিল তা শনাক্ত করলেন। তার যেসব প্রিয় জিনিস খোয়া গেছে, সেগুলোর জন্য আফসোস করলেন। তার গভীর অথচ চাপা দীর্ঘনিশ্বাস গোপন থাকলো না উপস্থিত শ্রোতাদের কাছে।
ভারতে নজরবন্দি থাকা অবস্থায়ও ইন্দিরা-সরকার তাকে একজন মহান জাতীয় নেতার মর্যাদা ও সম্মান দিয়েই গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন। তাকে নজরবন্দি করে রাখলেও ভারত সরকার তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে যখন যা প্রয়োজন সেদিকে দৃষ্টি রেখেছেন। অর্থাৎ বিদেশী সরকারের কাছে পেলেন জাতীয় নেতার মর্যাদা, পক্ষান্তরে নিজের দেশে প্রত্যাবর্তন করে তার সহকর্মী ও প্রিয়জনদের দ্বারা গঠিত সরকার থেকে পেলেন শীতল অবহেলা। যেন ভারতে আশ্রয় গ্রহণকারী এক কোটি শরণার্থীর একজন হয়েই দেশে ফিরলেন মওলানা ভাসানী। প্রত্যাবর্তনের দুইদিন পর স্বাধীন দেশে প্রথম সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার।
শেখ মুজিবকে তিনি সন্তানতুল্য জ্ঞান করতেন। শেখ মুজিবও ভাসানীকে পিতার মতোই শ্রদ্ধা করতেন। উভয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান থাকলেও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক বরাবর ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। শেখ মুজিবের রাজনৈতিক জীবনের সূচনাও হয়েছিল মওলানা ভাসানীর সহচার্যে। তার উষ্ণ সহযোগিতার ফলেই কার্যত শেখ মুজিব তার রাজনৈতিক জীবনের শীর্ষে আরোহন করেছেন। মওলানা ভাসানী শেখ মুজিবের তীব্র সমালোচনা করতেও কোনো সময় দ্বিধান্বিত হননি। স্বাধীনতার পর আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধেও মওলানা ভাসানীই প্রথম সোচ্চার হয়েছিলেন। সরকার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের সম্প্রসারণবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তোলা ছিল মওলানা ভাসানীর অবিস্মরণীয় অবদান। এই সংগ্রামের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বৃদ্ধ বয়সেও মওলানা ভাসানীকে নির্যাতিত হতে হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি অনশন করেছেন এবং আওয়ামী সরকার তাকে গ্রেফতার ও গৃহবন্দি করেছে।
দেশের মানুষ চেয়েছিল শেখ মুজিব আসলে বছর বছর ধরে অধিকার বঞ্চিত সকল কাহিনীর পরিসমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু দেখা গেল মুজিববাদ কায়েমের জন্য একপক্ষ মুজিবের চারপাশে তোষামুদিতে ব্যস্ত থাকলো, অপরদিকে মুজিবনগর সরকারের আমল থেকে বিরাজমান কোন্দলের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে কোন্দলপন্থীরা দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ ও ঐক্যবদ্ধ না থেকে পূর্বের এবং চলমান কোন্দলকে তীব্র হতে তীব্রতর করলো। শেষ পর্যন্ত তাদের এই কোন্দল পরিসমাপ্তির জন্য শর্ত হিসেবে যোগ হলো ক্ষমতায় ভাগ দেয়ার প্রশ্ন। অক্ষম শেখ মুজিব তাদের শর্তের প্রতি সায় দিয়ে কাউকে মন্ত্রিত্ব, দলীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ, ব্যবসার সুযোগ প্রভৃতি প্রদান করেও দলের সংহতি টিকিয়ে রাখা এবং কোন্দলমুক্ত করতে পারলেন না।
দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে মওলানা ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সব কমিটি বাতিল করে সর্বত্র এডহক কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। ন্যাপের যেসকল স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যারা নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা তৈরি করেন এবং ন্যাপের নেতা-কর্মী-সমর্থক যাহারা হানাদার বাহিনীর সহযোগিতা করছে তাদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২ তার সভাপতিত্বে সন্তোষে দলের নির্বাহী পরিষেদের এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়; স্বাধীন দেশে সেটাই প্রথম সভা।
হককথা প্রকাশিত হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২-এ। প্রকাশক ও পৃষ্ঠপোষক মওলানা ভাসানী হককথার সম্পাদনার দায়িত্ব অর্পণ করেন সৈয়দ ইরফানুল বারীর ওপর। শান্তি প্রেস, সন্তোষ, টাঙ্গাইলের ঠিকানায় হক কথার ডিক্লারেশন নেয়া হয়েছিল। প্রথম থেকেই এটি ছাপানোর সামগ্রিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন কবি বুলবুল খান মাহবুব। সদর সড়ক, টাঙ্গাইলে অবস্থিত কল্লোল প্রেস থেকেই মূদ্রিত হতে থাকে হক কথা। প্রথম সংখ্যাতেই আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ করা হয়।
স্বাধীনতার পরপরই মওলানা ভাসানী যেমন সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন, তেমনি তার বিরুদ্ধেও এক শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা (বাংলাদেশের ও পশ্চিবঙ্গের) কুৎসা রটাতে থাকে। নিরপেক্ষভাবে দেখলে দুদিকেই কিছু বাড়াবাড়ি হচ্ছিলো। স্বাধীনতার অল্পকাল পরে সকলেই উচিত ছিল সংযম প্রদর্শন করা তখনকার যে কোনো উদ্যোগই জাতীয় ঐকমত্য ও সম্মিলিতভাবে গৃহীত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু অতি দ্রুত সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যেতে থাকে। ভাসানীর মতো প্রবীণ ও পরীক্ষিত জননেতা হলেন নির্দয়ভাবে আক্রান্ত ও তাচ্ছিল্যের শিকার। টাঙ্গাইলের আসাদ নগর থেকে ২৪ মার্চ ১৯৭২ শুক্রবার সকালে ঢাকা আগমণের পর দুপুরে স্থানীয় পূর্বাণী হোটেলে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে মওলানা ভাসানী বলেন, ‘দেশের শত্রু, বিশ্বাসঘাতক মার্কিনীদের দালাল সিআইএ’র এজেন্ট এমনকি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী, ষড়যন্ত্রকারী বলে পত্রিকা বিশেষে আমার বিরুদ্ধে কুৎসা ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। জীবনের শেষ মুহূর্তে এর চেয়ে মর্মান্তিক পরিহাস আর কি হতে পারে? এখন আমার এদেশ থেকে হিজরত করাই শ্রেয়।’
তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য মোজাফফর গ্রুপ ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান তার সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন যে, তিনি (ভাসানী) কেমন।’ তিনি বলেন, ‘এর জন্য দায়ী মস্কোপন্থীরা।’ তাদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে মওলানা বলেন, ‘মওলানা ভাসানী এখনো মরেনি। সাবধান, আমি মাঠে নামলে সব ভেসে যাবে।’ মওলানা ভাসানী বলেন, তার সাপ্তাহিক পত্রিকা হককথাতে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সার্বিকভাবে তুলে ধরায়ই তার বিরুদ্ধে একটি অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মওলানা ভাসানী বলেন, ‘আমি কখনো ধ্বংসাত্মক সমালোচনা করি না, সবসময়ই সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করি।’
সেসময় আর যেসকল দল শ্রমিক, ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠন সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে ছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় লীগ (অলি আহাদ), জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন, পূর্ববাংলা জাতীয় মুক্তি ফ্রন্ট (সিরাজ সিকদার), পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মা-লে), বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (দেবেন), কমিউনিস্ট পার্টি (তোয়াহা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (অমল সেন), সমাজতান্ত্রিক কর্মী শিবির (বজলুস সাত্তার, সুধারামী, প্রেম রঞ্জন), পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি (মা-লে), বাংলাদেশ জনমুক্তি পার্টি, পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি (সিরাজ), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (মনিরুল হক চৌধুরী-মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (মান্না), ফরওয়ার্ড স্টুডেন্ট ব্লক, বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজবাদী ছাত্র জোট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন (তিন গ্রুপ), ইয়ুথ ফ্রন্ট ফার ন্যাশনাল লিবারেশন, সংগ্রামী ছাত্র সমাজ, বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলা শ্রমিক ফেডারেশন (জাফর-রনো), বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন (বাশার-সিরাজ), বাংলা মজদুর ফেডারেশন (দেওয়ান) প্রভৃতি।
এদেশের রাজনীতিবিদদের সেকালের মুখ্য বক্তৃতার মঞ্চ ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসমুদ্রে স্বাধীন বাংলাদেশে মওলানা ভাসানী প্রথম ভাষণ দেন ১৯৭২ সালের ২ এপ্রিল। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সাধারণত বৃষ্টি হয় না, কিন্তু সেদিন কালবোশেখি যথাসময়ে বেশ আগেই এসেছিল। কথিত আছে যে, ভাসানীর জনসভার দিন কমবেশী বৃষ্টি নাকি প্রায় অবধারিতভাবে বর্ষিত হতো। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, কালবোশেখির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ‘বিপুল করতালি’ এবং ‘স্বাধীনতার প্রথমপ্রবক্তা মওলানা ভাসানী জিন্দাবাদ’ ধ্বনির মধ্যে বৃদ্ধ লোকনায়ক বিকাল সোয়া ৪টায় মাইকের সামনে দাঁড়ান। মওলানা ভাসানী যখন বক্তৃতা শুরু করেন তখন আকাশ ছিল ঘনঘোর অন্ধকারে সমাচ্ছন্ন। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় বর্ষণ। বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিজেই লাখো জনতার উদ্দেশে তিনি বক্তৃতা করতে থাকেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টির জন্য এই অনলবর্ষী বাগ্মী মাত্র ৭ মিনিট বক্তৃতা দিয়ে থামতে বাধ্য হন। সেই ৭ মিনিটেই অতীত পর্যালোচনা করে দেশের রাজনীতিতে যে আগুন ছড়িয়ে দিলেন তা অনির্বাণ থাকলো বহুদিন পর্যন্ত।
শাসনতন্ত্রের মতো একটি স্থায়ী এবং সকল জনগণের জন্যে প্রণীত একটি দলিল একদলীয়ভাবে যাতে রচিত না হয় যেজন্য ভাসানী সরকারের ওপর চাপ দেন। ১৯৭২-এর ৩ সেপ্টেম্বর তিনি এ সম্পর্কে ঢাকায় এক বিরাট শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন। আগে তিনি জাতীয় সরকারের কথা বলেননি, এবার তিনি একটি ‘সর্বদলীয় জাতীয় সরকার’ গঠন করে সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানান। তিনি একটি ২০-দফা কর্মসূচিও পেশ করেন। শাসনতন্ত্রে সকল শ্রেণীর মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য তিনি ছাত্রযুবক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, আইনজীবী প্রভৃতি সকল পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘শাসনতন্ত্র বিষয়ক সম্মেলন’ অনুষ্ঠানেরও প্রস্তাব দেন যার প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান।
যে কথাটি জানতে দেশী-বিদেশী সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী মওলানা ভাসানীকে বিগত চার মাস যাবত নানা প্রশ্নে ব্যতিব্যস্ত করেছেন ৭ মে ১৯৭২ ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত জনসভায় ভাষণদানকালে ব্যাখ্যা না করে বললেও তিনি কিছুটা ইঙ্গিত দিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থীদের পিছু হটিয়ে রাখতে ভারতীয় শাসক গোষ্ঠীর ভূমিকা বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে বহুল আলোচিত। ভারতে মওলানা ভাসানী কোথায়, কেন ছিলেন- এ প্রশ্নের জবাব পেতে বহু লক্ষ লোক উদগ্রীব তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। মওলানা ভাসানী চারটি মাসের মধ্যে ইঙ্গিতেও রহস্যটি উদ্ঘাটন করেননি। কিন্তু ময়মনসিংহের জনসভায় তিনি উন্মোচনের প্রথম পরিচ্ছদ শেষ করেন।
মওলানা বলেছেন, ‘আমি সেদিন ভারতে বন্দি।’ প্রসঙ্গটি এসেছিল মস্কোপন্থী নেতাদের ‘বিশেষ বক্তব্যে।’ স্বাধীনতা আন্দোলনে সব ত্যাগ নাকি তারাই করেছেন। মওলানা বললেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে ত্যাগ করেছে বাংলাদেশের কৃষক-মজুর শ্রেণী। মুক্তিবাহিনীকে তারা নিজের খাবার দিয়েছে। সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকি নিয়েও আশ্রয় দিয়েছে। আজ মুক্তিবাহিনী যেমনি লাঞ্ছিত-বঞ্চিত, কৃষক-মজুরের বাঁচার দাবিও উপেক্ষিত।’
মওলানা ভাসানী বললেন, ‘তাই বলি না, আমি এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমি সেদিন ভারতে বন্দি। মুজিব সেদিন পিন্ডিতে বন্দি। কিন্তু মোজাফফর-মনি সিং মুক্ত অবস্থায় ভারতে বিচরণ করে বেড়ালেও একদিনের জন্যও মাতৃভূমিতে আসে নাই। আমি কেন আসতে পারলাম না আমার চেয়ে ইন্দিরা সরকারই ভালো জানেন। তাই সবাইকে সবুর করতে বলি, সময় আসলে ভাসানীর দরকার হবে না। এদেশের মানুষ রায় দেবে স্বাধীনতা সংগ্রামে কার অবদান কত? সভা শেষে এক সাংবাদিক মওলানা সাহেবকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এতদিন বলেননি কেন ভারতে বন্দি ছিলেন।’ জবাবে মওলানা ভাসানী বললেন, ‘আমি জানি একটি বৃহৎ জনতা এতে ক্ষুব্ধ হবে এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীতে গোড়াতেই ফাটল ধরে যাবে। তা ঠেকাতেই চুপ ছিলাম। বুঝি না, কেন মস্কোওয়ালার কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের করছে।’ বরাবরের মতো ময়মনসিংহের ভাষণেও মওলানা ভাসানী প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানকে তার দলীয় আবর্জনা, লুটপাট সমিতি এবং মস্কোপন্থী বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারীদের সম্পর্কে সাবধান হতে বলেন। তিনি বলেন, মুজিব তুমি জেনে রেখো, মস্কোপন্থীরা নয়; বরং বুড়ো ভাসানীই তোমার বন্ধু। কারণ মস্কোওয়ালারা লুটপাট সমিতির জোগান দিয়ে তোমাকে অজনপ্রিয় করছে।
আর আমি পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছি। আমার লড়াই শোষক শ্রেণী, ঘুষখোর, চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে। আমি দুর্নীতি স্বজন-প্রীতির উৎখাত চাই। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী অটুট রাখতেই আমি অসাধ্য এবং শোষক মাড়োয়াড়ীর বিরুদ্ধে কথা বলছি। তুমি মুজিব এক যুগ ক্ষমতায় থাক, আপত্তি নাই। কিন্তু মনে রেখ স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখলেই শুধু চলবে না। সাড়ে ৭ কোটি বাঙ্গালীকে সমভাবে খাওয়াতে-পড়াতে হবে।’ (সাপ্তাহিক হক কথা ১২ মে ১৯৭২)
১৯৭২ সালের ২০ জুন মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের কল্লোল প্রেসে কর্মরত অবস্থায় পুলিশ গ্রেফতার করে হককথার সম্পাদক সৈয়দ ইরফানুল বারী। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল এবং ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রথমবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশে সত্য প্রকাশের দায়ে একজন সম্পাদককে গ্রেফতার করে ঝুলিয়ে দেয়া হয় মিথ্যা মামলায়। ২৩ জুন প্রকাশিত হককথার সপ্তদশ সংখ্যায় লিড নিউজ হয়- ‘মুজিববাদী গণতন্ত্রের নগ্ন হামলা : হককথা সম্পাদক গ্রেফতার।’ বলা হয়-
‘সভা ও মিছিলে বিক্ষোভ প্রতিবাদ
উচ্ছেদ করো ফ্যাসিবাদী বুনিয়াদ
পদাঘাতে ভাঙো শোষকের কারাগার
হককথা আজ প্রত্যেক জনতার।
২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২, ৩০তম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর প্রেসের ওপর নেমে আসে সরকারি খড়গ। সঙ্গে সঙ্গে শেখ মুজিবের সরকার বাতিল করে দেয় হককথার ডিক্লারেশন। ৩০তম সংখ্যা ছিল সাপ্তাহিক হককথার শেষ সংখ্যা। এই সংখ্যায় প্রথম লিড ছিলÑ ‘ঠক কে তাজুদ্দিন সাহেব-জনগণ-নয় আপনারা? সেই গোপন ৭টি চুক্তি’।
এসময় অনেক মন্ত্রী বলগাহীন ভাষ্য দিয়ে মওলানা ভাসানীকে আক্রমণ করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য টাঙ্গাইলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মান্নান। তিনি টাঙ্গাইলের প্রতিটি জনসভায় মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে কটাক্ষমূলক বক্তব্য করতেন। এমনকি অন্য নেতারাও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পথ অনুসরণ করে ন্যক্কারজনক কায়দায় বক্তৃতা-বিবৃতি দিতেন যা সুস্থ মানুষের পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যেতো। মওলানা ভাসানী একবার উত্তেজিত হয়ে কটাক্ষ শুরু করার গুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর টাঙ্গাইলের বাসভবন পুড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দিলে মন্ত্রী অবস্থা বেগতিক দেখে মওলানার প্রিয়পাত্র শেখ মুজিবকে ঘটনার বিবরণ অবগত করেন। শেখ মুজিব কোনো কিছু পরামর্শ না দিয়ে ব্যাপারটিকে তেমন আমল দেননি। এই আমল না দেয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ তার জনৈক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির নিকট মন্তব্য করেছিলেন, ‘মান্নান সাহেব যাতে মওলানা ভাসানীর ধাক্কায় মুষড়ে পড়েন শেখ সাহেব তা চান।’
এ থেকে বুঝা যায় যে, পুরো নাটকের পেছনে ছিল শেখ মুজিব কর্তৃক তার বেয়াড়া সহকর্মীদের অদ্ভুদ কায়দায় শায়েস্তা করার কৌশল। অর্থাৎ তিনি নিজে কিছু না বলে অন্যকে দিয়ে বলানো। অবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের বল্গাহীন ভাষ্যের জন্য মওলানা ভাসানীর বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে এ যাত্রা রক্ষা পান। মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে এই সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষোদগারের প্রথম কারণ ছিল তার নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অগ্রযাত্রা। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন নিয়ে ১৯৭২-এর প্রথম থেকেই বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছিল। অবশেষে ৩১ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কৃষক শ্রমিক মৈত্রী সমাবেশে’ উপস্থাপনের জন্য একটি দাবিনামার খসড়া তৈরি হয়। খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ২৯ ডিসেম্বর মওলানা ভাসানী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ন্যাপের দফতরে বিরোধী রাজনৈতিক দল, গণ ও শ্রেণী গঠনের সাথে এক সর্বদলীয় বৈঠকে মিলিত হন। উক্ত সভায় সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ ছিল- ১. বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, ২. বাংলাদেশ জাতীয় লীগ, ৩. বাংলা জাতীয় লীগ, ৪. বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী), ৫. বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি, ৬. শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী পার্টি, ৭. বাংলা শ্রমিক ফেডারেশন, ৮. বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন, ৯. বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন, ১০. ফরওয়ার্ড স্টুডেন্টস ব্লক, ১১. বাংলা ছাত্র লীগ, ১২. বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, ১৩. বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশন, ১৪. বাংলা মজদুর ফেডারেশন, ১৫. বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক পরিষদ, ১৬. সমাজবাদী ছাত্র জোট, ১৭. গণতান্ত্রিক যুব লীগ, ১৮. বাংলাদেশ সোশ্যালিস্ট পার্টি, ১৯. নিখিল বাংলা জোয়ান কর্মী শিবির, ২০. নিখিল বঙ্গ ঈমাম ও মুসল্লী কমিটি, ২১. পাকিস্তানে আটক বাঙ্গালী উদ্ধার সমিতি, ২২. ক্রান্তি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, ২৩. উন্মেষ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদ, ২৪. সৃজনী লেখক ও শিল্প গোষ্ঠী এবং ২৫. গণশিল্প গোষ্ঠী।
শেখ মুজিব ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। যদিও বিরোধী দলগুলো তখনও ভালোমতো সংগঠিত হয়ে উঠতে পারেনি তবু নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সকল বিরোধী দল সরকারকে নির্বাচনী যুদ্ধে মোকাবিলা করার কথা ঘোষণা করে। নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দেয় আওয়ামী লীগ। অন্যান্য দলের মধ্যে জাসদ ২৩৭, ন্যাপ (ভাসানী) ১৭০, ন্যাপ (মোজাফফর) ২২৪, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ৪ এবং বাংলাদেশের জাতীয় লীগ, বাংলা জাতীয় লীগ, বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি, কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল, কংগ্রেস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (লেনিনবাদী), বাংলা ছাত্র ইউয়িন প্রভৃতি কিছু কিছু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ