ঢাকা, রোববার 26 May 2019, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানের একটি স্কুলে ভয়াবহ তালেবান হামলায় শিশুসহ নিহত ১২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে সেনবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে আজ মঙ্গলবার তালেবান হামলায় অন্তত ১২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন শিশু রয়েছে। জিম্মি করা হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

পাঁচ থেকে ছয়জন জঙ্গি সামরিক পোশাকে পেশোয়ারের আর্মি পাবলিক স্কুলে প্রবেশ করে এবং ৫০০ এর অধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকে জিম্মি করে ফেলে। স্কুলটিতে এ সময় পরীক্ষা চলছিল।। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী স্কুলের দিকে অগ্রসর হলে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলছে, শিক্ষার্থীর একটি বড় অংশকে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ঠিক কতোজন শিক্ষক-শিক্ষার্থী জঙ্গিদের হাতে জিম্মি, তা নিশ্চিত করা যায়নি। 

খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের চিফ মিনিস্টার কে পি পারভেজ খাটকের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন এর অনলাইন সংস্করণে জানানো হয়েছে, নিহত ১০৪ জনের মধ্যে অন্তত ৮৪জন শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন বলেছেন, স্কুলের ভেতরে এলোমেলোভাবে লাশ পড়ে আছে।

স্কুলের একজন কর্মীর বরাত দিয়ে পাকিস্তানের জিও টিভির খবরে বলা হয়, দুপুরে আগে জঙ্গিরা যখন স্কুলে প্রবেশ করে তখন স্কুলের মিলনায়তনে সেনাবাহিনীর একটি দল শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল।  

প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানায়, গোলাগুলি শুরু হতেই শিক্ষকরা তাদের শুয়ে পড়তে বলেন। পরে সেনাবাহিনীর লোকজন তাদের বের করে আনে।

বেরিয়ে আসার সময় বরান্দায় সহপাঠীদের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখার কথাও জানিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। 

স্কুলটির বাস চালক জামশেদ খান বলেন, ‘আমরা স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হলে আর্ত চিৎকার ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়।’

তালেবানের একজন মুখপাত্র বলছেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তান ও খাইবার উপত্যকায় সামরিক বাহিনীর অভিযানের জবাবেই তাদের এই হামলা। 

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মুখপাত্র মুহাম্মদ খোরাসানি এক বিবৃতিতে বলেন, ছয়জন তালেবান যোদ্ধা এই হামলায় অংশ নিয়েছেন। এদের মধ্যে স্নাইপার ও আত্মঘাতী হামলাকারীও আছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে ওই দুটি এলাকায় জঙ্গি দমনে সেনা অভিযানে কয়েক হাজার তালেবান নিহত হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ