ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে তাপস নিহতের জেরে মূল ফটকে তালা।। ভিসি অবরুদ্ধ

চট্টগ্রাম অফিস ও চবি সংবাদদাতা--চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাএলীগের দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এক ছাএলীগ কর্মী নিহত হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।অতিরিক্ত পুলিশ ক্যাম্পাসে মোতায়েন আছে। প্রক্টরের পদত্যাগের দাবীতে  বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ কার্যালয়ে ভিসিকে  অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।শাহজালাল হল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৬৫ জনকে আসামী করে হাটহাজারী থানায় মামলা হয়েছে।
ভিসি অবরুদ্ধ -চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে ভিসিকে  অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রলীগের এক পক্ষের নেতা-কর্মীরা। গতকাল  সোমবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। দাবি আদায় না হওযা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেযার) পক্ষের নেতা-কর্মীরা।গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ ভিএক্স(ভার্সিটি এক্সপ্রেস) ও সিএফসির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শিক্ষার্থী তাপস সরকার। তিনি সিএফসিপক্ষের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। দুই পক্ষই নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রশাসন ভবনে ভিসির দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ছাত্রলীগের সিএফসি (চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার) পক্ষের নেতা-কর্মীরা। প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, সিএফসির কর্মী তাপস সরকার নিহত হওযার ঘটনায পুলিশ তাঁদের মামলা নেয়নি। রোববারের ঘটনায় প্রক্টর সিরাজউদ্দৌল্লার সরাসরি মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিএফসির নেতা-কর্মীরা। তাঁরা প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পরে তাঁরা ভিসির দপ্তরের প্রবেশমুখের চারটি দরজায় অবস্থান নেন। দপ্তরের ভেতরে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভেতর থেকে কেউ বাইরেও যেতে পারছেন না।সিএফসির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন মামুন জানান, তাঁদের দাবি আদায় না হওযা পর্যন্ত ভিসি  অধ্যাপক আনোযারুল আজিম আরিফকে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে। বেলা দেড়টার দিকে সিএফসির কর্মীরা পাথর ছুড়ে প্রশাসনিক ভবনের নিচতলার জানালার দুটি কাঁচ ভেঙে দিয়েছেন।এর আগে বিশ্ববিদ্যালযরে জিরো পয়েন্টে থেকে মিছিল নিয়ে এসে দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালযরে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন সিএফসির নেতা-কর্মীরা। সিএফসির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন মামুনের মতে, তাঁদের এক ছেলে নির্মমভাবে খুন হওয়ার পরও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এ ঘটনার প্রত্যক্ষ মদদদাতা প্রক্টর সিরাজউদ্দৌল্লার পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করে যাবেন তাঁরা।
হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল  জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।  আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
চবির মুল ফটকে ছাএলীগের তালা-তাপস সরকারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ।  সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা লাগায় ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন সিএফসি’র নেতাকর্মীরা।চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন জানান, তাপস হত্যার ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও এখনো পর্যন্ত মূল হোতা আশাকে গ্রেপ্তার করা হয় নি।  পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে ও প্রক্টর পদত্যাগ না করলে কঠোর আন্দোলন কর্মসিূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান
তদন্ত কমিটি গঠন-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার নিহতের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ড.খান তৌহিদ ওসমানকে প্রধান ও সহকারী প্রক্টর অরুপ বড়–য়াকে সদস্য সচিব করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আবুল হোসাইন, শহীদ আব্দুর রব হলের প্রভোষ্ট রাশেদ-উন নবী ও এ এফ রহমান হলের প্রভোষ্ট এস এম মনিরুল হাসান। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।ররিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক জরুরী যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চবি ভিসি প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে রোববার সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এ সভা চলে।সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চালু রাখা হবে। অল্প কিছু শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া যায় না। ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও পুলিশ প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিজেদের মতো করে ব্যবস্থা নেবে, আমাদের যা করার আছে আমরা তা করবো।ভিসি  বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণ করে কোন সমস্যার সমাধান হবে না। তাই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্যাম্পাস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার হত্যাকা- বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির মদদপুষ্টরাই করেছে, সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীদের এ অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ভিসি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক।  সব শিক্ষার্থীই আমার সন্তানের মতো।  কারো প্রতি আমার পক্ষপাতিত্ব থাকার প্রশ্নই আসে না।একটি চক্র আমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও ভিসির  মধ্যস্থতায় সমঝোতার পরও কিভাবে ধরণের হত্যাকা- ঘটলো জানতে চাইলে অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, বিষয়টা রাজনৈতিক সমস্যা। কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা তারাই ভালো জানে।তিনি বলেন, কিছু সমঝোতা হয় মনের মিলে, আর কিছু আরোপিত। আরোপিত সমঝোতা তো কখনো টিকে না।এসময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সিরাজ উদ দৌল্লা, রেজিস্ট্রার আলমগীর চৌধুরী এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও হল প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।এদিকে শাহজালাল হলের যে সকল কক্ষ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে সে কক্ষ গুলো সিল গালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজ-উদ দৌল্লাহ।
শাহজালাল হল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, আসামি ৬৫-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বগি ভিত্তিক সংগঠন ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) গ্রুপ নিয়ন্ত্রিত শাহজালাল হল থেকে দুটি পিস্তল সহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।রোববার রাতে হাটহাজারী থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।মামলায় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির উপ সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান আশা ও ভিএক্সএর নেতা রাশেদ হোছাইন, মোঃ আনিসুজ্জামান, রুবেল দে ও রায়হান আবিদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন ।হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর শাহজালাল হলে তল্লাশী চালিয়ে ২টি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, ২০টি রামদা এবং অন্তত ২০ টি লোহার রড ও চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত সংষ্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকারের স্মরণে শোক সভা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংষ্কৃত বিভাগ। সোমবার দুপুরে সংষ্কৃত বিভাগ মিলনায়তনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সংষ্কৃত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ শোকসভার আয়োজন করে।  সংষ্কৃত বিভাগের অধ্যাপক ড. সুপ্তিকণা মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোকসভায় শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি ভিক্ষু, সহকারী অধ্যাপক ড. জ্ঞানরতœ থের, সহকারী অধ্যাপক শিপক কৃষ্ণ দেবনাথ, প্রভাষক রাজপতি দাশ। সংষ্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দন কুমার দে’র সঞ্চালনায় শোকসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষার্থী ধনরঞ্জন ত্রিপুরা, ছোটন দে, অপু পাল, রাজিয়া সুলতানা লিজা, অমিত পাল, হাফিজুর রহমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ