ঢাকা, বৃহস্পতিবার 20 September 2018, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট খুলনাঞ্চল

খুলনা অফিস: স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে খুলনাঞ্চল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিমানযোগে আসা এসব স্বর্ণ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমান বন্দরে প্রায়ই ধরা পড়লেও পাচার হওয়া এসব স্বর্ণের সিংহভাগই খুলনা হয়ে ভারতে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, ঢাকার কিছু ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের বার বিমানযোগে এনে প্রথমে ঢাকার কোন গোপন আস্তানায় রাখে। সেখান থেকে পাচার করা হয় দেশের বাইরে। আর এ পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত ঢাকা-খুলনা ভায়া মাওয়া রুট। প্রাইভেট বা মাইক্রোযোগে ওইসব স্বর্ণের বার সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে ভারতে পাচার হয়। মাঝে-মধ্যে দু’একটি চালান ভোমরা ও বেনাপোল বর্ডারে স্বর্ণ ধরা পড়ে। তবে বেশীর ভাগ চালান পাচার হয়ে যায়।
বাংলাদেশ এবং দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকায় এক শ্রেণীর চোরাকারবারী ইদানীং এ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। স্বর্ণের দামের উল্লেখ করে একটি সূত্র জানায়, যখন দুবাইয়ে প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম বাংলাদেশী টাকায় মাত্র দুই হাজার ৯৬৮ টাকা তখন বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হয় ৪৮ হাজার টাকার উপরে। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে লাভ হয় ১৪ হাজার টাকা।
সূত্রটি আরও জানায়, ঢাকায় স্বর্ণের বার বিক্রি হয় তাঁতি বাজারে। কিন্তু পাঁচ-দশ গ্রাম বার সেখান থেকে কেনা যায় না। কমপক্ষে ১০০ গ্রামের বার কিনতে হয়। তাও যদি কোন বিক্রেতা রাজী হন। কিন্তু তা’ কিনতে গেলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হবে ক্রেতাকে।
স্বর্ণ চোরাচালান সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এগুলো যখন ঢাকা থেকে আনা হয় তখন কিভাবে কোথায় রাখা হয় তা পুলিশসহ কোন সংস্থাই সহজে ধরতে পারবে না। এক কেজি স্বর্ণকে এক গাড়ি বলে ওদের সংকেত থাকে উল্লেখ করে সূত্রগুলো জানায়, এ সংক্রান্ত মোবাইল কথোপকথনের সময় গাড়ি উল্লেখ করায় মোবাইল ট্রাকিং বা অন্য কোন উপায়েও ধরা কঠিন। যে কারণে দিনের পর দিন তারা এ অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ